default-image

এক মিনিট! স্রেফ এক মিনিট!
এই ষাট সেকেন্ড পেরোতে পারলেই আরও ৩০ মিনিট সময় পেতেন মামুনুলরা। সেখানেও ফলাফল না এলে টাইব্রেকার ছিল। শেষ পর্যন্ত ফলাফল কী হতো, কে জানে! মালয়েশিয়ান যুবাদের চেয়ে অভিজ্ঞতার দিক থেকে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফুটবলাররা হয়তো মাঠ ছাড়তে পারতেন গৌরবের হাসি নিয়েই। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে অশ্রুসিক্ত চোখেই মাঠ ছাড়লেন এমিলি-জামালরা। ম্যাচ শেষে অনেকক্ষণ ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেন কোচ লোডভিক ডি ক্রুইফ। জায়ান্ট স্ক্রিনের দিকে ছলছল চোখে তাকিয়ে রইলেন টুর্নামেন্ট সেরা জামাল, দেখছিলেন শেষ মুহূর্তের স্বপ্নভঙ্গের ওই গোলটা। কাঁদলেন মামুনুলরা, কাঁদল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, কাঁদল পুরো দেশ। শিরোপার এত কাছে এসেও না পাওয়ার বেদনা থেকে শিগগির নিষ্কৃতি মিলবে না, সেটাই স্বাভাবিক। এক দিন বাদেও হতাশায় আচ্ছন্ন হয়ে রয়েছেন ফুটবলাররা, অনেকের ফেসবুক স্ট্যাটাসেই থাকছে হতাশার প্রতিফলন।
জাহিদ হাসান এমিলি তাঁর ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ‘ফাইনালি চ্যাম্পিয়ন ট্রফিটা ধরতে পারলাম না...সরি।’ প্রথমার্ধ শেষে দুই গোলে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ দল আশার আলো দেখতে পেয়েছিল তো এমিলির গোলেই! গোলসংখ্যার বিচারে বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার দেশের মাটিতে শিরোপা উঁচু করে ধরতে পারলেন না, হতাশা তো তাঁকে গ্রাস করবেই!
ফাইনালের মহারণের আগে ওয়াহেদ আহমেদের স্ট্যাটাসজুড়ে ছিল এ দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃপ্তকণ্ঠের শপথ, ‘মহা গুরুত্বপূর্ণ ফাইনালের বাকি আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। আমরা ফাইনাল জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করতে চাই। ফুটবলকে আবারও জাগ্রত করতে চাই। আপনারা সবাই যদি মন থেকে বেশি বেশি দোয়া করেন, আর মাঠে এসে সাপোর্ট দেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরা জিততে পারব। আপনাদের সাপোর্টই আমাদের বড় শক্তি।’
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে কাল ছিল না তিল ধারণের ঠাঁই। ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ রবে প্রকম্পিত হলো পুরো স্টেডিয়াম। সমর্থকেরা এলেন ঠিকই, কিন্তু ওয়াহেদরা পেলেন না কাঙ্ক্ষিত জয়। সাজানো মঞ্চ লন্ডভন্ড হয়ে গেল শেষ মুহূর্তের গোলে। দুঃস্বপ্নের মতো গোলটি অনেক দিন তাড়িয়ে বেড়াবে বাংলাদেশের ফুটবলারদের। ওয়াহেদ কি আর এমনি এমনি মাঝরাতে তাঁর ওয়ালে লেখেন, ‘ঘুমুতে পারছি না!’
টুর্নামেন্টজুড়েই দারুণ খেলা সোহেল রানার স্ট্যাটাসে থাকল সমর্থকদের সমর্থনের জবাব দিতে না পারার আক্ষেপ, ‘ইনবক্সে অনেক সান্ত্বনার েমসেজ জমেছে। আপনারা কেন সান্ত্বনা দিচ্ছেন! আমাদের তো সান্ত্বনা দেওয়া উচিত আপনাদের। এত কষ্ট করে মাঠে এলেন, অথচ আপনাদের জয় উপহার দিতে পারলাম না!’
প্রথমার্ধে দুই গোল হজম করার পর দ্বিতীয়ার্ধে প্রবল বিক্রমে ফিরে আসা। শেষ মুহূর্তের গোলে হারের পর মাঠে ও মাঠের বাইরে বিষণ্ন, বিমর্ষ মামুনুলদের গুমোট কান্না। সমর্থকদের প্রত্যাশার ভার মেটাতে না পারায় ফুটবলারদের লেখনীতে আক্ষেপ ঝরে পড়া।
সমর্থকেরা এখন চাইলে বলতেই পারেন, ‘তোমরা হয়তো শিরোপা পাওনি। কিন্তু আমাদের মন জয় করে নিয়েছো ঠিকই!’

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন