default-image

আর্সেনালের কিংবদন্তি ফরাসি মিডফিল্ডার প্যাট্রিক ভিয়েরার অধীনে ক্রিস্ট্যাল প্যালেসের ফুটবল মাঝেমধ্যে মুগ্ধতাই জাগায়। ছোট ছোট পাসের গতিময় ফুটবল প্যালেসের চিরায়ত লম্বা পাসের ফুটবলের ধরনের সঙ্গে যায় না, গুছিয়ে নিতে তাই সময় লাগছে ভিয়েরার। তবে এরই মধ্যে এই মৌসুমে বেশ কিছু ম্যাচে ঝলক দেখিয়েছে প্যালেস।

মৌসুমের শুরুর দিকে লিগে টটেনহামকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে। ম্যানচেস্টার সিটিকে লিগে এক ম্যাচে হারিয়েছে ২-০ গোলে, আর কদিন আগে রুখে দিয়েছে গোলশূন্য ড্রতে। এপ্রিলের শুরুতেই আর্সেনালকেও ৩-০ গোলে হারিয়েছে তারা। কিন্তু আজ সে ফুটবলের ছিটেফোঁটাও ছিল না।

প্রথমার্ধটা হলো ভীষণ ম্যাড়মেড়ে! দেখে মনে হচ্ছিল, দুই দলই চেষ্টা করেছে অকারণে ঝুঁকি না নিতে। চারজনের দুটি রেখায় রক্ষণ সাজানো ক্রিস্টাল প্যালেস যেন বলের দখল চেলসির কাছে রেখেই খুশি, অপেক্ষায় ছিল চেলসির ভুলের সুযোগে পাল্টা আক্রমণের। কিন্তু চেলসি বলের দখল পেলেও প্যালেসের রক্ষণরেখার সামনে এসে হতাশ হয়েছে বারবার।

default-image

ফল? পুরো ৪৫ মিনিটে দুই দল মিলে গোলপোস্টে শট রাখতে পেরেছে একটি! তবে সেটিতে চেলসির বড় পরীক্ষাই নিয়েছে প্যালেস। এবেরিচি এজের ফ্রি-কিকটা চেলসি লেফটব্যাক আলোনসো বিপদমুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু বল ডি বক্সের প্রান্তেই থাকল। পড়ল প্যালেস মিডফিল্ডার শিখু কুয়াতের পায়ে, তাঁর ভলি ঝাঁপিয়ে পড়ে ফেরান চেলসি গোলকিপার মেন্দি, কিন্তু বল এবারেও বক্সে প্যালেস ডিফেন্ডার জোয়াকিম অ্যান্ডারসনের পায়ে পড়ে। ছয় গজ দূর থেকে অ্যান্ডারসনের বারে লেগে ফিরে আসে!

দ্বিতীয়ার্ধে ৬১ মিনিটে কর্নার থেকে কাওয়াতের হেড সাইডনেটে লাগে। তবে এরপরই রক্ষণের পাশাপাশি মন ভাঙে প্যালেসের। নিজেদের ভুল থেকেই গোলটা খেল প্যাট্রিক ভিয়েরার দল!

নিজেদের বক্সের বাইরেই বলের নিয়ন্ত্রণ হারান প্যালেস লেফটব্যাক টাইরিক মিচেল, বল ধরে এগিয়ে গিয়ে কাটব্যাক করেন চেলসি ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজ। ডি বক্সের মাঝে পাস পেয়ে দারুণ ভলিতে বল জালে জড়ান চেলসি মিডফিল্ডার রুবেন লফটাস-চিক। প্রথমার্ধে চোটে পড়া কোভাচিচের বদলি নেমেছিলেন তিনি।

default-image

দ্বিতীয় গোলের অপেক্ষাও বেশিক্ষণ থাকেনি। ৭৬ মিনিটে চেলসির দ্বিতীয় গোলটা ম্যাসন মাউন্টের, তাতে টিমো ভের্নারের অবদানও কম নয়।

প্যালেস বক্সের সামনে বল পেয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখেন ভের্নার, ডিফেন্ডারদের নিজের দিকে টেনে আনেন। এরপর আস্তে পাস বাড়িয়ে দেন বক্সে ছুটতে থাকা মাউন্টের দিকে। প্রথম স্পর্শেই ডিফেন্ডারকে ছিটকে পেরিয়ে যাওয়া মাউন্টের দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল।

গোল যে আরেকটা পায়নি চেলসি, সে দায় রোমেলু লুকাকুর। ৮৯ মিনিটে ভের্নার বল ধরে এগিয়ে গিয়ে পাস বাড়িয়েছিলেন লুকাকুর দিকে, কিন্তু বেলজিয়ান স্ট্রাইকারের প্রথম স্পর্শের শট ফেরে পোস্টে লেগে।

অবশ্য ততক্ষণে ম্যাচের ফল নিয়ে কোনো সংশয়ও আর ছিল না!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন