default-image
>গত মৌসুমে খালি হাতে ফিরেছে রিয়াল। কিছুই জেতেনি। ট্রফি না জিতলেও মৌসুমের শেষ দিকে দলে ফিরেছেন কোচ জিনেদিন জিদান। যে কোচ তাঁদের টানা তিন চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতিয়েছেন, সে কোচের ওপর ভর করে আবারও সাফল্যবিধৌত মৌসুম কাটাতে চায় রিয়াল। সামনের মৌসুম থেকে রিয়ালের চেহারা কেমন হবে? কেমনই বা হবে জিদানের পরিকল্পনা?

জিনেদিন জিদান যাওয়ার পর হুলেন লোপেতেগি, সান্তিয়াগো সোলারি ঘুরে রিয়াল মাদ্রিদ কোচের চাকরিটা ঘুরেফিরে আবার জিদানের কপালেই জুটেছে। গত মৌসুমে কিছুদিন পরপর কোচ পাল্টানোর মাশুল দিয়েছে রিয়াল। কিছুই জেতেনি তারা। কিন্তু জিদানের নেতৃত্বে আবারও দলের শোকেসে একের পর এক শিরোপা যোগ হতে থাকবে, এমনটাই আশা সমর্থকদের। সে লক্ষ্যে এর মধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন জিদান।

গত মৌসুমের শেষ দিকে জিদান যখন এলেন, তখন মোটামুটি সব শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা শেষ হয়ে গিয়েছিল রিয়ালের। শিরোপা জয়ের চিন্তা না থাকায় জিদান তাই নিশ্চিন্তে শেষ কয়েক সপ্তাহে গোটা স্কোয়াড বাজিয়ে দেখেছেন। সামনের মৌসুমে কাকে কাকে দলে রাখবেন, আর কাকে রাখবেন না, এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। সম্ভাব্য এ পরিকল্পনায় কে, কে আছেন, আর কে কে নেই? নতুন কাকেই বা আনতে চাচ্ছেন জিদান? আসুন দেখে নেওয়া যাক:

গোলরক্ষক
রিয়ালের হয়ে টানা তিন চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী গোলরক্ষক কেইলর নাভাস গত মৌসুম থেকেই বেঞ্চে। দলের মূল গোলরক্ষক হিসেবে এখন আছেন থিবো কোর্তোয়া। এক মৌসুম বেঞ্চে বসে থেকে থেকে বিরক্ত হয়ে গেছেন নাভাস। নাভাসকে বিদায় করে দিয়ে কোর্তোয়াকে পাকাপাকিভাবে দলের মূল গোলরক্ষক বানাচ্ছেন জিদান। নিজের ছেলে লুকা জিদানকে বানাচ্ছেন দলের দ্বিতীয় গোলরক্ষক। দলের তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে রয়েছেন পোল্যান্ডের অ্যান্দ্রি লুনিন। নতুন কোনো গোলরক্ষকের দলে আসার সম্ভাবনা নেই।

দলে থাকছেন : থিবো কোর্তোয়া (বেলজিয়াম), লুকা জিদান (ফ্রান্স), আন্দ্রি লুনিন (পোল্যান্ড)
দল ছাড়ছেন : কেইলর নাভাস (কোস্টারিকা)
নতুন আসছেন/আসতে পারেন : কেউ না

ডিফেন্ডার
দলের মূল সেন্টারব্যাক হিসেবে অধিনায়ক সার্জিও রামোস তো আছেনই। মাঝে শোনা যাচ্ছিল, দলের ফরাসি সেন্টারব্যাক রাফায়েল ভারানে ক্লাব ছাড়াতে পারেন। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, দলে থাকার জন্য ভারানেকে বুঝিয়ে-সুজিয়ে রাজি করিয়ে ফেলেছেন জিদান। জিদানের পরিকল্পনায় তিনি ভালোভাবেই আছেন। পোর্তো থেকে ৫০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ব্রাজিলিয়ান সেন্টারব্যাক এডার মিলিতাওকে নিয়ে আসছেন জিদান। আর বহুদিনের পোড় খাওয়া যোদ্ধা নাচো ফার্নান্দেজ তো আছেনই। রাইটব্যাক হিসেবে যথারীতি থাকছেন দানি কারভাহল। আর কারভাহলের বিকল্প হিসেবে গত মৌসুমে দলে আসা আলভারো ওদ্রিওজোলার জায়গাও পাকা। লেফটব্যাক হিসেবে মার্সেলো ‘যাচ্ছি-যাব’ করলেও শেষ পর্যন্ত থেকে যাচ্ছেন খুব সম্ভবত। মার্সেলোর বিকল্প হিসেবে গত মৌসুমে দুর্দান্ত খেলা সার্জিও রেগুলিয়নের কপাল পুড়েছে। তাঁর রিয়াল ছাড়ার সম্ভাবনা অনেক। রেগুলিয়নের জায়গায় দলের বিকল্প লেফটব্যাক হিসেবে লিওঁ থেকে ফরাসি তারকা ফারল্যান্ড মেন্ডিকে কিনতে পারে রিয়াল। রেগুলিয়ন ছাড়াও দলের অন্যান্য ডিফেন্ডার থিও হার্নান্দেজ ও হেসুস ভালেহোর হাতে ছাড়পত্র ধরিয়ে দিচ্ছেন জিদান।

দলে থাকছেন : সার্জিও রামোস (স্পেন), রাফায়েল ভারানে (ফ্রান্স), নাচো ফার্নান্দেজ (স্পেন), মার্সেলো (ব্রাজিল), দানি কারভাহল (স্পেন), আলভারো ওদ্রিওজোলা (স্পেন)
দল ছাড়ছেন : থিও হার্নান্দেজ (ফ্রান্স), হেসুস ভালেহো (স্পেন), সার্জিও রেগুলিয়ন (স্পেন)
নতুন আসছেন: এডার মিলিতাও (এফসি পোর্তো, ব্রাজিল)
নতুন আসতে পারেন : ফারল্যান্ড মেন্ডি (লিওঁ, ফ্রান্স)

মিডফিল্ডার
দলের মূল একাদশের তিন মিডফিল্ডার টনি ক্রুস, লুকা মদরিচ ও কাসেমিরো—তিনজনের জায়গায়ই পাকা। লুকা মদরিচকে ইন্টার মিলান অনেক চাইলেও জিদান তাঁর ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকাকে ছাড়তে রাজি নন। উরুগুয়ের তরুণ মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভার্দেকেও রাখতে চাইছেন। জিদানের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না রাখার মাশুল দিচ্ছেন স্পেনের মিডফিল্ডার দানি সেবায়োস। দল ছাড়তে হতে পারে তাঁকে। সেবায়োস ছাড়াও মার্কাস ইয়োরেন্তে ও হামেস রদ্রিগেজকে নিয়ে জিদানের কোনো পরিকল্পনা নেই। এত মিডফিল্ডারকে একসঙ্গে ছেড়ে দেওয়ার কারণে দলে নতুন মিডফিল্ডার আনার ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছেন জিদান। এমন একজন মিডফিল্ডার, যিনি মিডফিল্ড থেকে নিয়মিত গোল করতে পারেন। কাসেমিরো, ক্রুস ও মদরিচ যত ভালোই হন না কেন, কেউই নিয়মিত গোল করতে পারেন না। জিদানের লক্ষ্য দলে এমন একজন মিডফিল্ডার আনা, যে নিয়মিত গোল করতে পারবেন। সে লক্ষ্যে বেশ কয়েকজনকে পছন্দ করে রেখেছেন জিদান। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পল পগবা, আয়াক্সের ডনি ফন ডে বিক, টটেনহামের ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের মধ্যে যেকোনো একজন দলে আসতে পারেন। চলে আসতে পারেন জুভেন্টাসের বসনিয়ান মিডফিল্ডার মিরালেম পিয়ানিচও। জিদানের দলে ভবিষ্যৎ নেই ক্রোয়েশিয়ান তারকা মাতেও কোভাচিচেরও। ইসকো আলারকোনকেও এখন আর দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ভাবছেন না জিদান।

দলে থাকছেন : লুকা মদরিচ (ক্রোয়েশিয়া), টনি ক্রুস (জার্মানি), কাসেমিরো (ব্রাজিল), ফেদেরিকো ভালভার্দে (উরুগুয়ে), ইসকো আলারকোন (স্পেন)
দল ছাড়ছেন : মার্কাস ইয়োরেন্তে (স্পেন), দানি সেবায়োস (স্পেন), মাতেও কোভাচিচ (ক্রোয়েশিয়া), হামেস রদ্রিগেজ (কলম্বিয়া), মার্টিন ওডেগার্ড (নরওয়ে)
নতুন আসতে পারেন : ডনি ফন ডে বিক (নেদারল্যান্ডস)/পল পগবা (ফ্রান্স)/ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন (ডেনমার্ক), মিরালেম পিয়ানিচ (বসনিয়া)

ফরোয়ার্ড
গ্যারেথ বেলকে দলে আর রাখতেই চাচ্ছেন না জিদান। একসময়ে যে বেলকে দলবদলের বাজারে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে নিয়ে এসেছিল রিয়াল, সে বেলই এখন দলে অপাঙক্তেয়। বেলের জায়গায় তারকা উইঙ্গার হিসেবে চেলসির এডেন হ্যাজার্ডকে ভালোই মনে ধরেছে জিদানের। যথারীতি মূল স্ট্রাইকার হিসেবে সামনের মৌসুমেও দেখা যাবে করিম বেনজেমাকে। মার্কো অ্যাসেনসিও থাকলেও উইঙ্গার হিসেবে লুকাস ভাসকেজ থাকবেন কি না, বলা যাচ্ছে না। একই অবস্থা গত মৌসুমে দলে আসা ব্রাহিম দিয়াজের। দলে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত নয়। তবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের চিন্তা নেই। জিদানের নেকনজরে আছেন তিনি। আরেক ব্রাজিলীয় উইঙ্গার রদ্রিগো গোয়েসও সামনের মৌসুম থেকে মূল দলে খেলা শুরু করতে পারেন। দল ছাড়তে পারেন স্ট্রাইকার মারিয়ানো দিয়াজ। বোর্হা মায়োরাল ও রাউল দে টমাস কেও দলে আনার ইচ্ছা নেই জিদানের। ফলে নতুন স্ট্রাইকার চাচ্ছেন জিদান। সে ক্ষেত্রে দলে আসতে পারেন জার্মান ক্লাব আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের সার্বিয়ান স্ট্রাইকার লুকা জোভিচ।

দলে থাকছেন : করিম বেনজেমা (ফ্রান্স), ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (ব্রাজিল), মার্কো অ্যাসেনসিও (স্পেন), লুকাস ভাসকেজ (স্পেন), ব্রাহিম দিয়াজ (স্পেন), রদ্রিগো গোয়েস (ব্রাজিল)
দল ছাড়ছেন : মারিয়ানো দিয়াজ (ডমিনিকান প্রজাতন্ত্র), রাউল দে টমাস (স্পেন), গ্যারেথ বেল (ওয়েলস), বোর্হা মায়োরাল (স্পেন)
নতুন আসতে পারেন : এডেন হ্যাজার্ড (বেলজিয়াম), লুকা জোভিচ (সার্বিয়া)

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0