default-image

এর আগেও লিগের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে গোল করে বার্সেলোনাকে রক্ষা করেছিলেন। রক্ষা করলেন গতকালও। তাঁর শেষ মুহূর্তের হেডেই লেভান্তের মাঠে ধুঁকতে থাকা বার্সেলোনা পুরো তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছেড়েছে, জিতেছে ৩-২ গোলে। চোখের বালি থেকে লুক ডি ইয়ংও হয়ে গেছেন চোখের মণি।

শুধু লেভান্তেই নয়, গ্রানাদা, এসপানিওল, মায়োর্কার বিপক্ষে ম্যাচগুলোতেও এভাবে শেষ মুহূর্তে গোল করে দলকে বাড়তি পয়েন্ট এনে দিয়েছেন ডি ইয়ং। যে পয়েন্টগুলো বার্সেলোনা যে আদৌ পাবে—ম্যাচ চলার সময় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মনে হয়নি মোটেও। মায়োর্কার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে তাঁর গোলে বার্সা জিতেছে ১-০ ব্যবধানে, গ্রানাদার বিপক্ষে এনে দিয়েছেন ১-১ গোলের ড্র, এসপানিওলের বিপক্ষে ২-২ গোলের ড্রয়েও শেষ গোলটা তাঁরই।

সব মিলিয়ে এবার লিগে ৬ গোল করেছেন ডি ইয়ং, যার ৪টিই এমন মহাগুরুত্বপূর্ণ। এই চার ম্যাচে বার্সাকে বাড়তি ৬ পয়েন্ট এনে দিয়েছেন ডাচ স্ট্রাইকার। যে ছয় পয়েন্টের কল্যাণে বার্সেলোনা এখন পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। যে ৬ পয়েন্টের সাহসে বার্সেলোনা এখনও ১২ পয়েন্ট বেশি নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থাকা রিয়াল মাদ্রিদকে টপকে লিগ জয়ের অবিশ্বাস্য স্বপ্নও দেখে! জাভি তো ম্যাচ শেষে শিরোপার স্বপ্নের প্রশ্নে বলেই দিলেন, ‘কঠিন, কারণ রিয়াল মাদ্রিদ খুব কমই পয়েন্ট হারায়। তবে ওরা যদি আগামী দুই সপ্তাহে কিছু পয়েন্ট হারায়, তাহলে আমাদের বিশ্বাসটা আরেকটু জোর পাবে।’

লুক ডি ইয়ংয়ের কল্যাণে বার্সেলোনা আরেকটা চমকপ্রদ রেকর্ডেও নাম লিখিয়েছে। স্প্যানিশ লা লিগার এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত হেডে সবচেয়ে বেশি গোল করেছে বার্সেলোনা—১৫টি। বল দখলে রাখার ফুটবলে অভ্যস্ত বার্সেলোনার কাছ থেকে এত বেশি হেডে গোল দেখা যাবে, কে ভেবেছিল? লুক ডি ইয়ং নিজে ভেবেছিলেন কি না কে জানে। ভাবুন না ভাবুন, কাল বার্সাকে ড্র এনে দেওয়া হেডে ২০১৫-১৬ সালে লুইস সুয়ারেজ হেডে ৫টি গোল করেছিলেন, ডি ইয়ং সে রেকর্ডটাও ছুঁয়েছেন গতকাল।

default-image

ডি ইয়ংয়ের কীর্তি বাদ দিলে ম্যাচটা বার্সেলোনার ভঙ্গুর রক্ষণের বিজ্ঞাপনই হয়ে থাকবে। তিন-তিনটি পেনাল্টি হজম করেছে বার্সা এ ম্যাচে—নিজেদের ইতিহাসে লিগে এর আগে কখনো এক ম্যাচে এত পেনাল্টি বিপক্ষে যেতে দেখেনি কাতালানরা। কোনোটায় দানি আলভেজ, কোনোটায় এরিক গার্সিয়া, আবার কোনোটায় ফরাসি ডিফেন্ডার ক্লেমঁ লংলে দায়ী ছিলেন পেনাল্টির জন্য।

তিন পেনাল্টির দ্বিতীয়টিতে অবশ্য গোল করতে পারেনি লেভান্তে, সেটি ঠেকিয়ে দিয়েছেন বার্সা গোলকিপার টের স্টেগেন। ওই পেনাল্টিতেও গোল হলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যেত লেভান্তে! ৫২ মিনিটে পিছিয়ে পড়া বার্সাকে সমতায় ফেরান পিয়েরে-এমেরিক অবামেয়াং, এরপর পেদ্রির গোলে বার্সার এগিয়ে যাওয়া—সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে ৩ গোল হলো পেদ্রির। ৮৩ মিনিটে আবার পেনাল্টি থেকে গোলে ম্যাচে সমতা ফেরায় লেভান্তে, এরপর তো যোগ করা সময়ে ডি ইয়ংয়ের দারুণ গল্প লেখা!

যদিও দলের পারফরম্যান্সে খুশি নন জাভি, ‘সোনালি তিনটি পয়েন্ট আমাদের লড়াইয়ে রেখেছে। আমরা এখনো পয়েন্ট তালিকার দুই নম্বরে, হোঁচট খাওয়া চলবে না আমাদের। তবে আমরা ভালো না খেলেও জিতে গেলাম।’

৩০ ম্যাচ শেষে ৬০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছে বার্সেলোনা। এক ম্যাচ বেশি খেলে ৭২ পয়েন্ট শীর্ষে থাকা রিয়ালের।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন