বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত বুধবার আতলেতিকো মাদ্রিদের সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচটায় মারামারি করেই সম্ভবত সব শক্তি ক্ষয় করে ফেলেছিল ম্যানচেস্টার সিটি। মনেই হয়নি মাত্র ছয় দিন আগে প্রিমিয়ার লিগে রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে লিভারপুলের সঙ্গে ২-২ ড্র করেছে যে দলটা, ওটাই খেলছে। ওয়েম্বলিতে আজ তাই ১৭ মিনিটের মধ্যেই আসলে ম্যাচটা মুঠোয় পুরে ফেলে লিভারপুল। একে তো সিটিকে শুরু থেকেই দিশাহীন লাগছিল, তার মধ্যে নবম মিনিটেই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে তারা। অ্যান্ডি রবার্টসনের কর্নারে হেড করে ইব্রাহিম কোনাতে লাল-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দেন ওয়েম্বলির গ্যালারিতে। উড়ে আসা বল বিপদমুক্ত করতে গিয়ে সিটির খেলোয়াড়েরা মার খেয়ে যান আসলে প্রায় সাড়ে ছয় ফুটের কোনাতের উচ্চতার কাছে। এ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলে কর্নার থেকে লিভারপুলের এটা ১৯ তম গোল, প্রিমিয়ার লিগের যে কোনো দলের চেয়ে বেশি। এই ১৯ গোলের সর্বশেষ তিনটাই আবার কোনাতের, তাঁর সর্বশেষ তিন ম্যাচে! দিনকে দিন কর্নার থেকে আসা বলে গোল করার বিশেষজ্ঞই বুঝি হয়ে উঠছেন ফরাসি সেন্টারব্যাক।


পরের গোলটা যেভাবে খেয়েছেন, কখনো রিপ্লে দেখলে নিজেও লজ্জা পাবেন সিটির গোলরক্ষক জ্যাক স্টিফেন। জন স্টোনস প্রায় মাঝ মাঠ থেকে ব্যাক পাস করেছিলেন একা দাঁড়িয়ে থাকা স্টিফেনকে। বল পায়ে নিয়ে কাকে পাস দেবেন এটা যখন ভাবছেন, তখনই দেখলেন দূর থেকে সাদিও মানে দৌড়ে আসছেন। এত সময় পেয়েছেন, চাইলে তখনো কারও দিকে বল বাড়িয়ে ঝামেলামুক্ত হতে পারতেন। কিন্তু সেটা তো করতে পারেনইনি, উল্টো বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারালেন, আর ছুটে আসা মানেও সেই বল কেড়ে নিয়ে পাঠিয়ে দিলেন জালে। লিগে লিভারপুলের বিপক্ষে গত রোববারের ম্যাচেই এ রকম একটা ভুল করতে যাচ্ছিলেন সিটির এক নম্বর গোলরক্ষক এদেরসন। সেদিন তিনি বেঁচে গেলেও আজ স্টিফেন বাঁচতে পারলেন না। ২০১৪ সালের পর এই প্রথম ওয়েম্বলিতে এফএ কাপের কোনো ম্যাচে মাত্র ১৭ মিনিটে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল কোনো দল।

default-image


সিটির ভোগান্তি অবশ্য সেখানেই শেষ হয়নি। বিরতির ঠিক আগে আগে মোহাম্মদ সালাহর সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে থিয়াগো আলকান্তারা বল বাড়ান সাদিও মানের জন্য। ডান পায়ের ভলিতে মানে যে গোলটা করলেন, সেটা অনেক দিন চোখে লেগে থাকার মতো। ১৯৯৬ সালে রবি ফাওলারের পর এই প্রথম লিভারপুলের কোনো খেলোয়াড় এফএ কাপের সেমিফাইনালে জোড়া গোল করলেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সিটির বিপক্ষে ৯ গোল হলো মানের। ২০১৪ সালে তিনি প্রিমিয়ার লিগে যাওয়ার পর আর কোনো খেলোয়াড় সিটিজেনদের বিপক্ষে তাঁর চেয়ে বেশি গোল করেননি।

তিন গোলে পিছিয়ে থেকেও অবশ্য গার্দিওলা বিরতির পর কোনো পরিবর্তন ছাড়াই নামিয়েছেন দলকে। দ্বিতীয়ার্ধের মিনিট দুয়েকের মধ্যেই গোল করে জ্যাক গ্রিলিশ কোচের অন্ধকার চেহারায় কিছুটা আলো ফিরিয়েছেন। কিন্তু ওই পর্যন্তই, আলোটা উজ্জ্বল হয়নি। বরং বলের লড়াইয়ে লিভারপুলের কাছে না পেরে উঠে গায়ের শক্তি দেখানোর চেষ্টা করেছেন ফার্নান্দিনিওরা। জেসুস-গ্রিলিশ সুযোগ নষ্ট করেছেন কয়েকটা। কিন্তু একই কথা বলা যায় লিভারপুলকে নিয়েও। ৭৩ মিনিটে সিটি গোলরক্ষক স্টিফেনকে একা পেয়েও সালাহ যদি সুযোগ নষ্ট না করতেন, সিটিকে আরও বিব্রত হয়ে মাঠ ছাড়তে হতো। শেষ মুহূর্তে সিলভার ওই গোল তাই সান্ত্বনা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেনি গার্দিওলার দলকে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন