বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে এখনো পর্যন্ত ৯ বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। চারটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ভারতের ৪ জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশের জয় মাত্র একটি। যেকোনো টুর্নামেন্টে এটিই বাংলাদেশের সর্বশেষ জয়। সে জয় এসেছে ১৮ বছর আগে, ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে ভারতকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এর পর জয়ের কাছাকাছি গেলেও জয়ের স্বাদ আর ভারতের বিপক্ষে পাওয়া হয়নি বাংলাদেশের।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ এক আকর্ষণীয় লড়াই। সেই ১৯৯৫ সাল থেকে দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের এ লড়াইয়ে দুই দলের খেলা ছড়িয়েছে আকর্ষণ। তৈরি করেছে টুকরো-টুকরো নানা ঘটনা। আরও একটি লড়াইয়ের আগে, অতীতে ফিরে সেই স্মৃতিগুলোর রোমন্থন এই দুই দেশের ফুটবল লড়াইয়ের রোমাঞ্চের কথাই বলে দেয়...

মিজানের সেই হেড জাল স্পর্শ করল না

১৯৯৩ সালে প্রথম সাফে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ। তখন অবশ্য এ টুর্নামেন্টের নাম ছিল সার্ক গোল্ডকাপ। ১৯৯৫ সাফে দ্বিতীয় সার্ক গোল্ডকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল শ্রীলঙ্কায়। সেবার সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। কলম্বোর সুগাথাদাসা স্টেডিয়ামে সে লড়াইটা ছিল শ্বাসরুদ্ধকর। নির্ধারিত ৯০ মিনিট আর পরে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট দুই দলই ছিল সমানে-সমান। পরে ম্যাচটি টাইব্রেকারে হেরে যায় বাংলাদেশ। সে ম্যাচে বাংলাদেশের বড় আক্ষেপ হয়ে আছে স্ট্রাইকার মিজানুর রহমানের একটি হেড। ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ দিকে মিজানের হেডটি ভারতীয় গোলকিপারকে পুরোপুরি পরাভূত করলেও গোল লাইন থেকে তা বাঁচিয়ে দেন ভারতের এক ডিফেন্ডার। টাইব্রেকারে হেরে যাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই সেই হেডটি হয়েছিল বড় এক আক্ষেপের নাম।

default-image

হঠাৎ ভেঙে পড়ল বাংলাদেশের রক্ষণ

তত দিনে সার্ক গোল্ডকাপের নাম বদলে রাখা হয়েছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। নেপালের কাঠমান্ডুতে আয়োজিত সেবারের সাফে গ্রুপ পর্বেই ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। আর দশটা বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের মতোই এ ম্যাচে লড়াই চলছিল সমানে-সমান। বাংলাদেশ গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল, গোল করতে পারত ভারতও। ম্যাচের ৭৪ মিনিটে সব প্রতিরোধ ভেঙে গোল করে বসেন ভারতের আইএম বিজয়ন। কিন্তু ওই একটা ম্যাচই যে বাংলাদেশের রক্ষণকে পুরোপুরি বিধ্বস্ত করে দেবে, সেটি আর কে ভেবেছিল। ৭৬ মিনিটেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন বিজয়ন। ৮৮ মিনিটে বাইচুং ভুটিয়া বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ভারতের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করে। ১৯৭৮ সালে ব্যাংকক এশিয়ান গেমসে ভারতের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। ১৯৯৭ সালের সাফে ৩-০ গোলের হারটিই ভারতের বিপক্ষে এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার।

‘গোল্ডেন বয় মতিউর মুন্না’

২০০৩ সালের জানুয়ারি মাস। কনকনে শীতে কাঁপছিল গোটা বাংলাদেশ। এর মধ্যে ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ছড়িয়েছিল উত্তাপ। নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটানকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে যায় বাংলাদেশ বেশ দাপটের সঙ্গেই। কিন্তু গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিতে বাংলাদেশ পায় অন্য গ্রুপের রানার্সআপ, প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে। কঠিন ম্যাচ, সন্দেহ নেই। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম সেদিন উপচে পড়েছিল দর্শকে। উদ্দীপ্ত বাংলাদেশ ৭৭ মিনিটে রোকনুজ্জামান কাঞ্চনের গোলে এগিয়ে গেলে গোটা স্টেডিয়াম হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। কিন্তু বাংলাদেশের ভাগ্য ছিল খারাপ। ৮১ মিনিটে চুনহার গোলে সমতায় ফেরে ভারত। ম্যাচ গড়ায় অতিরক্তি সময়ে। সে সময় গোল্ডেন গোলের আইন ছিল ফুটবল দুনিয়ায়। মানে, অতিরিক্ত সময়ে যে দল আগে গোল করবে, জয় তুলে নেবে তারাই। ৯৮ মিনিটে মতিউর রহমান মুন্না হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের ‘গোল্ডেন বয়’। তাঁর গোল্ডেন গোলেই বাংলাদেশ ভারতকে ২-১ গোলে হারিয়ে উঠে যায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে।

default-image

ভারতে শুরু, ভারতে শেষ

১৯৯৯ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ভারতের গোয়ায়। বাংলাদেশ সেবার শুরুর ম্যাচেই মুখোমুখি হয়েছিল ভারতের। দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র করেছিল জুয়েল রানার বাংলাদেশ। গোল করতে পারার সেই চিরায়ত ব্যর্থতায় সেদিন বাংলাদেশ গোল পায়নি। তবে ভারতীয় রক্ষণকে দুই দিক দিয়ে ব্যতিব্যস্ত রেখেছিলেন বাংলাদেশের দুই প্লেমেকার জাকির হোসেন ও রকিব হোসেন। ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হলেও গোটা টুর্নামেন্টের আত্মবিশ্বাস বাংলাদেশ সে ম্যাচ থেকে ভালোভাবেই তুলে নিয়েছিল। গ্রুপ পর্বে পরের ম্যাচে পাকিস্তানকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয়। সেমিতে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশ পৌঁছে যায় ফাইনালে। ভারতের সঙ্গেই ফাইনালে দেখা হয় বাংলাদেশের। আত্মবিশ্বাস থাকলেও সে ম্যাচে বাংলাদেশের সর্বনাশ করেন বাইচুংয়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় আক্রমণভাগ। ২৬ মিনিটে ব্রুনো কুতিনিয়োর গোলে এগিয়ে যায় ভারত। ৪৪ মিনিটে বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে দেন বাইচুং নিজেই। সে ম্যাচে একটি পেনাল্টি পেয়েও গোল করতে পারেনি বাংলাদেশ।

default-image

ছেত্রীর সর্বনেশে ফ্রি-কিক

২০১৩ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শুরুটা বাংলাদেশের হয়েছিল ভুলে যাওয়ার মতোই। কাঠমান্ডুতে নেপালের কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল লোডভিক ডি ক্রুইফের বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে শুরুর ম্যাচের ব্যর্থতাটা কাটিয়ে উঠতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে লড়াইটাও করেছিল দুর্দান্ত। ৮২ মিনিটে আতিকুর রহমান মিশুর গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ৮ মিনিট কোনোমতে কাটিয়ে দিতে পারলেই দারুণ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়া যেত। কিন্তু বাংলাদেশের সর্বনাশ হয় যোগ করা সময়ের একবারে শেষ দিকে। ৯০ মিনিট শেষ হওয়ার পর ৫ মিনিট যোগ করেছিলেন রেফারি। শেষ মুহূর্ত বাংলাদেশের ডি বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পায় ভারত। কুশলী সুনীল ছেত্রী সেই ফ্রি-কিক কাজে লাগান দারুণভাবে। তাঁর শট পরাস্ত করে বাংলাদেশের গোলকিপার মামুন খানকে। ভারতের বিপক্ষে আরেকটা জয় পেতে পেতেও বেরিয়ে যায় হাত ফসকে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন