২০১৮ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শহীদুলের হাত ফসকানো গোলেই কপাল পুড়েছিল বাংলাদেশের।
২০১৮ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শহীদুলের হাত ফসকানো গোলেই কপাল পুড়েছিল বাংলাদেশের। ছবি: প্রথম আলো

সেই দুঃস্বপ্ন আজও তাড়িয়ে বেড়ায় তাঁকে। ভুলতে পারেন না নেপালের বিপক্ষে বারের নিচে দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্য ভুলটা। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে নেপালের ফ্রি-কিক বাংলাদেশ গোলরক্ষক শহীদুল আলমের (সোহেল) হাতের ফাঁক গলে চলে যায় জালে।

গোলরক্ষকেরা ভুল করতেই পারেন। তবে ২০১৮ সালে ৮ সেপ্টেম্বর নেপালের সঙ্গে শহীদুলের সেই ভুল মানতে পারেননি কেউ। নেপালকে প্রথম গোল উপহার দেন তিনিই। ম্যাচের ৯০তম মিনিটে আরেকটি গোল খেয়ে সাফ ফুটবল থেকে টানা চতুর্থবার বিদায় নেয় বাংলাদেশ। অথচ নেপালের সঙ্গে সেদিন ড্র করলেই বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উঠে যেত। কিন্তু তা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

১৩ ও ১৭ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে নেপালের সঙ্গে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ। তবে মূল দলে জায়গা পেতে অন্য তিন গোলরক্ষকের সঙ্গে পরিশ্রম করছেন আবাহনীর গোলরক্ষক শহীদুল। ৩৪ জন থেকে ২০ জনের মূল দলে শহীদুলের থাকা নিয়ে সংশয় নেই। প্রশ্ন হচ্ছে একাদশে থাকবেন কি না। সাবেক ফুটবলার ইউসুফ বলির ছেলে শহীদুল অবশ্য কোচের মনে আস্থা জাগাতে নিজের কাজটা করে চলেছেন। তাঁর কি নেপালের সঙ্গে আগের সেই ভুল মনে পড়ে?

default-image

আজ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অনুশীলনের পর ঠিক এই প্রশ্নটাই হলো। উত্তরও বোধ হয় আগেই ভেবে রাখেন শহীদুল, ‘ওই ভুলটা সব সময়ই মনে থাকবে। ফুটবল ছাড়ার পরও হয়তো ভুলতে পারব না। ওই ভুল জীবনেরই একটা অংশ হয়ে গেছে। যেখানেই যাই, ভুলটা সব সময়ই মনে পড়ে। এমনকি প্রতিটি রাত মনে পড়ে। জাতীয় দলের গোলরক্ষকের এমন ভুল কাম্য নয়। আর এমন ভুল যেন না হয়, সেভাবেই অনুশীলন করছি এবং করব।’

বিজ্ঞাপন

১: ১ অবস্থায় বাংলাদেশে এখনো অন্যতম সেরা গোলরক্ষক শহীদুল। তবে বাতাসে তাঁর কিছু সমস্যা আছে। বলের গতিবিধি বুঝতে গোলমাল হয়ে যায়। বাতাসে বল নিয়ে এখন কাজ করছেন নতুন ব্রিটিশ গোলরক্ষণ কোচ লেস ক্লিভলি। তাঁর ক্লাসে অনেক কিছু শেখার কথা বলছেন শহীদুল, ‘নতুন গোলরক্ষক কোচের সঙ্গে মাত্র তিনটি সেশন করেছি। আমি বলার আগেই তিনি আমার সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করছেন। এতে আমি উপকৃত হচ্ছি।’

default-image

নেপালের সঙ্গে একাদশে সুযোগ পাবেন কি? এই প্রশ্নে তাঁর কথা, ‘খেলোয়াড় হিসেবে সব সময়ই চাই দলে থাকতে। তারপর একাদশে থাকার মতো নিজেকে তৈরি করি। আশা করি, মূল দলেও থাকব।’ শহীদুলের বিশ্বাস বিগত দিনের ভুলগুলো আর না করলে তাঁকে একাদশে রাখবেন কোচ। নেপালের সঙ্গে এই সিরিজে ভালো নেপুণ্য দেখাতে চান।

তাহলে আগের ভুল মন থেকে কিছুটা হলেও সরাতে পারবেন মনে করেন। তবে নেপালের সঙ্গে সামনের দুটিকে ম্যাচকে ভিন্নভাবে দেখছেন চট্টগ্রামের ছেলে, ‘নেপালের সঙ্গে ২০১৮ সালের ম্যাচটি ছিল সাফ টুর্নামেন্টে। এখন প্রীতি ম্যাচ। দুটির চাপ আলাদা। তবে কোচ সুযোগ দিলে ১০০ থেকে ২০০ ভাগ দেব।’

আমিনুলের অবসরের পর গত কয়েক বছরে জাতীয় দল সেভাবে নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক পায়নি। আশরাফুল ইসলামের ওপর জেমি কোচ কিছুটা ভরসা রাখেন। গত কিছু ম্যাচে আশরাফুলই ছিলেন একাদশে। আগের চেয়ে তিনি ভালো করছেন। তবে নেপালের বিপক্ষে দুটি ম্যাচে শেষ পর্যন্ত কে থাকবেন একাদশে?

নতুন গোলকিপার কোচ বলছেন, ‘এই দলে ৪ গোলকিপারের ৪ জনের ভিন্ন উচ্চতা, ভিন্ন শরীর এবং ভিন্ন মানসিকতার। কাজেই আমি এখনই বলতে পারব না এক নম্বর কে? ওদের নিয়ে আমাকে আরও কাজ করতে হবে।’

বিজ্ঞাপন
default-image

ম্যাচে চাপের মুখে গোলরক্ষকেরা কেমন করছেন, সেটা আজ অনুশীলনে পরখ করলেন গোলরক্ষণ কোচ। আশরাফুল ইসলাম, শহীদুল আলম, আনিসুর রহমান ও পাপ্পু হোসেনে নিয়ে তাঁর মুখে প্রশংসাই বেশি। তবে উচ্চতা, শারীরিক সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতায় অন্যদের চেয়ে বেশ পিছিয়ে নবাগত পাপ্পু হোসেন। মূল দলে তাঁরই বাদ পড়ার সম্ভবনাই বেশি। তবে দলে থাকার ব্যাপারে আশা ছাড়ছেন না পাপ্পু, ‘চার কিপারের লড়াই হচ্ছে। আমি চেষ্টা করছি দলে থাকতে।’

শহীদুলের মূল দলে থাকা নিয়ে প্রশ্ন নেই। গোলরক্ষণ কোচ বলছেন, ‘আমি জানি ওর খারাপ সময় গেছে। আমি তাকে সহায়তা করছি। এবং অনুশীলনে সে ভালো করছে। গোলরক্ষকেরা ভুল করছে, আমি সেটা ধরিয়ে দিচ্ছি। বড় সমস্যাটা হয়েছে অনেক দিন খেলায় নেই। ফলে সিদ্ধান্ত নিতে ভুল হয়। এটা নিয়ে কাজ করছি। ম্যাচ খেলতে হবে। ম্যাচই হচ্ছে খেলার মূল জায়গা।’

বাংলাদেশের ৪ গোলরক্ষকের সঙ্গে চার দিন কাজ করে তাঁর মনে হয়েছে, বাংলাদেশের গোলরক্ষকেরা পরিশ্রম করছেন। তাঁরা টেকনিক্যালি কিছুটা ভালো। তবে উন্নতির অনেক সুযোগ আছে। এক নম্বর কে, এখনই সেই হিসাবে তিনি যাচ্ছেন না। তাই একাদশে আসতে শহীদুলের সামনে দরজাটা এখনো খোলাই। নেপালের সঙ্গে সুযোগ পেলে এবং ভালো খেললে হয়তো ২৬ মাস আগের দুঃস্বপ্ন কিছুটা হলেও ভুলতে পারবেন।

মন্তব্য পড়ুন 0