default-image
>মার্সাল সাহস করে বলেই ফেলেছেন, কোয়ার্টার ফাইনালে সিটির বিপক্ষে লিওঁর জয়ের সুযোগ আছে তো বটেই, তাঁর দলের সুযোগ আছে এবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়েরও

হাতি-ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল! ব্যাপারটা অনেকে সে রকমই মনে করতে পারেন। কিন্তু কে কী ভাবলেন সেটাতে অলিম্পিক লিওঁর লেফটব্যাক ফার্নান্দো মার্সালের বয়েই গেছে! আগামীকাল চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে খেলবে তাঁর দল। এর আগে লিওঁর ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার শুধু ম্যান সিটিকেই নয়, এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে সম্ভাব্য বাকি প্রতিপক্ষদেরও হুমকি দিয়ে রেখেছেন।

কী সেই হুমকি? মার্সাল সাহস করে বলেই ফেলেছেন, কোয়ার্টার ফাইনালে সিটির বিপক্ষে লিওঁর জয়ের সুযোগ আছে তো বটেই, সুযোগ আছে এবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়েরও। তা মার্সালের এমন কথায় হাতি-ঘোড়া তল যাওয়া আর মশার কত জল বলে দেখে নেওয়ার প্রবাদটি কেন এসেছে? ম্যান সিটির দিকেই তাকিয়ে দেখুন, শেষ ষোলোতে রিয়াল মাদ্রিদের মতো ইউরোপিয়ান পরাশক্তি তল পায়নি পেপ গার্দিওলার দলের!

শেষ ষোলোর দুই লেগেই রিয়ালকে ২-১ গোলে হারিয়েছে সিটি। ফেব্রুয়ারিতে রিয়ালের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যু থেকে জিতে আসার পর এই মাসে দ্বিতীয় লেগেও সেই একই ব্যবধান ২-১ গোলে জিতেছে তারা। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-২ গোলে এগিয়ে থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে সিটি। এমন একটি দলের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সাহস নিয়ে জয়ের কথা বললেন মার্সাল। এটা অবশ্য বলার জন্য বলা নয়। নিজের কথার পেছনে যুক্তিও দেখিয়েছেন মার্সাল।

ম্যাচ হচ্ছে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে এবং করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বদলে যাওয়া ফরম্যাটে। মানে, চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল এবার আর দুই লেগের হবে না। একটি মাত্র ম্যাচেই নির্ধারণ হবে সেমিফাইনালিস্ট। তাও আবার খেলা হবে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে। সব মিলিয়ে মার্সাল বলেছেন, ‘ড্রেসিংরুমে সবাই ফাইনালে যাওয়ার কথা ভাবছে। আর আমরা যদি ফাইনালে যেতেই পারি তাহলে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের ভালো সুযোগ থাকবে। আমরা নিরপেক্ষ ভেন্যুতে দর্শকবিহীন মাঠে খেলব। এই পরিস্থিতিতে কাউকে ফেবারিট বলা যাবে না। এই বিবেচনাতেই আমাদের সুযোগ আছে।’

মার্সাল ফাইনালে যাওয়ার কথা বলে বার্সেলোনা ও বায়ার্নকেও হুমকি দিয়ে রেখেছেন। আজ রাতে কোয়ার্টার ফাইনালের আরেক ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইউরোপের অন্যতম সেরা দুই দল। এই ম্যাচের জয়ী দলের সঙ্গেই সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে সিটি-লিওঁ ম্যাচের জয়ী দল। অন্য দিক থেকে ফাইনালে উঠবে পিএসজি বা আরবি লাইপজিগের একটি। আগামী মঙ্গলবার সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে দল দুটি। মার্সালের হুমকিটা তাহলে পিএসজি আর লাইপজিগকেও দেওয়া!

স্বপ্ন সত্যি করতে হলে কঠিন পথই যে পেরোতে হবে সেটাও জানেন মার্সাল। ৩১ বছর বয়সী ডিফেন্ডার তাই হয়তো সতীর্থদের সতর্ক করে দিতে ম্যান সিটির শক্তি ও তাদের বিখ্যাত কোচ পেপ গার্দিওলার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘তারা (ম্যান সিটি) সেরা খেলোয়াড়দের কেনে। বিশ্বের সেরা তিন কোচের একজন তাদের কোচ। এদিক থেকে আমরা তাদের সমকক্ষ নই। তবে পিএসজি ও জুভেন্টাসের বিপক্ষে আমরা যা করেছি সেদিকে তাকালে বলতে পারি আমাদেরও সুযোগ আছে।’

শেষ ষোলোর প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে জুভেন্টাসকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল লিওঁ। এরপর দ্বিতীয় লেগে ২-১ গোলে হারলেও অ্যাওয়ে গোলের হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে ফরাসি দলটি। আর পিএসজির সঙ্গে কী করেছিল লিওঁ? লিগ কাপের ফাইনালে ১২০ মিনিটে গোলশূন্য ড্র করেছিল। তবে টাইব্রেকারে ৬-৫ গোলে হেরে টুর্নামেন্টটি শেষ করেছে রানার্সআপ হয়েই।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0