সেদিন বালোতেল্লি থাকলে...

উত্তর মেসিডোনিয়ার কাছে হারের পর হতাশ ইতালির খেলোয়াড়েরাছবি: রয়টার্স

ম্যাচের ৬৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে ছিল। গোলের চেষ্টায় শট ছিল ৩২টি, এর মধ্যে ৫টি গোলপোস্টে ছিল। অন্য সময়ে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে কর্নার আদায় করে নিয়েছে ১৬টি। উত্তর মেসিডোনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে কী করেনি ইতালি? কিন্তু যেটি সবচেয়ে প্রয়োজন ছিল, মহামূল্যবান সেই গোলই শুধু পায়নি রবার্তো মানচিনির দল। বেরার্দি, ইম্মোবিলে, ইনসিনিয়ে, জর্জিনিওরা মিলে ৯০ মিনিটে একটি গোল এনে দিতে পারেননি ইতালিকে।

অন্যদিকে উত্তর মেসিডোনিয়া ইতালির বিপক্ষে বলের দখল পেয়েছে মাত্র ৩৫ শতাংশ সময়ে। কোনো কর্নার পায়নি। শট নিয়েছিল মাত্র ৪টি, যার দুটি তারা লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে। সেই দুটি শটের একটি থেকেই মহামূল্যবান গোল পেয়ে যায় তারা। আর সেই গোলে ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইপর্বের প্লে-অফ সেমিফাইনালে ইতালিকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে উত্তর মেসিডোনিয়া উঠেছিল ফাইনালে। তবে ইতালি গলে মারিও বালো তেল্লি নামে একজন থাকলে নাকি এমন কিছু হতো না।

আরও পড়ুন
ইতালির স্ট্রাইকার মারিও বালোতেল্লি
ফাইল ছবি

ইতালি চমকে দিলেও উত্তর মেসিডোনিয়ার স্বপ্নপূরণ হয়নি। প্লে-অফের ফাইনালে পর্তুগালের কাছে হেরে বিশ্বকাপে যাওয়া হয়নি তাদের।

সে যা–ই হোক, ফুটবল বিশ্বের আলোচনা উত্তর মেসিডোনিয়াকে নয়। সেটা হওয়ার কথা নয়। টানা দুবার বিশ্বকাপে ইতালির যেতে না পারার বিস্ময়ে বিমূঢ় গোটা ফুটবল বিশ্ব। আলোচনা চলছে ইতালির গোল না পাওয়া নিয়ে। সিরি ‘আ’র চলতি মৌসুমে ২১ গোল নিয়ে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা ইম্মোবিলে আর ১৪ গোল নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা বেরার্দি দলে থাকতেও কেন এমন হলো!

ইতালি দলে ব্রাত্য হয়ে পড়া স্ট্রাইকার মারিও বালোতেল্লি মনে করেন, তিনি দলে থাকলে হয়তো এমনটা হতো না। বর্তমানে তুরস্কের লিগে আদানা দেমিরস্পোরের হয়ে খেলা বালোতেল্লিকে ইতালির বিশ্বকাপে যেতে না পারা নিয়ে প্রশ্ন করেছিল স্কাই স্পোর্ত ইতালিয়া। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘এখন কথা বলাটা অনেক সহজ। কিন্তু ম্যাচের আগে তো আমার কথা কেউ ভাবেনি!’

আরও পড়ুন
কে কাকে সান্ত্বনা দেবেন! উত্তর মেসিডোনিয়ার কাছে হারার পর ইতালি দলে ছড়িয়ে পড়ে হতাশা
ছবি: রয়টার্স

ইতালির হয়ে ৩৬ ম্যাচ খেলে ১৪ গোল করেছেন বালোতেল্লি। কিন্তু ২০১৪ সালের নভেম্বরের পর ইতালি দলে ব্রাত্য হয়ে পড়েন ইন্টার মিলান, এসি মিলান ও লিভারপুলের সাবেক তারকা। ২০১৪ সালের নভেম্বরের পর ইতালি দলে আবার ডাক পান ২০১৮ সালের মে মাসে। তাঁকে দলে ডেকেছিলেন মানচিনিই। ২০১৪ বিশ্বকাপের পর প্রথম তিনি ইতালির হয়ে খেলেন ২০১৮ সালের ২৮ মে। সৌদি আরবের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জেতা প্রীতি ম্যাচে একটি গোলও করেন।

এরপর আবার দলের বাইরে চলে যান বালোতেল্লি। চার বছর পর আবার তাঁকে মানচিনি দলে ডাকেন এ বছরের জানুয়ারিতে। কিন্তু ইতালির হয়ে খেলা হয়নি তাঁর। সে আক্ষেপ থেকেই হয়তো বালোতেল্লি বলেছেন, ‘আমি ম্যাচটি দেখেছি। গোলের সুযোগ এসেছিল। গোলের সামনে আমি নিজেকে খুব ভালোই বলব। তবে এটা বলছি না যে আমি থাকলে ম্যাচটা আমরা জিততামই। কিন্তু এটা সত্যি যে গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছিল।’

মানচিনির অধীনে ২০২০ ইউরোর শিরোপা জিতেছে ইতালি। কিন্তু দলকে বিশ্বকাপে নিয়ে যেতে না পারায় তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকেই প্রকাশ করছেন সংশয়। বালোতেল্লি অবশ্য মানচিনিকে রেখে দেওয়ার পক্ষেই ভোট দিলেন, ‘আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলিনি। তাঁর সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো। তিনি কোচ হিসেবে থেকে যাচ্ছেন বলে আমি খুশি। তিনি এরই মধ্যে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন।’

আরও পড়ুন
ইতালির কোচ হিসেবে রবার্তো মানচিনি থেকে যাবেন, এটাই চাইছেন বালোতেল্লি
ছবি: রয়টার্স

মানচিনির পক্ষে কথা বলতে গিয়ে একটি বিষয় সবাইকে মনে করিয়ে দিলেন বালোতেল্লি, ‘এটা ঠিক যে মানুষ হতাশ হয়েছে। বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে যেতে না পরার দুঃখ আছে। কাতারে আমাদের না থাকতে পারাটা কষ্টের। কিন্তু এটা ভুললে চলবে না যে অল্প সময়ের মধ্যে তিনি ইতালিকে শক্তিশালী একটি দলে পরিণত করেছেন। কেউ তো আশাও করেনি যে ইতালি ২০২০ ইউরো জিতবে। মানচিনি অসাধারণ কাজ করেছেন। ইতালির কোচ তাঁরই থাকা উচিত। আমি খুশি যে তিনি থাকছেন।’

জিয়ান পিয়েরো ভেনতুরার অধীনে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে যেতেও ব্যর্থ হয়েছিল ইতালি। এরপর ভেনতুরাকে বরখাস্ত করে লুইজি দি বিয়াজিওকে অন্তর্বর্তীকালিন কোচ করে ইতালির ফুটবল ফেডারেশন। বিয়াজিও কিছুদিন চালানোর পর ইতালির কোচ হিসেবে নিয়োগ পান মানচিনি। তাঁর অধীনে ইউরো জয়ের পাশাপাশি ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকে ইতালি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে যেটা টানা অপরাজিত থাকার রেকর্ড। মানচিনির অধীনে ৪৮টি ম্যাচ খেলে ৩১টিতেই জিতেছে ইতালি। বাকি ১৭ ম্যাচের ১৩টি করেছে ড্র, হেরেছে ৪টি।

আরও পড়ুন