বার্সেলোনাকে উদ্ধার করতে মেসিকে কাল নামতেই হলো বেতিসের বিপক্ষে।
বার্সেলোনাকে উদ্ধার করতে মেসিকে কাল নামতেই হলো বেতিসের বিপক্ষে।ছবি: রয়টার্স

বার্সেলোনা কোচ রোনাল্ড কোমান হয়তো ভেবেছিলেন, লিওনেল মেসিকে মাঠে না নামিয়েই রিয়াল বেতিসের মাঠ থেকে জয় নিয়ে আসা সম্ভব। কিন্তু না, বার্সাকে উদ্ধার করতে মেসিকে নামতেই হলো। মেসি নামার পরেই নিশ্চিত হলো, চোখ রাঙিয়ে রিয়াল বেতিসের কোনো লাভ নেই। পুরো ৩ পয়েন্ট পকেটে পুরেই বাড়ি ফিরবে কাতালানরা। প্রথমে পিছিয়ে পড়েও বেতিসকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা।

শুধু মেসি নন, মূল একাদশে ছিলেন না ডাচ্‌ মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংও। তাঁদের জায়গায় ড্যানিশ স্ট্রাইকার মার্টিন ব্রাথওয়াইট আর বসনিয়ান মিডফিল্ডার মিরালেম পিয়ানিচের ওপর ভরসা রেখেছিলেন কোমান। কিন্তু বেশিক্ষণ ডি ইয়ংকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখতে পারেননি কোমান। উরুগুইয়ান সেন্টারব্যাক রোনালদ আরাউহোর চোটের কারণে মাত্র ১১ মিনিটেই মাঠে নামতে হয় এই ডাচ্‌ তারকাকে। প্রথমে সেন্টারব্যাক হিসেবে খেললেও ম্যাচের শেষ দিকে স্যামুয়েল উমতিতি নামার পর আস্তে আস্তে মিডফিল্ডে খেলা শুরু করেন এই তারকা।

প্রথম থেকেই বেতিসের লেফটব্যাক অ্যালেক্স মোরেনো বেশ ভয়ংকর কিছু ক্রস দিয়ে ত্রাস ছড়াচ্ছিলেন বার্সা রক্ষণভাগে। ২৫ মিনিটে স্ট্রাইকার বোর্হা ইগলেসিয়াসের এক ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোল করতে ব্যর্থ হন ভিক্তর রুইজ। এর কিছুক্ষণ পরেই লেফটব্যাক জর্দি আলবার ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে সহজ একটা গোল করতে ব্যর্থ হন ফরাসি সেন্টারব্যাক ক্লেমঁ লংলে।

default-image
বিজ্ঞাপন

৩৮ মিনিটে বার্সার এক ঘরের ছেলেই যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ান। ব্রাজিলিয়ান রাইটব্যাক এমারসন এই মৌসুমে বার্সা থেকে ধারে খেলছেন বেতিসে। মাঝমাঠ থেকে ফরসি মিডফিল্ডার নাবিল ফেকিরের পাস ধরে ডান প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত এক ক্রস দেন সেন্টার ফরোয়ার্ড বোর্হা ইগলেসিয়াসের দিকে লক্ষ্য করে। ট্যাপ-ইনে গোল করতে একদমই সমস্যা হয়নি এই স্প্যানিশ স্ট্রাইকারের। এই অগ্রগামিতা নিয়েই বিরতিতে যায় বেতিস।

কোমান ততক্ষণে বুঝে গিয়েছেন, ম্যাচের গতিপথ পাল্টাতে মেসিকে নামানো ছাড়া বিকল্প নেই। দ্বিতীয়ার্ধের কয়েক মিনিটের মধ্যেই বেশ কয়েকটা পরিবর্তন আনেন এই ডাচ্‌ কোচ। ব্রাথওয়াইট, রিকি পুচ, পিয়ানিচ—সবাইকে মাঠ থেকে তুলে নামান মেসি, পেদ্রি ও ফ্রানসিস্কো ত্রিনকাওকে। মেসি নামেন ৫৭ মিনিটের দিকে। দুই মিনিটের মধ্যেই দলকে সমতায় ফেরান দলের অধিনায়ক। ডান প্রান্ত থেকে ফরাসি উইঙ্গার ওসমানে দেম্বেলের পাস থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে বেতিস গোলরক্ষক জোয়েল রবলেসকে পরাস্ত করেন মেসি। সমতায় ফেরে বার্সেলোনা।

এই নিয়ে লিগ মৌসুমে মেসির গোল হয়ে গেল ১৩টি। সেভিয়ার স্ট্রাইকার ইউসেফ এন-নেসেইরির সঙ্গে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। শীর্ষে আছেন মেসিরই পরম বন্ধু সুয়ারেজ, একটা গোল বেশি নিয়ে।

এর পরের ১০-১৫ মিনিট ম্যাচে উত্তেজনা বজায় রাখার কাজটা একাই করে গেছে বেতিসের স্প্যানিশ সেন্টারব্যাক ভিক্তর রুইজ। ৬৮ মিনিটে মেসির দুর্দান্ত এক পাস ধরে বক্সে ক্রস করেন আলবা, গ্রিজমানকে সামলাতে গিয়ে উল্টো সেই ক্রস থেকে নিজেদের জালে বল ঢুকিয়ে দেন রুইজ। ৭৫ মিনিটে সেই রুইজই আবার সমতায় ফেরান বেতিসকে। নাবিল ফেকিরের ফ্রি-কিকে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন।

৮৭ মিনিটে বেতিস রক্ষণের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে গোল করেন পর্তুগিজ উইঙ্গার ফ্রানসিস্কো ত্রিনকাও।

এই জয় নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করল বার্সেলোনা। কিন্তু শীর্ষে থাকা আতলেতিকোর চেয়ে এখনো ৭ পয়েন্ট পিছিয়ে তারা। আতলেতিকো খেলেছেও দুটি ম্যাচ কম। এবার লিগের লড়াইয়ে আতলেতিকোকে হারাতে হলে তাই নিজেদের দুর্দান্ত ফর্মের পাশাপাশি আতলেতিকো যেন বাজে খেলে—সেই প্রার্থনাই করতে হবে বার্সেলোনাকে।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন