ইউরোপা লিগে  এখনো টিকে আছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
ইউরোপা লিগে এখনো টিকে আছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।ছবি: এএফপি

প্রিমিয়ার লিগে মাঝে কিছুদিন শীর্ষে উঠে গিয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ঠিক তেমন কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা কৌশল না দেখানো একটি দল কীভাবে শীর্ষে উঠে এসেছে, এ নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছিল। এর পেছনে করোনাভাইরাসের কারণে প্রাক–মৌসুম প্রস্তুতি না থাকা এবং প্রতি তিন দিনে ম্যাচ খেলাও ভূমিকা রেখেছে বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন। তবে সবাইকে খুব বেশি আলোচনা করার ‘সুযোগ’ দেয়নি ইউনাইটেড। ম্যানচেস্টার সিটির কাছে শীর্ষস্থান হারিয়ে আবার দুইয়ে নেমে এসেছে তারা।

কাগজ–কলমে এখনো শীর্ষে ওঠার সুযোগ আছে তাদের। আছে লিগ জেতার সম্ভাবনাও। কিন্তু এক ম্যাচ কম খেলে সিটির (৩০ ম্যাচে ৭১ পয়েন্ট) চেয়ে ১৪ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা ইউনাইটেড লিগ জিতবে—এমন আশাবাদ দল সংশ্লিষ্ট কেউ করতে রাজি হবেন না হয়তো। লিগে আর ৯ ম্যাচ বাকি রেড ডেভিলদের। এ অবস্থায় ১৪ পয়েন্টের পার্থক্য ঘোচানোর চেয়ে অন্য শিরোপা জেতায় মন দেওয়াই ভালো। আর সেটা করতে হলে আগামী কিছুদিন বেশ ব্যস্ত থাকতে হবে ইউনাইটেডকে। মৌসুম শেষ হওয়ার আগে খেলতে হবে অন্তত ১৭ ম্যাচ।

এ অবস্থায় কোচ উলে গুনার সুলশার দলের সবাইকে উজ্জীবিত রাখার জন্য ভিন্ন এক পন্থাই বেছে নিয়েছেন। টানা ম্যাচ খেলতে যেন কোনো ইউনাইটেড খেলোয়াড় আপত্তি না জানান, সেটা নিশ্চিত করতে চাইছেন কোচ। বলেছেন, ম্যাচ না খেলে শান্তি খুঁজতে চাইলে তাদের জন্য ‘লাল শয়তান’দের ডেরা ভুল জায়গা।

বিজ্ঞাপন
default-image

লিগের বাইরে এখনো দুটি টুর্নামেন্ট জেতার আশা আছে ইউনাইটেডের। ইউরোপা লিগে কোয়ার্টার ফাইনালে গ্রানাদার মুখোমুখি হবে তারা। এদিকে আজ এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে লেস্টার সিটির বিপক্ষে। আজ ভাগ্য যদি ইউনাইটেডের দিকে চেয়ে না হাসে আর ইউরোপা লিগেও যদি গ্রানাদার বিপক্ষে পরীক্ষায় ব্যর্থ হয় ক্লাবটি, তাহলে এ মৌসুমে আর ১২ ম্যাচ বাকি থাকবে ইউনাইটেডের। কিন্তু দুই টুর্নামেন্টে যদি শেষ পর্যন্ত যেতে পারে ইউনাইটেড, তাহলে ম্যাচসংখ্যা আরও পাঁচটি বাড়বে।

এমনিতেই করোনার কারণে মৌসুম পরে শুরু হয়েছে। এদিকে এ বছর জুনেই আছে ইউরো ও কোপা আমেরিকা। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচও খেলতে হবে এই মার্চে। এমন ব্যস্ত সূচির মধ্যে আরও পাঁচটি ম্যাচ বাড়া মানেই খেলোয়াড়দের ক্লান্তি আরও অনেক বেড়ে যাওয়া। কিন্তু সুলশারের স্পষ্ট কথা, যদি ইউনাইটেডের মতো ক্লাবে কেউ খেলতে চান, তবে অবশ্যই শিরোপা জয়ের ক্ষুধা থাকতে হবে, আত্মত্যাগ করার ইচ্ছা থাকতে হবে।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের সঙ্গে কথোপকথনে সুলশার বলেছেন, ‘যদি সহজ-আরামদায়ক জীবন চান, তাহলে আপনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলতে পারবেন না। আপনাকে মানসিকভাবে শক্তিশালী হতে হবে। শারীরিকভাবেও শক্তিশালী ও গাট্টাগোট্টা হতে হবে। সফল হতে হলে নিজেকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হবে আর এমন সব সময়েই তো আমরা খেলতে চাই।’

