default-image
>ইতালিয়ান সিরি ‘আ’ তে গত রাতে নিজেদের মাঠে এসি মিলানের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে নাপোলি

তাঁকে মিলানের সন্তানই বলা চলে। এক যুগের বেশি সময় ধরে খেলে গেছেন রোজোনেরিদের হয়ে। মিলানের যুব ও মূল দলের কোচও ছিলেন বছর দুয়েক। শেষমেশ প্রিয় ক্লাবে টিকতে পারেননি, এখন আছেন নাপোলিতে। আর নাপোলিতে আসার পর সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই লাল-কালোদের জিততে দেননি জেনারো গাত্তুসো।

নিজেদের মাঠ স্তাদিও সান পাওলোতে এসি মিলানকে ২-২ গোলে আটকে দিয়েছে নাপোলি। তবে গাত্তুসোর একটু অতৃপ্তি থাকতেই পারে। তাঁর দল যে গোটা ম্যাচেই দুর্দান্ত খেলেছে!

স্তেফানো পিওলির অধীনে মিলান গত রাতে নেমেছিল ৪-২-৩-১ ছকে। গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোনারুমার সামনে দুই সেন্টারব্যাক আলেসসিও রোমানিওলি ও সিমোন কায়ের, দুই ফুলব্যাক হিসেবে আন্দ্রেয়া কন্তি ও এই মৌসুমেই রিয়াল মাদ্রিদ থেকে যোগ দেওয়া ফরাসি লেফটব্যাক থিও হার্নান্দেজ। মাঝমাঠে আইভোরি কোস্টের ফ্র্যাঙ্ক কেসির সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন আলজেরিয়ার ইসমায়েল বেনেসার। আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডে তুরস্কের হাকাল চালহানোলুর দুপাশে ব্রাজিলের লুকাস পাকেতা ও ক্রোয়েশিয়ার আনতে রেবিচ। সবার সামনে সুইডেনের ইব্রাহিমোভিচ।

গত সপ্তাহেই চ্যাম্পিয়ন জুভেন্টাসকে ৪-২ গোলে হারানো মিলানকে ঠেকাতে নাপোলি আশ্রয় নিয়েছিল ৪-৩-৩ ছকের। ইতালিয়ান গোলরক্ষক আলেক্স মেরেতের সামনে সুই সেন্টারব্যাক কালিদু কুলিবালি ও নিকোলা মাকসিমোভিচ, দুই ফুলব্যাক জিওভান্নি দি লরেঞ্জো ও পর্তুগালের মারিও রুই। মিডফিল্ডে ছিলেন স্পেনের ফাবিয়ান রুইজ, স্লোভাকিয়ার স্তানিস্লাভ লোবোতকা ও পোল্যান্ডের জিয়েলিনস্কি। আক্রমণভাগে যথারীতি দ্রিয়েস মের্তেন্স, লরেঞ্জো ইনসিনিয়া ও হোসে কায়েহন।

শুরু থেকেই মিলানকে চেপে ধরে নাপোলি। দুই উইং দিয়ে একের পর এক আক্রমণ শাণিয়ে যাচ্ছিলেন মের্তেন্স-জিয়েলিনস্কি-ইনসিনিয়ারা। তবে বারবারই প্রতিহত হচ্ছিলেন জিয়ানলুজি দোনারুমা নামের মানবদেয়ালের সামনে। স্রোতের একদম বিপরীতে থেকে ২০ মিনিটে উইঙ্গার রেবিচের ক্রসে লেফটব্যাক থিও হার্নান্দেজের গোলে এগিয়ে যায় মিলান। গোল খেয়ে যেন আরও ফুঁসে ওঠে নাপোলি। অবশেষে ৩৫ মিনিটে ফুলব্যাক জিওভান্নি দি লরেঞ্জোর গোলে সমতায় ফেরে গাত্তুসোর শিষ্যরা। নাপোলির অধিনায়ক লরেঞ্জো ইনসিনিয়ার মাপা ফ্রি কিকটা ঠিক বুঝে উঠতে পারেননি মিলানের গোলরক্ষক দোনারুমা। সে সুযোগ নিয়েই দলকে সমতায় ফেরান দি লরেঞ্জো।

দ্বিতীয়ার্ধে ৬০ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন গোটা ম্যাচে দুর্দান্ত খেলা মের্তেন্স। ডান প্রান্ত থেকে আসা কায়েহনের নিচু ক্রসে শট করে গোল করেন তিনি। তবে গোলটার জন্য মিলানের গোলরক্ষক দোনারুমা নিজেকে দুষতেই পারেন। গোটা ম্যাচে অসাধারণ খেলা এই গোলরক্ষকের পায়ের ফাঁক দিয়ে বিব্রতকরভাবে বল ঢুকে যায়। চলতি মৌসুমে এই নিয়ে ৯টা গোল হয়ে গেল মের্তেন্সের।

৭২ মিনিটে নিজেদের ডি-বক্সে মিলানের মিডফিল্ডার জাকোমো বোনাভেন্তুরাকে বিপজ্জনকভাবে ফাউল করে বসেন নাপোলির সার্বিয়ান সেন্টারব্যাক নিকোলা মাকসিমোভিচ। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল হয়নি আইভোরি কোস্টের মিডফিল্ডার ফ্র্যাঙ্ক কেসির।

বাকি ম্যাচে আর তেমন কিছুই হয়নি, একটা লাল কার্ডের ঘটনা বাদে। দ্বিতীয়ার্ধে লুকাস পাকেতার জায়গায় তরুণ বেলজিয়ান মিডফিল্ডার আলেক্সিস সালেমেকার্সকে নামিয়েছিলেন মিলান কোচ স্তেফানো পিওলি, খেলছিলেনও বেশ। কিন্তু ম্যাচের শেষ দিকে হুট করে দুবার ফাউল করে দুটি হলুদ কার্ড দেখে বসেন এই উঠতি তারকা। ফলে ১০ জন নিয়ে ম্যাচ শেষ করে মিলান।

এই ড্রয়ে পয়েন্ট টেবিলে দুই দলের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য হয়নি। ৩২ ম্যাচে ৫২ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে আছে নাপোলি, তার চেয়ে দুই পয়েন্ট কম নিয়ে সপ্তমে মিলান। ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে যথারীতি জুভেন্টাস।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন