বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তবে লেস্টারের ‘টানা তিন’ ও শেরিফের ‘টানা দুই’য়ের মধ্যে পার্থক্য আছে। ক্লাব ব্রুগা, পোর্তো ও কোপেনহেগেনের মতো মাঝারি মানের দলকে টানা তিন ম্যাচে হারিয়েছিল লেস্টার।

কিন্তু শেরিফ এক কাঠি সরেস। প্রথমে তাদের কাছে হারল শাখতার দোনেতৎস্ক, এরপর কাল রাতে রিয়াল মাদ্রিদের ঘরে ঢুকে ২-১ গোলের জয় ছিনিয়ে এনেছে মলদোভান ক্লাবটি। রিয়ালের বিপক্ষে তাদের জয় অনেকের চোখেই চ্যাম্পিয়নস লিগে সম্ভবত সবচেয়ে বড় অঘটন। ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ফুটবলার ও বিশ্লেষক গ্যারি লিনেকারের টুইট, ‘শেরিফের গুলিতে মাদ্রিদে ভূপাতিত রিয়াল মাদ্রিদ।’

বলকান অঞ্চলের সংবাদকর্মী এবং গার্ডিয়ান, ওয়াশিংটন পোস্ট ও ইউরোনিউজে কাজ করা আলেক্সান্দার ব্রেজারের টুইটেই অঘটনের মাত্রাটা পরিষ্কার বোঝা যায়, ‘শেরিফের মোট বাজেট ৪ লাখ ২০ হাজার ইউরো, যা রিয়াল তারকা এডেন হ্যাজার্ডের সাপ্তাহিক বেতনের চেয়েও কম।’

default-image

এ তো গেল দুই দলের আর্থিক সামর্থ্যের পার্থক্য; সাফল্য ও ঐতিহ্যেও ফারাক আকাশ-পাতাল। ১৯৯৭ সালে শেরিফ যাত্রা শুরুর আগেই ২৭ বার লা লিগা, ৬ বার ইউরোপিয়ান কাপ (চ্যাম্পিয়নস লিগের পূর্ববর্তী সংস্করণ) ও ১৭ বার কোপা দেল রে জিতেছে রিয়াল।

কিন্তু কথায় আছে ‘দ্য গেম ইজ অ্য গ্রেট লেভেলার’—অর্থাৎ খেলা সবাইকে এক কাতারে নামিয়ে আনে। কাল রাতে রিয়ালকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে সবচেয়ে সফল দলটিকে মাটিতে নামিয়েই কাতার সমান করেছে শেরিফ।

রসিকতা করতে ছাড়েনি স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস। প্রথম পাতায় তাদের শিরোনাম, ‘শেরিফ তার আইন প্রয়োগ করল’। ভেতরে তারা লিখেছে, ‘মলদোভান চ্যাম্পিয়নদের নিখুঁত নিশানায় অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাঠগড়ায় মাদ্রিদ।’ তা বটে। শেরিফ মাত্র ৪টি শট নিয়েই ২টি গোলের দেখা পেয়েছে। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে গোটা ম্যাচে ৩১টি শট নিয়েও রিয়াল গোল পেয়েছে শুধু পেনাল্টি থেকে।

default-image

স্পেনের আরেক সংবাদমাধ্যম মার্কার ইংরেজি সংস্করণের ওয়েবসাইটে শিরোনামও মজার, ‘শেরিফে তালাবদ্ধ রিয়াল মাদ্রিদ’। ভেতরে লেখা, ‘মাদ্রিদের উজ্জ্বল ইউরোপিয়ান ইতিহাসে অন্যতম বিস্ময়কর এবং ধাক্কা।’ ভেতরে সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, শেষ মুহূর্তে সেবাস্তিয়ান থিলের করা ‘গোলটি শুধু মাদ্রিদ নয়, বরং পুরো মহাদেশেই আঘাত হেনেছে।’

বার্সেলোনাকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভোর শিরোনাম, ‘শেরিফে গ্রেপ্তার’। স্পেনের আরেক সংবাদমাধ্যম এল পেইসের শিরোনাম ‘মাদ্রিদের মাথা ঘুরিয়ে দিল শেরিফ’। প্রতিবেদনের ভেতরে তারা লিখেছে, ‘ফুটবল-বিশ্বকে ঐতিহাসিক ধাক্কা দিল শেরিফ। একদম কেন্দ্রস্থল, স্মারক সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে। এর ব্যাখ্যা সম্ভব? ইউরোপিয়ান কাপে সবচেয়ে আইকনিক দল শিক্ষানবিশ প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে হেরেছে, যারা অনেকের কাছেই কৌতুকের পাত্র।’

চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চ ১৩ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়ালকে হারিয়ে কাল শেরিফও মজা লুটতে ভুল করেনি। ইনস্টাগ্রামে ক্লাবটির পক্ষ থেকে ফটোশপে সম্পাদনা করা একটি পোস্ট করা হয়।

রিয়ালের ব্যাজে যে মুকুট শোভা পায়, তা শেরিফের ক্লাব-ক্রেস্টের ওপর! অর্থাৎ, রিয়ালকে হারিয়ে তাদের মুকুট পরেছে শেরিফ—পোস্টে এমনটাই বোঝানো হয়। মলদোভার সংবাদমাধ্যমেও শেরিফের জয় নিয়ে স্তুতিকাব্য চলছে। জার্নাল ডট এমডি বেশ কিছু লেখা প্রকাশ করে শেরিফকে নিয়ে। তার মধ্যে একটিতে বলা হয়, ‘অসাধারণ! রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে ডি গ্রুপের শীর্ষে শেরিফ।’ সংবাদমাধ্যম তিনপুল শিরোনাম করে, ‘রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে জিতে আলোড়ন তুলেছে শেরিফ।’

আলোড়ন তো তুলেছেই। যে ক্লাব গত জুলাইয়েও চ্যাম্পিয়নস লিগ বাছাইপর্ব খেলল, তারা মূল পর্বে খেলার সুযোগ পেয়েই কি না, টানা দুটি ম্যাচ জিতে নিল! এর মধ্যে আবার শেষ ম্যাচটি শেরিফ জিতেছে রিয়ালের বিপক্ষে তাদেরই ঘরের মাঠে! দলটির কোচ ইউরি ভের্নাইদুব তাই সত্য কথাটা বলে দিলেন, ‘এ অলৌকিক!’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন