default-image

খাগড়াছড়ি শহর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরের গিরিফুল। এই শান্ত পাহাড়ি এলাকার আলো-হাওয়ায় বেড়ে উঠেছে সেনারি চাকমা। মা কণিকা চাকমা ও বাবা বানমোহন চাকমা। ১১ সদস্যের পরিবারে বাবা ও ছোট এক ভাই অসুস্থ। তিন ভাই দিনমজুরি খাটেন। টানাপোড়েনের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। এই রকম পরিবেশে তিন কক্ষের ভাঙা একটা বাড়িতে সেনারির বেড়ে ওঠা।

সেনারি বলল, ‘আয়-রোজগার কম, দুই বেলা খাবার জোগাড় করতেই কষ্ট হয়ে যায়, এমন একটা পরিবারের ফুটবল খেলা ছিল বিলাসিতা। এক জোড়া বুটও আমার ছিল না, একটা জার্সি কেনার টাকাও ছিল না। অভাবের কারণে প্রায় সময় স্কুলেও যাওয়া হতো না। কিন্তু হাল ছাড়িনি। ২০১৯ সালে যখন চেঙ্গী একাডেমিতে ভর্তি হই, তখন পরিবার থেকে স্টেডিয়ামে যাওয়ার জন্য ৪০ টাকা গাড়ি ভাড়া দিতে অনেক কষ্ট হতো। ৩ কিলোমিটার হেঁটে খেলতে যেতাম।’

তবে এখন সেনারি চাকমার অবস্থার অনেক বদল হয়েছে, তার পাশে দাঁড়িয়েছেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপচন্দ্র বিশ্বাস। ইউরোপে যাওয়ার খবর শুনে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছেন। লেডিস ক্লাবের সভাপতি দীপান্বিতা বিশ্বাস খাগড়াছড়ি বাজারে নিয়ে গিয়ে কিনে দিয়েছেন জামা, জুতাসহ নানান সামগ্রী। সেনারিদের বাড়িটাও নতুন করে গড়া হচ্ছে। বাড়ির সামনে ইট, বালু আর সুরকি রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসন এই নির্মাণসামগ্রী দিয়েছে। সহযোগিতার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল সেনারি চাকমা।

খাগড়াছড়ি জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক ও সেনারির ফুটবল কোচ ক্যংহলাসাই চৌধুরী বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে সেনারি চাকমার খেলা তিনি দেখেছিলেন। এরপর ২০১৯ সালের তাঁর চেঙ্গী ফুটবল একাডেমিতে ভর্তি হতে আসে। কিন্তু ফুটবলের প্রতি তার অগাধ প্রেম ছিল। টান ছিল। প্রতিভাও ছিল। এ কারণে তাকে সাধ্যমতো শিখিয়েছেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, ইউরোপ থেকে প্রশিক্ষণ শেষে জাতীয় দলে সুযোগ পাবে সেনারি।

সেনারির ইউরোপে যাওয়ার খবর এখন গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামের লোকেরা ভাবতেই পারেননি, মেয়েটি একদিন ফুটবল খেলবে, দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও যাওয়ার সুযোগ পাবে। গ্রামবাসী ও আত্মীয়স্বজন বেশ উচ্ছ্বসিত। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাসের মনেও যেন আনন্দের সীমা নেই। তিনি বলেন, সেনারি চাকমা খাগড়াছড়ির গর্ব। সহায়তা করলে সে অনেক দূর যাবে। পাহাড়ের আনাচে-কানাচে সেনারি চাকমার মতো যেসব প্রতিভা আছে, তাদের লালন করতে হবে। তবেই এসব প্রতিভার বিকাশ ঘটবে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন