গোলের পর সুলাইমান সিল্লাহ।
গোলের পর সুলাইমান সিল্লাহ।ছবি: প্রথম আলো

একেকটি গোলের পর একেক রকম উদ্‌যাপন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের ফুটবলারদের। কখনো গোলের পর ওমর জোবের পায়ের বুট মুছে দিচ্ছেন সলোমন কিং, কখনো আবার গোল শেষে অ্যাকশন সিনেমার নায়কদের মতো শূন্যে অস্ত্র তাক করে গুলি ছুড়ছেন সুলাইমান সিল্লাহ, জোবে ও কিং। প্রিমিয়ার লিগে গোলের এমন উদ্‌যাপন রীতিমতো অভ্যাসে পরিণত হয়েছে শেখ জামালের। আজ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রকে ৪-২ গোলে হারানোর ম্যাচেও শেখ জামালের এমন ব্যতিক্রমী উদ্‌যাপন বজায় রইল।

শেখ জামালের হয়ে জোড়া গোল করেছেন জোবে। একটি করে গোল সুলাইমান সিল্লাহ ও সলোমন কিংয়ের। শেখ রাসেলের হয়ে গোল করেছেন ওবে মোনেকে ও বখতিয়ার দুশোবেকভ।  

বিজ্ঞাপন
default-image

প্রিমিয়ার লিগে এ পর্যন্ত ৫টি ম্যাচের সব কটিই জিতে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে উঠে এল শেখ জামাল। তাদের চেয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বসুন্ধরা কিংস। আর শেখ রাসেলের এটা প্রথম হার। করোনায় আক্রান্ত কোচ সাইফুল বারীর অনুপস্থিতিতে প্রথম ম্যাচেই হারল তারা। ৬ ম্যাচে ৪ জয়, ১ ড্র ও ১ হারে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে শেখ রাসেল। ৬ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে আবাহনী আছে তৃতীয় স্থানে।

শেখ জামালের লিগের জয়রথ আসলে ছুটে চলছে গত বছর থেকেই। সর্বশেষ মৌসুমে করোনার কারণে বাতিল হওয়া লিগে শেখ জামাল সব মিলিয়ে খেলেছিল ৫টি ম্যাচ। এর মধ্যে শুধু প্রথম ম্যাচটি হেরেছিল। এরপর সেই যে জেতা শুরু, এখন পর্যন্ত লিগে উড়ছে শেখ জামাল। গত মৌসুমে টানা ৪ ম্যাচ জয়ের পর এবার জিতল টানা ৫ ম্যাচ। সব মিলিয়ে লিগে ৯ ম্যাচ জিতল শেখ জামাল। মৌসুমসূচক টুর্নামেন্ট ফেডারেশন কাপে শেখ জামাল অবশ্য কোয়ার্টার ফাইনালেই ছিটকে গিয়েছিল। শেষ আটে বসুন্ধরা কিংস ২-০ গোলে হারায় শেখ জামালকে।

default-image

ধানমন্ডির এই দলটির বড় অস্ত্র গাম্বিয়ান কিং, জোবে ও সিল্লাহ। এই ত্রিফলার আক্রমণ সামলানোই দায় হয়ে উঠেছে প্রতিপক্ষ দলগুলোকে। বল নিয়ে মাঠে এই তিনজনের বোঝাপড়াও চমৎকার। এঁদের সঙ্গে যোগ দিয়ে মাঝমাঠটা দারুণভাবে দখল করে রাখেন উজবেক মিডফিল্ডার ভালি ওতাবেক। ম্যাচের ১৫ মিনিটেই ওতাবেকের ফ্রি–কিক ক্রসবারে গিয়ে লাগে। না হলে ওই সময়ই এগিয়ে যেতে পারত শেখ জামাল।

অবশ্য ৩৭ মিনিটে শেখ জামাল প্রথম যখন এগিয়ে যায়, ওই গোলে যতটা না কৃতিত্ব সিল্লাহর, এর চেয়ে বেশি দায় শেখ রাসেলের গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলামের। বলতে গেলে গোলটা যেন উপহারই দিলেন জাতীয় দলের এই গোলরক্ষক। শেখ রাসেলের দিদারুল হকের কাছ থেকে বল নিয়ে সিল্লাহ আচমকা জোরালো এক শট নেন গোলে। আশরাফুল বলটা ভেবেছিলেন ধরেই ফেলবেন, কিন্তু বল হাতের মধ্যে এসেও সেটা ফসকে বেরিয়ে ঢোকে জালে। ঘটনার বিহ্বলতায় আশরাফুল বলটার দিকে খানিকক্ষণ চেয়ে রইলেন। বিরতির ঠিক আগে ওমর জোবে দর্শনীয় শটে করেন ২-০। ৫৮ মিনিটে ম্যাচটিকে শেষ করে দিয়ে জোবে করেন নিজের দ্বিতীয় গোল। ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় শেখ জামাল। লিগে ৭ গোল করে এখন পর্যন্ত লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা জোবে।

বিজ্ঞাপন
default-image

গোল শোধে মরিয়া শেখ রাসেল অবশ্য চমৎকার এক গোল পেয়ে যায় ৬৮ মিনিটে। কর্নার থেকে দুশোবেকভের উড়ে আসা বলে হেডে ওবে মনেকে করেন ৩-১। বলটা শেখ জামালের গোলরক্ষক জিয়া গোললাইন পেরিয়ে জালের ভেতরে গিয়ে ধরেন। শেখ জামালের ফুটবলাররা গোল বাতিলের দাবি করলেও রেফারি নয়ন চৌধুরী নিজের সিদ্ধান্তে অনড়ই ছিলেন। আর ৭৩ মিনিটে বক্সে ঢোকেন কিং। কিন্তু তাঁকে ফেলে দেন শেখ রাসেলের ডিফেন্ডার রাশেদুল আলম। পেনাল্টি থেকে গোল করেন কিং (৪-১)।

ম্যাচের ৮৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে শেখ রাসেলের হয়ে আরেকটি গোল করেন বখতিয়ার দুশোবেকভ। বক্সের মধ্যে আবদুল্লাহকে ফেলে দেন শেখ জামালের ডিফেন্ডার আলাউদ্দিন। এরপরই পেনাল্টি পায় শেখ রাসেল। শেখ জামালের গোলরক্ষক জিয়াউর রহমান বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়লেও বলটা ঠেকাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে শেখ রাসেল।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন