বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এটা অবশ্য খুব তলিয়ে ভেবে বের করে আনা কোনো পর্যবেক্ষণ নয়। কেইন যে এখন টটেনহামে খুব সুখে নেই, সেটা দেখার জন্য নেভিলের মতো বিশেষজ্ঞ চোখের দরকার নেই।

সাধারণ ফুটবলপ্রেমীর চোখেই ধরা পড়ছে সেটা। অন্য বিশেষজ্ঞদের চোখেও নিশ্চয়ই পড়েছে। কিন্তু পার্থক্যটা হচ্ছে, সবাই সব কথা সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন না, নেভিল অনেক সময়ই যেগুলো বলতে পারেন।

default-image

খেলোয়াড় ভালো না থাকলে, খুশি না থাকলে, সেটার প্রভাব তাঁর পারফরম্যান্সে পড়ে। হ্যারি কেইনের ক্ষেত্রেও সেটা হচ্ছে। গত মৌসুমে লিগে প্রথম ছয় ম্যাচেই তাঁর ৫ গোল ছিল, সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছিলেন আরও ৮ গোল।

মৌসুমটা কোথায় শেষ করেছিলেন, সেটাও অজানা নয় প্রিমিয়ার লিগের অনুসারীদের। ২৩ গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুটও টটেনহামের ইংলিশ স্ট্রাইকারই জিতেছিলেন।

এবার এই মৌসুমের দিকে তাকান। ছয় ম্যাচের প্রথমটিতে খেলেননি, বাকি সব কটিতেই মাঠে নেমেছেন। সর্বশেষ চার ম্যাচে খেলেছেন পুরো সময়ই। গোল নেই কোনো, গোলও করাতে পারেননি।

শুধু গোল করা বা করানোর কথা না হয় বাদই থাকুক। প্রতিপক্ষের গোলমুখেই যে শট নিতে পারছেন না ঠিকঠাক। পাঁচ ম্যাচে মোটে ৯টি শট নিয়েছেন, এর মধ্যে লক্ষ্যে ছিল মাত্র ৫টি শট। গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেননি একটিও। এ কোন কেইন!

দুই মৌসুমের মাঝামাঝি কী এমন হয়েছে যে হ্যারি কেইনের পারফরম্যান্সের রেখা এত নিম্নগামী? আসলে দলবদলের সময় কেইন টটেনহাম ছেড়ে যেতে চেয়েছিলেন। তাঁকে পেতে খুবই আগ্রহী ছিল ম্যানচেস্টার সিটি। ১০ কোটি ব্রিটিশ পাউন্ড পর্যন্ত খরচ করতে রাজি ছিল পেপ গার্দিওলার দল। কিন্তু সিটির সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন টটেনহাম। একবার নয়, একাধিকবার সিটিকে ফিরিয়ে দিয়েছে টটেনহাম।

টটেনহামের সঙ্গে কেইনের বর্তমান চুক্তি ২০২৪ সাল পর্যন্ত। সুতরাং ক্লাব না চাইলে কেইনের দলবদলের সুযোগ নেই। কিন্তু কেইন ভেবেছিলেন, টটেনহাম তাঁর ইচ্ছার প্রতি সম্মান দেখাবে। ইংলিশ স্ট্রাইকারের দাবি, টটেনহামের মালিক ড্যানিয়েল লেভির সঙ্গে ও রকমই একটি অলিখিত ‘ভদ্রলোকের চুক্তি’ ছিল তাঁর।

কেইনের ক্লাব ছাড়তে চাওয়ার কারণও অযৌক্তিক কিছু ছিল না। তিনি ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার, প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। এমন একজন অবশ্যই চাইবেন, লিগ শিরোপার জন্য লড়তে পারে এমন কোনো দলে খেলতে।

অবশ্যই চাইবেন ইউরোপের সেরা ক্লাবের টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়নস লিগে বড় বড় খেলোয়াড়ের মুখোমুখি হতে। কিন্তু এই মৌসুমে টটেনহাম সে রকম দল নয় আসলে। লিগে সেরা চারে থাকার আশাই বাড়াবাড়ি মনে হচ্ছে, ইউরোপে তো খেলছে তৃতীয় ধাপের টুর্নামেন্ট উয়েফা কনফারেন্স লিগে। কেইনের মাপের খেলোয়াড়কে সেখানে দেখাটা কিছুটা হতাশাজনক তো বটেই।

কিন্তু কেইনের সেই ইচ্ছাকে সম্মান দেখায়নি টটেনহাম। তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধেও রেখে দিয়েছে ক্লাবে। আর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো খেলোয়াড়কে রেখে দিলে সেটার ফল কী হয়, তা তো দেখাই যাচ্ছে। সিটির ১০ কোটি পাউন্ডের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়াটা টটেনহামের মালিক লেভির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল কি না, সেই প্রশ্ন তাই এখন জোরেশোরেই শোনা যাচ্ছে।

ওই টাকা পেলে টটেনহাম বরং বেশ কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড় কিনতে পারত, দলটা পুনর্গঠন করতে পারত। তা না করে এখন জোর করে কেইনকে রেখে দেওয়া খেসারতই দিচ্ছে টটেনহাম। কেইনের এমন বাজে ফর্ম যদি চলতে থাকে, তাহলে পরের দলবদলে তাঁকে কেনার জন্য এত টাকা অন্য কোনো ক্লাব দিতে চাইবে কি না, সেটাও একটা প্রশ্ন। তখন কিন্তু আম-ছালা দুটোই যাবে টটেনহামের।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন