এক ম্যাচে ছয় গোলের ব্যবধানে কখনোই হারেনি জার্মানি।
এক ম্যাচে ছয় গোলের ব্যবধানে কখনোই হারেনি জার্মানি। ছবি : রয়টার্স

ম্যাচ শেষের পর কেমন যেন উদভ্রান্ত লাগছিল জার্মানির কোচ ইওয়াকিম লুভকে। আর লাগবে না-ই বা কেন? এমন পরাজয় যে লুভ নিজের অধীনে কস্মিনকালেও দেখেননি জার্মানির!

ম্যাচের পর লুভের কথা শুনে সেটাই মনে হলো। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে লুভ যেন একরকম দিশেহারা ছিলেন, ‘আমি আসলেই জানি না দলের কী হয়েছে। আমরা একটা সুযোগও সৃষ্টি করতে পারিনি, মাঠে আলাদাভাবে একটা লড়াইও জিততে পারিনি।’ সব মিলিয়ে লুভের কথার মধ্যেই ফুটে উঠেছিল জার্মানির হতশ্রী দশা। যে হতশ্রী অবস্থার কারণে ২০১৪ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ছয় গোল হজম করতে হয়েছে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কাছে!

default-image

প্রশ্ন উঠতে পারে, এমন হার শেষ কবে জুটেছিল জার্মানদের কপালে? জার্মানি মানেই তো হার না-মানা, ইস্পাতকঠিন মনোবলের এক দল, যারা হারার আগে হারে না। প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করে ফেলে নিস্পৃহ কার্যকারিতায়। জার্মানরা যন্ত্রের মতো খেলে, জয়ের জন্য খেলে— এমন কথা তো আর যুগ যুগ ধরে এমনিই প্রচলিত হয়নি! কিন্তু সে জার্মানির এ কী হাল? যে জার্মানি ব্রাজিলের মাঠে ব্রাজিলকে ৭-১ গোলের মালা পরায়, লিওনেল মেসি-ফেরেঙ্ক পুসকাস কিংবা ইয়োহান ক্রুইফদের মতো ফুটবলের বরপুত্রদের হতাশ করে জিতে নেয় বিশ্বকাপের শিরোপা, সে জার্মানি আজ এত অচেনা কেন? দোষ পড়বে এই লুভের ঘাড়েই, যে লুভের অধীনে জার্মানি ২০১৪ সালেও দুর্ধর্ষ ছিল, এখন সে জার্মানি নিজেদের সঠিক রসায়ন বের করতে খাবি খায়।

বিজ্ঞাপন

স্পেনের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগে জার্মানির ৬-০ গোলের হারটা বের করে এনেছে অনেক পুরোনো স্মৃতি। ৬৬ বছর আগে, ১৯৫৪ বিশ্বকাপে হাঙ্গেরির বিপক্ষে ৮-৩ গোলে হেরে বসেছিল জার্মানি। ব্যবধান ছিল ৫ গোলের। তবে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের হারটা আরও অনেক আগের। প্রায় ১১০ বছর আগে ইংল্যান্ডের (মতান্তরে অ্যামেচার ইংল্যান্ড) বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ৯-০ গোলে হেরেছিল তারা। এ ছাড়া ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ৬-৩ গোলেও হেরেছে জার্মানরা। গত রাতে স্পেনের বিপক্ষে প্রথমার্ধে ৩ গোল খাওয়া জার্মানরা মূলত ফ্রান্সের বিপক্ষে ওই ম্যাচটার স্মৃতিও জাগিয়ে তুলেছে, যে ম্যাচে সর্বশেষ প্রথমার্ধে ৩ গোল হজম করতে হয়েছিল জার্মানদের। ২০০২ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জার্মানদের ৫-১ গোলের হারটাও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে তরতাজা। সে ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন সে সময়ে লিভারপুলের হয়ে খেলা মাইকেল ওয়েন। ওয়েনের কৃতিত্বেও ভাগ বসেছে গত রাতে। দুই জার্মানি এক হওয়ার পর তাঁদের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব এত দিন দুজনের ছিল। ওয়েনের পাশাপাশি পর্তুগালের সের্হিও কনসেইচ্যাও জার্মানির বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। সে তালিকায় যুক্ত হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটির স্প্যানিশ উইঙ্গার ফেরান তোরেসের নামটাও।

default-image

ক্যারিয়ারে এর আগে কখনো ছয় গোল খাননি জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার। না জাতীয় দলের হয়ে, না নিজের ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ বা শালকের হয়ে। এর আগে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের কাছে ৫-২ গোলের হারটাই ছিল নয়্যারের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় হার। গত রাতে সে রেকর্ডটাও নতুন করে লিখে দিয়েছে স্পেন।

এদিকে জার্মানদের বিপক্ষে স্পেনের ৬-০ গোলের জয়টা একটু হলেও 'স্বস্তি' দিয়েছে আর্জেন্টিনাকে। ২০১৮ সালের এক প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ৬-১ গোলে হারিয়েছিল স্পেন। বিশ্বকাপ জয়ী দলগুলোর বিপক্ষে যেটা ছিল স্পেনের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়। ছয় গোল খেয়েও কোনো গোল না দিতে পেরে আর্জেন্টাইনদের কাছ থেকে রেকর্ডটা এখন জার্মানি নিজেদের ঝুলিতে ভরে নিয়েছে!

মন্তব্য পড়ুন 0