এর আগে টানা ম্যাচ খেলা প্রসঙ্গে কোচের সুরেই কথা বলতে শোনা গেছে মার্কাস রাশফোর্ডকে। ইংলিশ ফরোয়ার্ড টানা ম্যাচের মধ্যে বিশ্রাম নেওয়া দরকার কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, যত বিশ্রাম নেওয়ার দরকার সব অবসরের পরই নেবেন। বাড়তি ছুটি না চেয়ে ইউনাইটেডের জার্সিতে সম্ভাব্য যত শিরোপা জেতা সম্ভব, সব বুঝে নিতে চান রাশফোর্ড। আর টানা খেলার ধকলটা ম্যাচের মাঝের বিরতিতেই কাটিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী এই তরুণ।

সুলশারও জানালেন, পুরো দলের জন্যই একই পরামর্শ তাঁর, ‘দুই ম্যাচের মধ্যে যদি নিজের শক্তি পুনরুদ্ধার করতে পারেন এবং এভাবেই যদি নিজের ছন্দ খুঁজে পাওয়া যায়, তাহলে সেটাই সেরা উপায়। আমরা যদি এ মৌসুমে সাফল্য পেতে চাই, তাহলে তা-ই করতে হবে। (এবার না হলে) পরের বছর কিংবা আগামী ২ অথবা ৫ বছর পরে হলেও এক মৌসুমে অন্তত ৪৫ থেকে ৫০টি ম্যাচ খেলার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে হবে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের খেলোয়াড় হতে হলে আপনাকে এটা করতেই হবে এবং এটা চালিয়ে যেতে হবে।’

বিজ্ঞাপন
default-image

২০১৬ সালে জোসে মরিনিওর অধীনে সর্বশেষ কোনো শিরোপা জিতেছিল ইউনাইটেড। এরপর থেকেই ট্রফি ক্যাবিনেটে ধুলা জমছে। ইউনাইটেডের কিংবদন্তি কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের যুগে এমন কিছুর কথা কল্পনাও করা যায়নি। ফার্গুসনের শিষ্য সুলশারও ব্যাপারটা মেনে নিতে পারছেন না। তবে নরওয়েজিয়ান কোচ আশাবাদী, মৌসুমে অন্তত ৫০ ম্যাচ খেলার মতো বেশ কিছু ভালো খেলোয়াড় থাকলেই শিরোপা নিয়ে উৎসব করার দিনগুলোতে ফিরতে পারবে ইউনাইটেড, ‘আপনার যদি পাঁচ, ছয়, সাতজন খেলোয়াড় থাকে, যারা নিয়মিত এত ম্যাচ খেলতে পারে, তাহলেই আমরা শিরোপা জেতার জন্য লড়তে পারব। আমি তো ম্যাচ বেশি খেলতেই পছন্দ করি...আমরা অবশ্য ঘুরিয়ে–ফিরিয়ে খেলাতে পারি। হয়তো (ইউনাইটেডের মতো এত ম্যাচ খেলতে না হওয়ায়) লেস্টার ও ব্রেন্ডন রজার্স এ ম্যাচ নিয়ে ট্যাকটিক্যালি ভাবতে পেরেছেন কিন্তু আমাদের এভাবেই চালাতে হবে।’

এ মৌসুমে ইউনাইটেডের হয়ে এখন পর্যন্ত ৪০ ম্যাচের বেশি খেলেছেন চারজন খেলোয়াড়। মার্কাস রাশফোর্ড, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, হ্যারি ম্যাগুয়ার ও অ্যারন ওয়ান-বিসাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশিবার মাঠে দেখা গেছে রাশফোর্ডকেই। মোট ৪৫ বার মাঠে নেমেছেন এই ফরোয়ার্ড। তবে মাঠে সবচেয়ে বেশি সময় কাটিয়েছেন অধিনায়ক হ্যারি ম্যাগুয়ার। এরই মধ্যে চার হাজার মিনিট খেলে ফেলেছেন ইংলিশ এই ডিফেন্ডার। যদি দুটি কাপ প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত যেতে পারে ইউনাইটেড, তাহলে সুলশারের বেঁধে দেওয়া ৫০ ম্যাচ খেলার সেই চ্যালেঞ্জ অন্তত চার-পাঁচজন খেলোয়াড় এবার নিতে পারেন।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন