শুরু থেকেই লিভারপুলের রক্ষণভাগকে অস্থির করে তোলা ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ম্যাচের প্রথম গোলটার মালিক হতে পারতেন রাহিম স্টার্লিংই। কিন্তু সহজ সুযোগ নষ্ট করা যে তাঁর অনেক দিনের অভ্যাস! পঞ্চম মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনার দুর্দান্ত পাস গ্যাব্রিয়েল জেসুসের পা ঘুরে তাঁর কাছে যখন এল, সেটা শুধু ফাঁকা জায়গা দিয়ে জালে ঠেলে দেওয়াটাই বাকি। স্টার্লিং সেই বলও লিভারপুল গোলরক্ষক আলিসনের কোলে তুলে দিয়ে এসেছেন। তাঁর ভরসায় থাকবেন না বলেই হয়তো ডি ব্রুইনা নিজেই দায়িত্ব নিলেন। ৩০ সেকেন্ড পরেই ফাবিনিওকে কাটিয়ে বেলজিয়ান প্লেমেকারের নেওয়া শট মাতিপের পায়ে লেগে লিভারপুলের জালে।

শোধ দিতে ইয়ুর্গেন ক্লপের দল ১০ মিনিটও সময় নেয়নি। গোলটা হলো কিছুটা স্রোতের বিপরীতেই। সিটির খেলোয়াড়েরা তখনো লিভারপুলের রক্ষণেই বেশি সময় কাটাচ্ছেন। মো সালাহর শট বিপদমুক্ত করতে হেড করলেন জন স্টোনস, কিন্তু বল গেল অ্যান্ডি রবার্টসনের পায়ে। স্কটিশ ফুলব্যাক ক্রস বাড়ালেন ট্রেন্ট আলেকজান্ডার আরনল্ডের জন্য। বল মাঠের বাইরে চলে যাওয়ার আগে দৌড়ে এসে আরনল্ড আলতো ছোঁয়ায় দিলেন পেছনে থাকা দিয়েগো জোতার পায়ে। এরপর কী করতে হবে, জোতা জানতেন। ভুল হয়নি তাঁর।

সমতায় ফেরা লিভারপুলকে প্রায় এগিয়ে দিতে যাচ্ছিলেন সিটি গোলরক্ষক এদেরসন। স্টোনসের ব্যাকপাস তাঁর দিকে আসছিল। নিজের কাছে রাখবেন বল, না কি সরাসরি কাউকে পাস বাড়াবেন এই চিন্তা করতে করতেই এদেরসন দেখেন বল তাঁকে পেরিয়ে গোললাইন পার হচ্ছে প্রায়। শেষ মুহূর্তে বল ঠেকিয়ে এদেরসন হাস্যকর এক গোল খাওয়া থেকে বেঁচে যান।

জোতার গোলের সময় এবং নিজেই আরেকটা গোল খাওয়ার চেষ্টা ছাড়া এদেরসনকে প্রথমার্ধে খুব একটা পরীক্ষা দিতে হয়নি। ওপাশে বরং আলিসনই কিছুটা ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। ডি ব্রুইনা-জেসুস জুটিকে সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে তাঁকে। বছরের প্রথম দিনের পর এই প্রথম জেসুসকে সিটির একাদশে দেখে যে প্রশ্নটা জেগেছিল, সেটার উত্তরও ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড দিয়েছেন ম্যাচের ৩৬ মিনিটে। জোয়াও ক্যানসেলোর পাস থেকে বল পেয়ে সিটিকে আবার এগিয়ে দিয়ে জেসুস আস্থার প্রতিদান দেন গার্দিওলার।

পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়ার স্মৃতিটা প্রায় ভুলতেই বসেছিল লিভারপুল। কাকতালীয়ভাবে এক বছর আগে ঠিক এই দিনেই অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে মাঠ ছাড়া ইয়ুর্গেন ক্লপের দল আবার সেই স্বাদ পেল আজ। ওই ম্যাচটাও শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে জিতেছিল লিভারপুল। এটাও জিততে হবে, এই প্রতিজ্ঞা থেকেই কিনা, বিরতির পর মাঠে নেমেই ফেরাল সমতাও। সেটাও আবার পুরো প্রথমার্ধে ছায়া হয়ে থাকা সাদিও মানের গোলে! অবশ্য মো সালাহর পাসটাই এত দুর্দান্ত ছিল, সেটা গোল বানাতে না পারলে মানেকে শাস্তি দেওয়ার কথাও ভাবতে পারতেন ইয়ুর্গেন ক্লপ।

মানে তবু গোল করে মুখরক্ষা করেছেন, সিটির হয়ে ফোডেন-স্টার্লিংরা হতাশই করেছেন গার্দিওলাকে। স্টার্লিং অবশ্য ৬৩ মিনিটে লিভারপুলের জালে একবার বল পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায় সেটা। পরে তাঁকে বদলে রিয়াদ মাহরেজকে নামিয়েও কোনো লাভ হয়নি। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ডিবক্সের বাইরে থেকে ওই শটটাই নেওয়া ছাড়া তেমন কোনো মুহূর্ত উপহার দিতে পারেননি।

প্রথমার্ধের মতো এতটা দাপট পরে আর দেখাতে পারেনি সিটিও। বরং বিরতির পরের সময়টা লিভারপুলই কিছুটা ব্যস্ত রেখেছে সিটির রক্ষণভাগকে। তবে না হারাটা নিশ্চিত করতে গিয়ে শেষ দিকে দুই দলই কিছুটা ঝুঁকিহীন খেলতে চেয়েছে। তাতে ম্যাচের গতি হয়তো কিছুটা কমেছে, তবে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনায় সফল হয়েছে দুই দলই।