অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলার জশ হোপের উদযাপনের এমন দৃশ্য আর দেখা যাবে না
অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলার জশ হোপের উদযাপনের এমন দৃশ্য আর দেখা যাবে না ছবি: টুইটার

ভক্ত-সমর্থকেরা যে কোনো খেলার প্রাণ। প্রিয় ফুটবলার ভালো খেললে যেমন প্রশংসা হয়, তেমনি একটু খারাপ খেললেই ওঠে সমালোচনার ঝড়। কখনো কখনো সমালোচনার মাত্রাও ছাড়িয়ে যান অনেকে। অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলার জশ হোপের বেলায়ও তেমনটাই ঘটেছে।

অনলাইনে সমর্থকদের মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়া ‘গালাগালি’ সইতে না পেরে রাগে ক্ষোভে বুট জোড়া তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেলবোর্ন ভিক্টোরির এ মিডফিল্ডার।

বিজ্ঞাপন

অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ সারির লিগ ‘এ’ লিগে ২০১৬ সাল থেকে খেলছেন হোপ। লিগ ও টুর্নামেন্ট মিলিয়ে এ পর্যন্ত খেলেছেন ৪১টি ম্যাচ। যদিও এবারের মৌসুম শেষে তাঁর সঙ্গে চুক্তি বাড়ানোর কোনো প্রস্তাব দেয়নি ক্লাবটি। মাত্র ২২ বছর বয়স হোপের। আগামী মৌসুমের জন্য প্রতিভাবান এই ফুটবলারকে দলে পেতে অন্তত দুটি ক্লাব প্রস্তাবও দিয়েছিল। কিন্তু সে সব ক্লাবের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন হোপ।

default-image

কুৎসিত গালি কিংবা বর্ণবাদী আচরণের শিকার হরহামেশাই হচ্ছেন খেলোয়াড়েরা। শুধু যে হোপ একাই এমন যন্ত্রণা ভোগ করছেন, ব্যাপারটা তা নয়। বিশ্বের আরও অনেক ফুটবলারকেই এমন ঘৃণ্য ব্যাপার সহ্য করতে হয়। কিন্তু হোপ নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি।

খেলা ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে নিজের ইনস্টাগ্রামে একটা পোস্ট লিখেছেন তিনি, ‘এটার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখনই ভালো সময়। এই জঘন্য বিষয়টা আমাকে পাগল করে তুলেছে। আমি কখনোই ভাবিনি যে এর জন্য আমাকে অবসর নিতে হবে। এটা নিয়ে আমি অনেক দিন চুপ করে ছিলাম। কিন্তু দিনকে দিন আমার জীবনটা দুর্বিষহ হয়ে উঠছে এবং দিন শেষে এটা আমাকে আদৌ ফুটবল উপভোগ করতে দিচ্ছিল না।’

বিজ্ঞাপন

একজন মানুষ কীভাবে আরেকজন মানুষকে এত বাজে ভাষায় আক্রমণ করতে পারে সেটা ভেবেই অবাক হোপ, ‘সব রকমের খেলাধুলায় সমালোচনা হয়। যারা সহ্য করতে পারে তারাই টিকতে পারে। কিন্তু কিছু কিছু জঘন্য ব্যাপার মেনে নেওয়া কষ্টের। আমি তো মাঠে একজন খেলোয়াড়ের মতোই আচরণ করেছি। আমরা এমন কেউ না যে, শুধুই আমাদের টিভি পর্দায় দেখা যায়। আমরা অন্য মানুষের চেয়ে আলাদা কিছু নই।’

পেশাদার ফুটবলার হিসেবে এ সিদ্ধান্তটা অনেক কষ্টের ছিল বলেই মনে করেন হোপ। যদি এমন বাজে বিষয়গুলো খেলাধুলার অঙ্গন থেকে মুছে যায় তাহলেই হয়তো ফুটবলে আবারও ফিরে আসতে পারেন হোপ।

হোপের এমন সিদ্ধান্তে তাঁর এজেন্ট জন গ্রিমাউদ প্রচণ্ড হতাশ। টুইট করে জন লিখেছেন, ‘খুবই খারাপ লাগে যখন একজন প্রতিভাবান মক্কেল মনে করে যে তাকে অনলাইনে কটু মন্তব্যের কারণে সরে যেতে হবে।’

অস্ট্রেলিয়ার পেশাদার ফুটবলার অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী বিউ বুশ অবশ্য হোপের সব রকমের সহযোগিতা দিতে আশ্বাস দিয়েছেন, ‘সে একজন অসাধারণ মানুষ। স্থানীয় ও বিশ্বব্যাপী সব অ্যাথলেটেরই অনলাইনে এমন লাঞ্ছনার প্রভাব আমরা দেখতে পাচ্ছি। কিছু লোকের ধারণাই এমন খেলোয়াড়েরা যেন কোনো মানুষ নন।’

ইংলিশ ফুটবলার ইউনিয়নের গত মাসের এক প্রতিবেদন অনুসারে জানা গেছে, প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুম শুরুর পর প্রায় তিন হাজার বাজে গালি দেওয়া খুদে বার্তা পাঠানো হয়েছে ৪৪ জন শীর্ষ সারির বর্তমান ও সাবেক ফুটবলারকে। এই বাজে গালির মধ্যে ম্যানচেস্টার সিটির রহিম স্টার্লিংয়ের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী মন্তব্যও আছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0