default-image

এত বৈপরীত্যের মধ্যেই আবাহনী-মোহনবাগান ম্যাচের গায়ে সেঁটে গেছে দুই বাংলার মর্যাদার লড়াইয়ের ট্যাগ। হারলেই বাদ, জিতলে পাওয়া যাবে এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বের টিকিট। কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে আজ ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়।

গত শুক্রবার মোহনবাগানের অধিনায়ক প্রীতম কোটাল প্রথম আলোকে বলছিলেন, ‘আবাহনীকে আমরা দুর্বল দল ভাবছি না।’ তবে ১২ এপ্রিল সল্টলেক স্টেডিয়ামে প্লে–অফের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার ব্লু স্টার ক্লাবকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে প্রীতম-মানভির সিংরা বুঝিয়ে দিয়েছেন, নিজেদের দর্শকের সামনে তাঁরা কতটা ভয়ংকর। আবাহনীকে অবশ্য প্লে–অফের প্রথম ম্যাচটা খেলতেই হয়নি, মালদ্বীপের ক্লাব ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ওয়াকওভার পেয়েছে তারা।

২০১৭ সালের এএফসি কাপে মোহনবাগানের বিপক্ষে সর্বশেষ মুখোমুখি লড়াইয়ে ঘরের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করলেও কলকাতায় ৩-১ গোলে হেরেছিল আবাহনী। চার বছর পর আবাহনীর শক্তি গাণিতিক হারে বাড়লেও মোহনবাগানের শক্তি বেড়েছে জ্যামিতিক হারে।

default-image

আই লিগ ছাপিয়ে কলকাতার ক্লাবটি এখন খেলছে সর্বোচ্চ পর্যায়ের আইএসএলে। সম্প্রতি দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি স্প্যানিশ কোচ হুয়ান ফার্নান্দো। তাঁর অধীন ১৮ ম্যাচ খেলে ১০ জয় ও ৬ ড্রয়ের বিপরীতে মোহনবাগানের হার মাত্র ২টি।

স্প্যানিশ হুয়ানের বিপক্ষে লড়াইয়ের জন্য আবাহনীর কোচ মারিও লেমোসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হতে পারতেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার দরিয়েলতন গোমেজ। কিন্তু চোটের কারণে তাঁকে না পাওয়াটা একরকম নিশ্চিতই বলা যায়।

তাঁর জায়গায় আবাহনীর জার্সিতে অভিষেক হতে পারে স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘ থেকে নেওয়া বসনিয়ার স্ট্রাইকার নেদো তুর্কোবিচের। চোট ও নিষেধাজ্ঞার খড়্গে রাইটব্যাক পজিশন নিয়ে তো আরও জেরবার অবস্থা! সেখানে খেলানো হতে পারে ফরোয়ার্ড মেহেদী হাসানকে।

মারিও লেমোস অবশ্য এর কোনো কিছুকেই অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাচ্ছেন না। ২০১৯ সালে আবাহনীকে এএফসি কাপের সেমিফাইনালে তুলে ইতিহাস গড়া কোচ কাল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘ম্যাচটি ফিফটি-ফিফটি, ফাইনালের মতো। এটি জেতার জন্য সবকিছুই করতে রাজি আমরা। মোহনবাগান অবশ্যই ভালো দল। তাদের হারাতে হলে সেরা খেলাটাই খেলতে হবে।’

আজ লেমোসের তুরুপের তাস হতে পারেন বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে খেলা ফরোয়ার্ড দানিয়েল কলিনদ্রেস ও আইএসএলে পাঁচ মৌসুম খেলা ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার রাফায়েল আগুস্তো। প্রায় সাত বছর আগে চেন্নাইয়িন ফুটবল ক্লাবের হয়ে কলকাতার এই স্টেডিয়ামেই গোল করেছিলেন আগুস্তো।

আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা ফিজির স্ট্রাইকার রয় কৃষ্ণার সঙ্গে লিস্টন কোলাসোকে পাচ্ছে না মোহনবাগান। তবে দলে আছেন সর্বশেষ ফিনল্যান্ডের হয়ে ইউরো কাপে খেলা মিডফিল্ডার জনি কাউকো। তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধে মাঝমাঠ থেকে দলের সুর-তাল নিয়ন্ত্রণ করছেন ফরাসি মিডফিল্ডার হুগো বুমোস।

তাঁদের সৃজনশীলতার সৌজন্যেই সর্বশেষ আইএসএলে ৮ হাজার ৮৬২টি পাস খেলেছে মোহনবাগান। অন্য দুই বিদেশি খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ান স্ট্রাইকার ডেভিড উইলিয়ামস ও স্প্যানিশ ডিফেন্ডার তিরি। সঙ্গে আগের ম্যাচে জোড়া গোল করে ভারতীয় জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড মানভির সিংও রীতিমতো উড়ছেন।

default-image

আজ জয়ের ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী মোহনবাগান অধিনায়ক প্রীতম। কাল ম্যাচ–পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘জাতীয় দল বা ক্লাব পর্যায়ে যেখানেই খেলি না কেন, বাংলাদেশ দল বা তাদের ক্লাব আমাদের জন্য সব সময় কঠিন প্রতিপক্ষ। তবে এটি নতুন একটি ম্যাচ। আশা করি আমরাই জিতব।’

সন্দেহ নেই ঘরের মাঠে এগিয়ে থাকবে মোহনবাগানই। তবে নাবিব নেওয়াজ, টুটুল হোসেনরা নিশ্চয় শুনেছেন মোনেম মুন্না, শেখ মোহাম্মদ আসলামদের কলকাতা জয়ের গল্প। পূর্বসূরিদের সেই গল্পই আজ হতে পারে তাঁদের অনুপ্রেরণা।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন