সাবেক ক্লাবের বুকে ‘ছুরি’ চালালেন রোনালদো-সালাহর সতীর্থ

ম্যাচটা যেহেতু উলভারহ্যাম্পটনের, খেলাটা ‘পর্তুগালময়’ হয়ে থাকাই স্বাভাবিক। এই দলে পর্তুগিজ খেলোয়াড় এতই বেশি, খোদ পর্তুগিজ লিগের অধিকাংশ ক্লাবেরও এত পর্তুগিজ খেলোয়াড় নেই। এমনকি দলকে কোচিংও করান পর্তুগিজ কোচ নুনো এস্পিরিতো সান্তো। গত রাতে তাঁরা নেমেছিল লিভারপুলের বিপক্ষে লিগ ম্যাচ খেলতে, নিজেদের মাঠে লিভারপুলের কাছে হেরেছে ১-০ গোলে। লিভারপুলের হয়ে জয়সূচক গোল করেছেন পর্তুগিজ উইঙ্গার দিওগো জোতা। ফলে ম্যাচটা যেন আরও ‘পর্তুগালময়’ হয়ে উঠল!

এই দিওগো জোতা আবার গত মৌসুম পর্যন্ত উলভারহ্যাম্পটনের ‘পর্তুগিজ-বিপ্লবের’ অন্যতম কান্ডারি ছিলেন। এই মৌসুমেই লিভারপুল তাঁকে দলে এনেছে। এসেই দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন এই পর্তুগিজ উইঙ্গার। মাঝে চোটে পড়ে বেশ কয়েক মাস মাঠের বাইরে থাকার পর এখন আবার ফিরেছেন খেলায়। নেমেই আবারও গোল করা শুরু করেছেন। তাঁর সর্বশেষ গোলেই উলভসের মাঠ থেকে মহামূল্যবান তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে লিভারপুল। সে হিসেবে বলা যায়, সাবেক ক্লাবের বুকে একরকম ছুরিই মেরেছেন জোতা!

প্রথম থেকেই লিভারপুল যে খুব ভালো খেলেছে, বলা যাবে না। বরং জয় তুলে নিতে বেশ কষ্টই করতে হয়েছে তাঁদের। জোতার গোলটিও এসেছে মানে-সালাহর সঙ্গে তাঁর দুর্দান্ত রসায়নের কল্যাণেই। ওটা ছাড়া লিভারপুল যে খুব বেশি উলভসের রক্ষণভাগে ত্রাস সৃষ্টি করতে পেরেছে, বলা যাবে না।

default-image
বিজ্ঞাপন

তবে ম্যাচে লিভারপুলের জয় ছাপিয়ে মুখ্য হয়ে গেছে আরও একটা বিষয়। যথারীতি সেখানেও রয়েছে পর্তুগালের ছোঁয়া। পর্তুগাল জাতীয় দলে রোনালদো-জোতাদের সতীর্থ হিসেবে গোলবার সামলানোর কাজটা করে রুই পাত্রিসিও, বহুদিন ধরেই। তিনিও এখন খেলেন উলভারহ্যাম্পটনের হয়ে। গতকাল খেলতে নেমেছিলেন। মোহাম্মদ সালাহর এক শট আটকাতে গিয়ে সতীর্থ ইংলিশ ডিফেন্ডার কনর কোডির সঙ্গে সংঘর্ষে মাথায় আঘাত লাগে তাঁর। গোলটা অফসাইডের বেড়াজালে বাতিল হলেও পাত্রিসিও আর উঠতে পারেননি। ১৫ মিনিট ধরে মাঠের মধ্যেই তাঁকে শুশ্রূষা দেওয়া হয়েছে, লাভ হয়নি। স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন এই গোলকিপার। পরে তাঁর জায়গায় দলের দ্বিতীয় গোলকিপার জন রুডিকে নামাতে বাধ্য হল কোচ নুনো এস্পিরিতো সান্তো।

ফলে লিভারপুলের জয়, পূর্ণ তিন পয়েন্ট পাওয়া, সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে জোতার গোল—এত কিছু ছাপিয়ে সবাই এখন পাত্রিসিওর জন্যই প্রার্থনা করছেন। ম্যাচ শেষে প্রায় প্রত্যেক লিভারপুল তারকাদের পোস্টেই ফুটে উঠেছে পাত্রিসিওর জন্য সহমর্মিতা।

default-image

পাত্রিসিওর চোট দেখে নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন দলের কোচ এস্পিরিতো সান্তো। কয়েক মাস আগে এমনই এক বাজে মাথার চোটের কারণে মাঠের বাইরে চলে গিয়েছিলেন দলের ম্যাক্সিকান স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেজ। তাঁর খুলিতে ফাটল ধরেছিল। এখন সে সমস্যা ঠিক হলেও দলের হয়ে মাঠে নামার মতো এখনো ফিট হননি এই স্ট্রাইকার। একে তো জোতা নেই, হিমেনেজও চোটে— দলের হয়ে নিয়মিত গোল করেন এমন গুরুত্বপূর্ণ দুজনের অনুপস্থিতিতে উলভসের অবস্থা এই মৌসুমে সঙিন। গত দুই মৌসুমে সপ্তম স্থানে লিগ শেষ করা দলটা এবার ১৩ নম্বরে।

তবে এস্পিরিতো সান্তো জানিয়েছেন, পাত্রিসিও আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে উঠছেন, ‘মাত্রই একটা আপডেট পেলাম ওর ব্যাপারে। ও এখন ঠিক আছে। আমরা এর মধ্যেই কথা বলেছি ওর সঙ্গে। ও ঠিক আছে। মাথার চোট হলে আসলে আমরা সবাই একটু চিন্তিত হয়ে পড়ি। তবে ও সুস্থ হয়ে যাবে।’

পাত্রিসিও তাড়াতাড়ি সুস্থ হলেই রোনালদোদের জন্য ভালো। না হয় সামনে যে ইউরো, শিরোপা ধরে রাখার মিশন পর্তুগালের সামনে! দলের মূল গোলরক্ষক ওই প্রতিযোগিতায় না থাকলে হয়?

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন