বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

প্রথমার্ধটা ছিল রোলার কোস্টারের মতো। আবাহনী আক্রমণ করছে, পাল্টা আক্রমণে উঠছে সাইফ। গোলের সুযোগ বেশি তৈরি করেছিল আবাহনীই। রাকিব হোসেন ও নাবিব নেওয়াজ একের পর এক গোল মিস না করলে ম্যাচটা নির্ধারিত সময়েই জিতে যায় আবাহনী। তাঁদের সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সাইফ গোলকিপার পাপ্পু হোসেন। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পোস্ট ছেড়ে বের হয়ে এসে বেশির ভাগ সময়েই সফল হয়েছেন এই গোলকিপার।

চোটের কারণে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড দোরিয়েলতন গোমেজকে পাননি আবাহনী কোচ মারিও লেমোস। তাঁর জায়গায় একাদশে খেলেছেন আগের ম্যাচে শেখ জামাল ধানমন্ডির বিপক্ষে জোড়া গোল করা নাবিব। আজ কয়েকটি গোলের সুযোগ নষ্ট করলেন তিনি। ৭৫ মিনিটে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার রাফায়েল অগুস্তো। শেষের দিকে দলকে ভরসা দেওয়ার বাড়তি দায়িত্বটা নিয়েছেন দানিয়েল কলিনদ্রেস। যোগ করা সময়ে গোল করে আবাহনীকে সমতায় ফিরিয়ে ম্যাচ নিয়ে গিয়েছেন অতিরিক্ত সময়ে।

default-image

ম্যাচের শুরুতেই দুর্ভাগ্য পেয়ে বসেছিল সাইফকে। ৪ মিনিটে তাদের সামনে বাধা ক্রসবার। বাঁ প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে এমফোন উদোহর শট নিলে সেটি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।

৪ মিনিট পরই পেনাল্টি পায় আবাহনী লিমিটেড। বক্সের মধ্যে ডিফেন্ডার মনজুর রহমান আবাহনী উইঙ্গার রাকিব হোসেনকে ফাউল করলে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। স্পটকিক থেকে বল জালে জড়ান রাফায়েল অগুস্তো। ১১ মিনিটে গোললাইন থেকে বল ফিরে না এলে ব্যবধান বাড়তে পারত। দানিয়েল কলিনদ্রেসের ক্রস থেকে বক্সের মধ্যে থেকে রাকিব হোসেন শট নেন, গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন সাইফের ডিফেন্ডার এমেরি বাইসেঙ্গে।

১৭ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে সহজ গোলের সুযোগটি নষ্ট করেন রাকিব। রাফায়েলের রক্ষণচেরা থ্রু নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সের মধ্যে দুর্দান্ত গতিতে ঢুকেছিলেন রাকিব। পোস্ট ছেড়ে বের হয়ে এসে জায়গা ছোট করে দেন গোলকিপার পাপ্পু। এমন পরিস্থিতিতে বল জালে পাঠাতে পারলেন না জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ড।

default-image

২০ মিনিটে এমফোন সানডের গোলে সমতায় ফেরে সাইফ। এমেকা ওগবাগের কাটব্যাক থেকে আশরুর গফুরোভের শট গোলকিপার শহিদুল ফিরিয়ে দেন। গোলমুখ থেকে ফিরতি বলে টোকা দিয়ে গোল করেন গফুরোভ।

২৭ মিনিটে সাইফকে বাঁচিয়ে দেন তাদের গোলকিপার পাপ্পু। দানিয়েল কলিনদ্রেসের সঙ্গে দারুণভাবে বল দেওয়া নেওয়া করে বক্সে ঢুকে আলতো টোকা দিয়েছিলেন নাবিব। কিন্তু তাঁর সামনে বাধা পাপ্পু।

গোল মিসের খেসারত দিয়ে প্রথমার্ধে এগিয়ে যেতে পারেনি সাইফ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আবাহনী ডিফেন্ডার টুটুল হোসেনের ভুল ব্যাক পাসে গোলকিপার শহিদুলকে একা পেয়েছিলেন সানডে উদোহ। তাঁর শট ঠেকিয়ে দেন শহিদুল।
দ্বিতীয়ার্ধে আবাহনীর দাপট কমে যায়। ৭২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে সাইফকে এগিয়ে নেন এমেকা ওগবাগ। ডান প্রান্তে রহিমউদ্দিনের ক্রস থেকে বক্সের মধ্যে বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়েছিলেন সাইফের সাদ্দাম হোসেন। আবাহনীর বদলি রাইটব্যাক মনির হোসেন তাঁকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় সাইফ। স্পটকিক থেকে বল জালে জড়ান এমেকা ওগবাগ, ২–১।

default-image

৮০ মিনিটে আবারও পেনাল্টি পায় সাইফ। কিন্তু এমেরি বাইসেঙ্গে দুবার বল জালে জড়ালেও নিয়ম ভঙ্গ করায় সেটি বাতিল করেন রেফারি। প্রথম শট নেওয়ার আগে সাইফের খেলোয়াড়েরা বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়েন। দ্বিতীয় শট নেওয়ার আগ মুহূর্তে গোলকিপারকে ধোঁকা দেওয়ায় গোল বাতিল করা হয়।
তবুও ২–১ গোলে এগিয়ে সাইফ জয়ের দিকেই ম্যাচটি এগিয়ে যাচ্ছিল। ম্যাচ গড়িয়েছিল যোগ করা সময়ে। ৯৩ মিনিটে গোল করে আবাহনীকে ম্যাচে ফেরান কলিনদ্রেস।

ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। যোগ করা সময়ের ৪ মিনিটে গোল করে আবাহনীকে এগিয়ে নিয়েছিলেন উইঙ্গার রাকিব হোসেন। ম্যাচটি আবাহনী জয়ের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল। শেষ বাঁশি বাজার আগে গোল করে শেষ নাটকের জন্ম দিলেন সাইফের বদলি ফরোয়ার্ড সাজ্জাদ হোসেন। অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা সময়ের একদম শেষ মিনিটের গোলে ৩–৩ গোলে ড্র। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে দুটি সেভ দিয়ে আবাহনীর জয়ের নায়ক গোলকিপার শহিদুল। দ্বিতীয় ও পঞ্চম শটে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে এমফোন সানডে ও জামাল ভূঁইয়ার শট আটকেছেন শহিদুল।

টাইব্রেকারে সাইফের বাকি তিন শট থেকে গোল করেছেন এমেরি বাইসেঙ্গে, ফয়সাল আহমেদ ও সাজ্জাদ হোসেন। আবাহনীর চারটি শটই লক্ষ্যে রেখেছেন মিলাদ শেখ, রেজাউল করিম, মেহেদি হাসান ও নুরুল নাঈম।
৯ জানুয়ারি ফেডারেশন কাপের ফাইনালে আবাহনীর প্রতিপক্ষ রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটি।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন