রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের বহনকারী বাসের ক্ষতিগ্রস্ত জানালা।
রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের বহনকারী বাসের ক্ষতিগ্রস্ত জানালা।ছবি: টুইটার

অ্যানফিল্ডে কেমন আতিথ্য মিলতে পারে তা জানত রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথম লেগেই দুই গোল ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল লিভারপুল। ফিরতি লেগে ইংলিশ ক্লাবটির মরিয়া থাকাই স্বাভাবিক।

রিয়ালকে শুরুতেই ভড়কে দিতে হতো। এই কাজ মাঠে হওয়ার কথা থাকলেও লিভারপুলের সমর্থকদের যেন আর তর সয়নি। অ্যানফিল্ডে রিয়াল খেলোয়াড়দের বহনকারী বাস ঢোকার মুহূর্তেই শুরু হয়ে যায় বরণ করে নেওয়ার পালা-লিভারপুল সমর্থকেরা বোতল ছুড়ে মারেন।

খেলার চেতনার কথা বিবেচনায় নিলে বাক্যের শেষে বিস্ময়সূচক চিহ্ন ব্যবহার শ্রেয় ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো লিভারপুলের সমর্থকদের কাছ থেকে এমন আতিথ্য পাওয়া তো রিয়ালের কাছে প্রত্যাশিত ছিল। তাতে অবশ্য খানিকটা ক্ষয়-ক্ষতিও হয়েছে।

করিম বেনজেমা-লুকা মদরিচদের বহনকারী বাসের জানালার একটি কাচ ভেঙেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানায়, এ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে মার্সিসাইড পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

রিয়াল সাধারণত যে বাসে করে প্রতিপক্ষের মাঠে যায়, কাল সেই বাস ব্যবহার করা হয়নি। জিনেদিন জিদানের দলকে বাসটি সরবরাহ করেছে ইংল্যান্ডেরই একটি প্রতিষ্ঠান।

ইএসপিএন জানায়, কয়েক শ সমর্থক অ্যানফিল্ডে ঢোকার রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। করোনা মহামারির এ সময়ে তাঁদের বেশির ভাগের মুখে মাস্ক ছিল না। সামাজিক দূরত্বের বালাই মানেননি কেউ। রিয়ালের খেলোয়াড়দের বহনকারী বাস অ্যানফিল্ডের কপ এন্ডে থামানো হয়।

খেলোয়াড়েরা বাস থেকে নামার পর সমর্থকদের দঙ্গল থেকে বোতল ছুড়ে মারা হয় বাসটিকে তাক করে। এতে বাসের একটি জানালার দুই স্তরের কাচের ওপরের অংশ ভেঙে যায়। লিভারপুলের নিরাপত্তারক্ষীরা এ সময় আলোকচিত্রীদের ছবি তুলতে বাধা দেন।

লিভারপুলের এক মুখপাত্র বিবৃতিতে বলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদের বাসে হামলার নিন্দা জানাই। কয়েকজনের এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য ও লজ্জাজনক। এখানে প্রতিপক্ষ দলের কাছে আমরা ক্ষমা চাচ্ছি। দোষীদের খুঁজে বের করতে আমরা মার্সিসাইড পুলিশের সঙ্গে কাজ করব।’

মার্সিসাইড পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কমপক্ষে ৪০০ সমর্থক জমায়েত হয়েছিলেন অ্যানফিল্ডের রাস্তায়। রিয়ালের বাস তাক করে বেশ কিছু জিনিস ছুড়ে মারা হয়, ‘সিসিটিভি ক্যামেরা দেখে তদন্তকারী দল কাজ এগিয়ে নেবে। মুঠোফোনে কেউ এর ফুটেজ পেয়ে থাকলে যোগাযোগের অনুরোধ রইল।’

ফিরতি লেগে লিভারপুলের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে উঠেছে রিয়াল। প্রথম লেগে ৩-১ গোলে হেরেছিল ইংলিশ ক্লাবটি।

অ্যানফিল্ডে গোলের বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি সালাহ-ফিরমিনোরা। অনেকে তাই মজা করে বলতেই পারেন, রিয়ালের গোলপোস্ট নয়, শুধু তাদের বাসের জানালাতেই লক্ষ্য ভেদ করতে পেরেছে লিভারপুল।

তবে অ্যানফিল্ডে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের বহনকারী বাস এই প্রথম আক্রমণের শিকার হয়নি। তিন বছর আগে এই চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালেই লিভারপুলের মাঠে খেলতে গিয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি।

তাদের বহনকারী বাস লিভারপুলের সমর্থকদের তুমুল রোষানলের শিকার হয়েছিল। বোতল ছাড়াও অন্যান্য জিনিসপত্র ছুড়ে মারায় বাসটি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল যে সিটির খেলোয়াড়েরা বাস পাল্টাতে বাধ্য হয়েছিলেন। সমর্থকদের এ কাণ্ডে ২০ হাজার ইউরো জরিমানা গুনতে হয় লিভারপুলকে।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন