চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের ম্যাচ সুবিধা করে দেবে বার্সার?
চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের ম্যাচ সুবিধা করে দেবে বার্সার? ছবি: রয়টার্স

লিগ শিরোপা ধরে রাখা যাবে কি না, একদমই নিশ্চিত নয়। গতবারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ এবার পড়ে আছে পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানে। শীর্ষে থাকা নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী আতলেতিকোর সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান এখন ৬। মাদ্রিদের দুই দলের মধ্যে আছে বার্সেলোনাও। রিয়ালের চেয়ে পয়েন্ট ২ বেশি তাদের। গতকাল নিশ্চিত জানা গেছে, চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল মুখোমুখি হবে লিভারপুলের।

চলতি মৌসুমে এই দুই প্রতিযোগিতার শিরোপা জেতারই সম্ভাবনা আছে রিয়ালের। মৌসুমের অন্য প্রতিযোগিতা কোপা দেল রে থেকে বহু আগেই বিদায় নিয়েছে জিনেদিন জিদানের দল।

যে দুই প্রতিযোগিতায় রিয়ালের শিরোপা জেতার সামান্যতম সম্ভাবনা আছে, সে সম্ভাবনাটা আরও বড় হবে, নাকি মুখ থুবড়ে পড়বে, সেটাও নিশ্চিত হয়ে যাবে আগামী মাসের এক সপ্তাহের মধ্যে।

এপ্রিল মাসের ৭ তারিখ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সময়ে ১৪ তারিখ দিবাগত রাত—মোটামুটি এই সাত দিনের মধ্যেই রামোস-বেনজেমারা নিশ্চিত হয়ে যাবেন, এই মৌসুমে আদৌ কোনো শিরোপা ঘরে তুলতে পারবেন কি না। নাকি খালি হাতে ফিরতে হবে বার্নাব্যুতে।

বিজ্ঞাপন

খোলাসা করে বলা যাক। এপ্রিলের সাত তারিখে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে নিজেদের বর্তমান ভেন্যু এস্তাদিও আলফ্রেদো দি স্তেফানোয় ছয়বারের চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী লিভারপুলের মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ। দ্বিতীয় লেগে লিভারপুলের মাঠ অ্যানফিল্ডে খেলতে যাবে ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে।

default-image

অবশ্য করোনা পরিস্থিতি গুরুতর হলে দুই দেশের দুই দল এভাবে ভ্রমণ করার অনুমতি না-ও পেতে পারে। সে ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে হতে পারে দুই ম্যাচ।

এই দুই ম্যাচের মধ্যে রিয়ালের আবার এমন এক ম্যাচ আছে, যে ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে বর্তমান লা লিগা চ্যাম্পিয়নদের লিগভাগ্য। ১০ তারিখ দিবাগত রাতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে লিগের ম্যাচে খেলতে নামবে রিয়াল। বাজবে ‘এল ক্লাসিকো’র দামামা।

তবে রিয়ালের জন্য সুবিধা, তাদের নিজেদের মাঠেই হবে মেসি-রামোসদের দ্বৈরথ।
সে ম্যাচে রিয়াল যদি হেরে যায়, আক্ষরিক অর্থেই লিগের দৌড় থেকে বেশ ভালোভাবে ছিটকে যাবে। লিগ স্বপ্নটাই চূড়ান্তভাবে শেষ হয়ে যাবে।

এই এক সপ্তাহের গ্যাঁড়াকলে পড়ার আগে লিগে রিয়াল মাদ্রিদের আরও দুটি ম্যাচ আছে। আজ রাত সোয়া নয়টায় সেলতা ভিগোর মাঠ বালাইদোসে লিগের ম্যাচ খেলতে যাবে রিয়াল। এক সপ্তাহ পর এইবারের বিপক্ষে লিগে আরেকটি ম্যাচ খেলবে রিয়াল।

default-image

এই দুটি ম্যাচের মধ্যে কোনোটায় যদি পা হড়কায় রামোসদের, সঙ্গে বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচটাতেও যদি হেরে যায়, তাহলে নিশ্চিতভাবেই লিগ শিরোপার সম্ভাবনা উবে যাবে দলটার।

ওদিকে চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের প্রতিপক্ষ লিভারপুলের অবস্থাও যে খুব একটা ভালো, সেটা কিন্তু নয়। রিয়ালের মতো তারাও গতবারের লিগ চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু এবার রিয়ালের মতো তাদেরও অবস্থা তথৈবচ। বরং একটু বেশিই খারাপ বলা চলে।

লিগে ছয় নাম্বারে হাবুডুবু খাচ্ছে তাঁরা। শীর্ষে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান এখনই ২৫। হাতে আছে আর মাত্র নয়টা ম্যাচ। রিয়ালের যদি লিগ শিরোপা জেতার এখনো সামান্যতম সম্ভাবনাও থেকে থাকে, লিভারপুলের সেটাও নেই

বিজ্ঞাপন

কিন্তু, লিগের এই দুরবস্থা লিভারপুলের চ্যাম্পিয়নস লিগের ফর্মে কোনো প্রভাব ফেলছে না। চ্যাম্পিয়নস লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে গতবারের সেমিফাইনালিস্ট জার্মান ক্লাব লাইজিগকে হারিয়েছে ইয়ুর্গেন ক্লপের দল। লিগে জঘন্য খেলা দলটা চ্যাম্পিয়নস লিগেই যেন নিজেদের খুঁজে পাচ্ছে বারবার।

এমনকি গ্রুপ পর্বেও ইতালিয়ান ক্লাব আতালান্তা ও দুই বছর আগের সেমিফাইনালিস্ট আয়াক্সকে হেসেখেলে হারিয়ে এসেছে তাঁরা। আর রিয়ালের কোচ জিনেদিন জিদানের জন্য এটাই হতে পারে চিন্তার বড় কারণ।

৭ ও ১৪ এপ্রিল তারিখে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের লিভারপুলের বিপক্ষে দুই ম্যাচ রিয়ালের। এর মধ্যে ১০ এপ্রিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে লিগে ম্যাচ তাদের।

লিভারপুলের বিপক্ষে প্রথম লেগটা রিয়াল নিজেদের মাঠে খেললেও, গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় লেগটা খেলবে লিভারপুলের মাঠে। আর বছর দুয়েক আগে এমনই এক নকআউট পর্বের দ্বিতীয় লেগে নিজেদের মাঠে রিয়ালের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনাকে রীতিমতো ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে প্রথম লেগে ৩-০ গোলে হারার ক্ষত শুকিয়েছিল ‘অল রেড’রা। পা রেখেছিল চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে।

এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের ষষ্ঠ শিরোপাটা সেবারই জিতেছিলেন সালাহ-ফন ডাইকরা। ফলে দ্বিতীয় লেগে লিভারপুলের মাঠে খেলা রিয়ালের ক্ষেত্রে বেশ ভালো যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তবে রিয়ালের ক্ষেত্রে যে একদমই আশার কথা নেই, তা নয়। বিশ্বব্যাপী চলতে থাকা করোনা মহামারির কারণে ইউরোপে বেশ কড়াকড়িভাবে লকডাউন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

ম্যাচ খেলার জন্য কোনো দলকে যদি এমন কোনো একটা দেশে যেতে হয়, যেখানে দেশে প্রবেশ করামাত্রই বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে, সেসব দেশ থেকে ম্যাচ সরিয়ে নিয়ে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজন করছে উয়েফা।

এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ লিভারপুলই। জার্মানি ও ইংল্যান্ডের কোয়ারেন্টিন বিড়ম্বনা থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় রাউন্ডে নিজেদের ‘হোম’ ও ‘অ্যাওয়ে’ ম্যাচ—দুটিই হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনাতে খেলেছে লিভারপুল। ফলে এবার আক্ষরিক অর্থে নিজেদের মাঠে খেলার সুবিধা না-ও পেতে পারে দলটা।

লিভারপুলের বিপক্ষে দুই ম্যাচের মাঝে বার্সেলোনার বিপক্ষে ক্লাসিকো। বলা যেতেই পারে, বার্সেলোনাকে ‘সুবিধা’ই করে দিচ্ছে লিভারপুল। এখন এই এক সপ্তাহের জন্য রিয়ালের কোচ জিনেদিন জিদান নিজের দলকে কতটুকু উদ্বুদ্ধ করতে পারেন, সেটাই আসলে দেখার বিষয়!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন