ইএসএলের পক্ষে নন ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা।
ইএসএলের পক্ষে নন ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা। ছবি: রয়টার্স

চাপ, চাপ আর চাপ। পাহাড়সমান চাপ ধেয়ে যাচ্ছে ইউরোপিয়ান সুপার লিগে নাম লেখানো ৬টি ক্লাবের দিকে। সমর্থকেরা চাপ দিচ্ছেন, সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা চাপ দিচ্ছেন। চাপ দিচ্ছেন ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার থেকে শুরু করে ফুটবল–পণ্ডিতেরা। চাপ ধেয়ে যাচ্ছে সরকারের দিক থেকেও। চেলসি, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি, টটেনহাম, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও আর্সেনাল—ইংল্যান্ড থেকে ইউরোপিয়ান সুপার লিগে নাম লিখিয়েছে এ ছয়টি দল।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক তারকা গ্যারি নেভিল মনে করেন এই ছয় দলের মধ্যে পাহাড়ের মতো চাপের কাছে ভেঙে পড়বে চেলসি ও ম্যানচেস্টার সিটি। কেন আর কীভাবে এ দুটি দল চাপের কাছে হেরে ইউরোপিয়ান সুপার লিগ থেকে বেরিয়ে আসতে পারে, সে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার। এমনকি দলের সিনিয়র খেলোয়াড়সহ লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপও মালিকপক্ষকে ইউরোপিয়ান সুপার লিগ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য চাপ দিতে পারেন বলে মনে করেন নেভিল।

বিজ্ঞাপন
default-image

চেলসি, ম্যান সিটি বা লিভারপুল—একবার যদি কোনো ক্লাব ইএসএল থেকে বেরিয়ে আসে তাহলেই আবার সব ঠিক হয়ে যাবে বলে মনে করেন নেভিল। কেন তিনি নিজের সাবেক দল ম্যান ইউনাইটেড চাপে ভাঙবে না বলে মনে করেন, আর কেনই–বা তিনি ম্যান সিটি শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী লিগে যাবে না বলে মনে করেন সেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক রাইটব্যাক। নেভিলের কথা, ‘ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মালিক জোয়েল গ্লেজার এত সহজে ফিরবে না। ইয়ুর্গেন ক্লপ আর তাঁর সিনিয়র খেলোয়াড়েরা এফএসজি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। ম্যান সিটি মনে হচ্ছে চাপে ভেঙে পড়বে। বাকি তিন দল অন্যদের অনুসরণ করবে।’

ম্যান সিটির মালিক আবুধাবির বিশিষ্ট ধনকুবের শেখ মনসুর বিন জাবেদ আল নাহিয়ান। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটি তিনি কিনে নেওয়ার পর যে একটা সুনাম কুড়িয়েছেন, সেটা তিনি বিদ্রোহী লিগে যোগ দিয়ে নষ্ট করতে চাইবেন না বলে মনে করেন নেভিল, ‘আবুধাবির লোকগুলো কেন একটা ফুটবল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে। তারা পশ্চিম ম্যানচেস্টারে যা করেছে, সেটা তো অবিশ্বাস্য। তারা এখানে একটি লিগ্যাসি তৈরি করেছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক কারণে। তারা কেন বিদ্রোহী লিগে যোগ দেবে। তাদের তো অর্থের প্রয়োজন নেই। তাদের পেপ গার্দিওলার মতো অসাধারণ একজন কোচ আছে। সিটির ওদিক থেকে গুটিয়ে যাওয়াই উচিত।’

default-image

লিভারপুল ও ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার জেমি কারাঘারের বিশ্বাস, কোনোভাবে যদি প্রিমিয়ার লিগের ছয় দলের একটি সুপার লিগ থেকে সরে দাঁড়ায় তাহলেই বিদ্রোহী এ লিগ ভেঙে পড়বে। এরই মধ্যে কারাঘার লিভারপুলের কোচ ক্লপ আর মিডফিল্ডার জেমস মিলনারের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি মোটামুটি নিশ্চিত কোনো না কোনোভাবে সুপার লিগের বিরুদ্ধ কেউ না কেউ রুখে দাঁড়াবে, ‘সবার কাছ থেকে (ক্লপ আর মিলনারের মতো) একই প্রতিক্রিয়া দরকার।’

ক্লপের মতো সুপার লিগে মজতে পারছেন না ম্যান সিটির কোচ গার্দিওলাও। সুপার লিগের ফরম্যাট দেখে তাঁর মনে হয়েছে এগুলো ‘ফুটবল খেলার মধ্যেই পড়ে না।’ বিষয়টি নিয়ে কাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিবাদ জানিয়ে যাচ্ছে ইংল্যান্ডের ফুটবলপ্রেমীরা। চেলসির সমর্থকেরা তো কোনোভাবেই তাদের দলের এভাবে বিদ্রোহী লিগে যোগ দেওয়া মেনে নিতে পারছে না। প্রতিবাদে মুখর হয়েছে ম্যান সিটি, ম্যান ইউনাইটেড, টটেনহাম, আর্সেনালের সমর্থকেরাও।

বিজ্ঞাপন
default-image

ফুটবলপ্রেমী আর দলগুলোর সমর্থকদের সঙ্গে যেন একাত্মতা ঘোষণা করেছেন খেলোয়াড়েরা। সুপার লিগ নয়, তাঁদের কাছে চ্যাম্পিয়নস লিগের মূল্য বেশি বলেই জানিয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পর্তুগিজ তারকা ব্রুনো ফার্নান্দেজ ও আর্সেনালের সাবেক মিডফিল্ডার মেসুত ওজিলসহ অনেকেই। লিভারপুলের অধিনায়ক জর্ডান হেন্ডারসন আজ রাতে প্রিমিয়ার লিগের বিভিন্ন দলের অধিনায়ক ও খেলোয়াড়দের নিয়ে বিশেষ সভা ডেকেছেন।

দেখা যাক, এত প্রতিবাদের তোড়েও বিদ্রোহী ফুটবল লিগটা দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, নাকি প্রতিবাদের স্রোতে ভেসে যায়!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন