default-image

‘চেলসি ও সিটির চেয়েও আমরা মাদ্রিদকে (চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে) বিদায় করে দেওয়ার বেশি কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, কিছু বাজে মুহূর্ত টুর্নামেন্টে আমাদের পথচলা থামিয়ে দিল,’ গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন পচেত্তিনো।

সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা রিয়ালকে হারানোর কাছে যাওয়াকে এভাবে অর্জন হিসেবে দেখবেন কি না, সংশয় আছে। নিলে পচেত্তিনোর সঙ্গে তর্কে জড়াতে পারেন। মিনিটের হিসাবে গেলে পিএসজির চেয়েও তো রিয়ালের বিপক্ষে বেশি সময় এগিয়ে ছিল সিটি! পিএসজি যেখানে দ্বিতীয় লেগের শেষ ৩০ মিনিটে খেই হারিয়েছে, দুই লেগ মিলিয়ে প্রথম ১৫০ মিনিটে এগিয়ে ছিল, সিটি সেখানে রিয়ালের প্রত্যাবর্তনের গল্পের শিকার হয়েছে শেষ দুই মিনিটে! দুই লেগ মিলিয়ে ১৮০ মিনিটের মধ্যে ১৭৮ মিনিটই এগিয়ে ছিল সিটি।

কীভাবে? পিএসজি-রিয়ালের মধ্যে প্রথম লেগে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে এমবাপ্পের গোলে এগিয়ে যায় পিএসজি, দ্বিতীয় লেগেও ৩৯ মিনিটে এমবাপ্পের গোল। ৬১ মিনিটে এক রিয়ালের হয়ে গোল ফেরত দেওয়া বেনজেমা দুই লেগ মিলিয়ে সমতা ফিরিয়েছেন ৭৬ মিনিটে, এর ২ মিনিট পর বেনজেমার হ্যাটট্রিক নিশ্চিত করা গোলেই পিএসজির বিদায়ের গল্প লেখা। অর্থাৎ ২ লেগে মিলিয়ে ৭৭ মিনিটই এগিয়ে ছিল পিএসজি। আর সিটি?

default-image

নিজেদের মাঠে প্রথম লেগে দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যাওয়া সিটি ম্যাচটা জেতে ৪-৩ ব্যবধানে, ম্যাচে কোনো অবস্থায়ই সমতা ফেরেনি। দ্বিতীয় লেগেও মাহরেজের গোলে ৭৩ মিনিটে আরও এগিয়ে যায় সিটি। কিন্তু ৯০ মিনিটে রিয়ালের হয়ে ১ গোল ফেরত দেন রদ্রিগো, যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে সেই রদ্রিগোর গোলেই দুই লেগ মিলিয়ে ফেরে সমতা। অর্থাৎ, প্রথম লেগের প্রথম মিনিট আর দ্বিতীয় লেগে যোগ করা সময়ের এক মিনিট—এই দুই মিনিটই এগিয়ে থাকা হয়নি সিটির!

পচেত্তিনোর দাবি শুনে সে ক্ষেত্রে সিটি সমর্থকদের একটু গোসসা হতেই পারে। যদিও এ নিয়ে কথা বাড়াতেও আপত্তি থাকার কথা সিটির! হেরে যাওয়া দুই দলের মধ্যে কে বেশি সম্মানের সঙ্গে হেরেছে, এই তুলনাই যে হাস্যকর!

পচেত্তিনো কাল কথা বলেছেন আরেক টুর্নামেন্ট ফ্রেঞ্চ কাপ থেকে পিএসজির বাদ পড়া নিয়েও। এমবাপ্পে, নেইমারের সঙ্গে মেসি, রামোসদের নিয়েও এবার শুধু লিগই জিতেছে পিএসজি, যা কাতারি মালিকানায় যাওয়ার পর ১১ মৌসুমে ৮ বারই জিতেছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো ফ্রেঞ্চ কাপেও শেষ ষোলোতে বাদ পড়েছেন মেসিরা।

default-image

নিসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হারের সেই ম্যাচ নিয়েও পচেত্তিনোর বিশ্লেষণ, ‘আমরা দাপট দেখিয়েছি, এমন একটা ম্যাচে শেষ পর্যন্ত পেনাল্টিতে হেরেছি। তার ওপর ওই ম্যাচের সময় জাতীয় দলের সঙ্গে থাকা অনেক খেলোয়াড়কে বলে পাইনি।’

আর্জেন্টাইন কোচের এত বিশ্লেষণেও অবশ্য লাভ হবে বলে মনে হয় না। ফ্রান্সে জোর গুঞ্জন, পিএসজি এই মৌসুম শেষেই পচেত্তিনোকে ছাঁটাই করবে। তাঁর বদলে জিনেদিন জিদানকে আনতে চায় পিএসজি। কিন্তু ফরাসি কিংবদন্তিকে পাওয়া না গেলে? গুঞ্জনে টটেনহামের কোচ আন্তোনিও কন্তে ও আর্জেন্টাইন ক্লাব রিভার প্লেটের কোচ মার্সেলো গাশার্দোর নাম শোনা যাচ্ছে।

পচেত্তিনোর পাশাপাশি এই মৌসুম শেষে পিএসজির সঙ্গে গাঁটছড়া শেষ হয়ে যেতে পারে এমবাপ্পেরও। তাঁর চুক্তিই শেষ হয়ে যাচ্ছে এই মৌসুমে। এরপর আর চুক্তি নবায়ন না করে বিনা মূল্যে এমবাপ্পে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেবেন বলে জোর গুঞ্জন। যদিও আগামীকাল লিগ আঁ-র মৌসুমের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারের অনুষ্ঠানের আগে এমবাপ্পে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন না বলেই অনুমান করা হচ্ছে।

পচেত্তিনোর চাওয়া, ‘আশা করি, ও সেখানে কিছু বলবে না, কারণ এরপর আমরা বাকিরা সবাই কাতার যাব। তবে ও যখনই কিছু বলুক, চাই সেটা যেন (পিএসজির জন্য) ইতিবাচক খবরই হয়।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন