বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

১৩তম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের লিগভিত্তিক ম্যাচের শেষ দিন আগামীকাল। বিদায়ের রাগিণী আস্তে আস্তে বাজতে শুরু করেছে। আজ দুপুর থেকে শুরু হলো চার দলের সংবাদ সম্মেলন। চার দলই অভিন্ন সুরে ফাইনালে খেলার ব্যাপারে আশার কথা বলে গেল।

ভারতের বিপক্ষে মালদ্বীপের ড্র হলেও চলছে। আবার বাংলাদেশের বিপক্ষে ড্র করলে নেপাল উঠবে ফাইনালে। জিততেই হবে এমন পরিস্থিতি বাংলাদেশ ও ভারতের।

বাংলাদেশ কোচ অস্কার ব্রুজোন বরাবরাই আশার কথা বলেন, জয় শব্দটাই তাঁর মুখে শোনা যায় বেশি। স্প্যানিশ এই কোচ সংবাদ সম্মেলনে নিজ দলকে উজ্জীবিত করেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। আত্মবিশ্বাসের খই ফুটল তাঁর মুখে। আজও ব্যতিক্রম হয়নি।

default-image

মালে জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই বললেন, ‘মালদ্বীপের বিপক্ষে আমরা ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম দ্বিতীয়ার্ধে। টানা ৭ দিনে ৩ খেলা কষ্টকর ছিল। তবে এখন আমরা ৫ দিন বিশ্রাম পেয়ে সতেজ হয়েছি। ছেলেরা শারীরিক, মানসিকভাবে দারুণ অবস্থায় আছে। সবাই শক্তি সঞ্চয় করেছে। নেপালের বিপক্ষে ঝাঁপাতে আমরা তৈরি।’

কিন্তু বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডদের পায়ে গোল নেই। টুর্নামেন্টে দুটি গোলই দুই ডিফেন্ডারের। কাজেই অঘোষিত সেমিফাইনালে গোলের বিকল্প নেই। এ নিয়ে কী ভাবছেন? নেপালের বিপক্ষে দুই স্ট্রাইকার খেলানো হবে?

ব্রুজোন বলেন, ‘আমরা প্রথম মিনিট থেকেই গোলের জন্য ঝাঁপাব। ২ জন স্ট্রাইকার খেলাব কি না, সেটা এখানে বলতে চাই না। তবে এটা বলতে পারি, সুযোগ থাকলে আমি ৪ জন স্ট্রাইকার নামিয়ে দিতাম।’

আগের তিন ম্যাচে বাংলাদেশ ৪ পয়েন্ট পেলেও প্রতিপক্ষ রক্ষণে তেমন নাড়া দিতে পারেনি। ফরোয়ার্ডরা এমন কিছু করতে পারেননি, যাতে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা ভয় পাবেন। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ব্রুজোনের উত্তর, ‌‘টুর্নামেন্টে একটি–দুটি গোল বাদে বাকিগুলো প্রতি আক্রমণ বা সেট পিসে হয়েছে। এমন নয় যে সবাই আক্রণাত্মক খেলে গোল করছে। আমরা মালদ্বীপ ম্যাচে প্রতিপক্ষকে মাঝমাঠে খেলার জায়গা দিয়েছি। নেপাল ম্যাচে এই সুযোগ দেওয়া যাবে না। অবশ্যই নেপালের বিপক্ষে আমাদের ফরোয়ার্ডরা আশা করি ভালো খেলবে এবং গোল পাবে।’

default-image

নেপালের ফুটবলাররা অনেক বেশি ধারালো। সুযোগ পেলেই গোল করতে পারেন। সেটা মাথায় রেখে বাংলাদেশ কোচ বলছেন, ‘ওরা অনেক বেশি ক্ষুরধার। বল পেলে বিপজ্জনক হতে পারে। মাঝমাঠে ওদের জায়গা দেব না। এ নিয়ে আমরা সতর্ক থাকব। ফলে নেপালের বিপক্ষে আমাদের খেলার ধরনটা একটু রদবদল করতে হবে।’

অতীতে দেখা গেছে, নেপালের বিপক্ষে জিততেই হবে—এমন ম্যাচে বাংলাদেশ চাপে থাকে। ভালো কিছু করতে পারে না। তবে অতীত একপাশে রেখে বাংলাদেশ কোচ বললেন, ‘আমি জানি না অতীতে কী হয়েছে। তবে এই সাফে আমরা দেখিয়েছি বাংলাদেশের ফুটবল শেষ হয়ে যায়নি। ফুটবলাররা সেরাটা দিতে তৈরি। ওরা নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করতে পারলে আমরা জিতব আশা করি।’

ব্রুজোন এক প্রশ্নের অনেক লম্বা উত্তর দেন। টেনে আনেন অনেক প্রসঙ্গ। নেপাল ম্যাচ সামনে রেখে যেমন বললেন, ‘নেপালকে হারিয়ে আশা করি আমরা নতুন দিন আনব। এটা হবে আমাদের নতুন যাত্রা।’ সেই নতুন যাত্রা থামাতে তৈরি নেপাল। সংবাদ সম্মেলনে নেপালের কাছে কিরণ শ্রেষ্ঠা বললেন, ‘আমাদের ড্র হলেই চলবে। কাজেই লক্ষ্য পূরণে যেমন ফুটবল খেলা দরকার সেভাবেই আমরা খেলব।’

স্বাগতিক মালদ্বীপের কোচ আলী সুজাইন বেশ চাপে আছেন। ভারতের সঙ্গে ড্র হলেও চলবে তাঁর দলের। তবে ভারতের কাছে হারের শঙ্কাও আছে মালদ্বীপের। সেই অদৃশ্য চাপ সামলে মালদ্বীপ কোচ বলে গেলেন, ‘গ্যালারিতে আসা সমর্থকেরা আমাদের দ্বাদশ খেলোয়াড়। তাদের উৎসাহ–উদ্দীপনা আমাকে ফাইনালে তুলে নেবে আশা করছি।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন