বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সাধারণত একটি ফুটবল দলের মানদণ্ড বোঝা যায় তাদের রক্ষণভাগের চিত্র দেখে। প্রতিপক্ষের পায়ে বল থাকলে ডিফেন্ডাররা গতিবিধি বুঝে মাঠে দাঁড়াতে পারেন কি না, বল কেড়ে নেওয়ার জন্য যে যাচ্ছেন, তাঁকে সহায়তা করার মতো পেছনে সঠিক ভূমিকায় কেউ আছেন কি না— সাধারণত এসব বিষয়ে চোখ রাখলেই বোঝা যায় একটা দলের প্রাথমিক মানদণ্ড। এই বিচারে কাল অন্তত সেশেলসকে দেখে মনে হয়েছে ‘আনাড়ি’ একটা দল, যাদের রক্ষণভাগে শৃঙ্খলার বড্ড অভাব।

default-image

তবে সেই সেশেলসের খেলোয়াড়েরাই যদি বাংলাদেশের রক্ষণভাগের দিকে আঙুল তোলেন, কী জবাব দেবেন তপু বর্মণ, টুটুল হোসেন বাদশারা? ফুটবলের এই যুগে গোল ঠেকানো তো শুধু নির্দিষ্ট করে রক্ষণভাগের কাজ নয়। নিজেদের বিপৎসীমা নিরাপদ রাখতে পুরো দলকেই রক্ষণ সামলাতে হয়। আধুনিক ফুটবলে দলের ফরোয়ার্ডই প্রথম ডিফেন্ডার।

অর্থাৎ, অন্যান্য বিভাগের খেলোয়াড়দের ওপরও নির্ভর করে রক্ষণভাগের সাফল্য-ব্যর্থতা। কাল ডিফেন্ডার তপু, টুটুল, ইয়াসিন আরাফাতরা যেন একটু বেশিই খামখেয়ালিপনা করে ফেলেন! দ্বিতীয়ার্ধে সেশেলস যদি সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারত, বাংলাদেশকে হারাতে পারত কয়েক গোলের ব্যবধানে।

কাল কলম্বোর রেসকোর্স স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা প্রতিপক্ষকে অফসাইড ফাঁদে ফেলতে গিয়ে নিজেরাই কয়েকবার বিপদ ডেকে এনেছেন। এমন নয় যে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়েরা গতি বা রক্ষণচেরা পাসে কৌশলগতভাবে অফসাইড ফাঁদ ভেঙে বিভ্রান্ত করেছেন। আসলে টুটুল, সুশান্ত ত্রিপুরারা নিজেদের প্রাথমিক কর্তব্যই ঠিকমতো পালন করতে পারেননি।

তাঁদের খেলা দেখে মনে হচ্ছিল ম্যান মার্কিং গণিতের কঠিনতম কোনো সূত্র, যা মাঠে নেমে ভুলে গিয়েছেন খেলোয়াড়েরা। অযথা হাত তুলে অফসাইডের দাবিতে দাঁড়িয়ে গিয়ে তাঁরা প্রতিপক্ষকে করে দিয়েছেন গোলের সুযোগ। জানা আছে, ডিফেন্ডাররা কখন হাত তুলে দাঁড়িয়ে যায়? সোজা বাংলায়, যখন আর শরীর চলে না।

default-image

বাংলাদেশের গোল হজমের দৃশ্যটা মনের রিপ্লেতে আরও একবার চালিয়ে নিন। সেখানে ভেসে উঠবে—রক্ষণভাগ থেকে অনায়াসে পোস্টে শট নিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেওয়া ব্রান্ডন রশিদের হাসি। পরে তপু, টুটুল ও ইয়াসিন আরাফাত একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে ইশারায় দোষারোপ করলেন। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে। এমন শিশুসুলভ ভুলে গোলটা তো আরও আগেই হজম করতে পারত বাংলাদেশ!

দ্বিতীয়ার্ধের ৪৭ মিনিটে গোলের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি নষ্ট করে সেশেলস। রক্ষণভাগ থেকে সতীর্থ স্ট্রাইকার জোসিপ হেনরির উদ্দেশে বাতাসে ভাসানো পাস দিয়েছিলেন সেশেলস ডিফেন্ডার। দুই সেন্টারব্যাক টুটুল ও তপুর মাঝ থেকে বের হয়ে বলের নিয়ন্ত্রণে গিয়ে প্রথম স্পর্শেই পোস্টে শট নিয়েছিলেন হেনরি। অথচ ‘ম্যান মার্কিং ও কাভারিং’ ঠিক রাখতে পারলে বলের নাগাল পাওয়ার কথা ছিল না তাঁর। শেষ পর্যন্ত গোলকিপার আনিসুর রহমানের বদৌলতে রক্ষা।

ভুল থেকে শিক্ষা নেননি সেন্টারব্যাক টুটুল-তপু জুটি। পরের মিনিটেই তাঁদের মধ্যে থেকে আবারও হেলেদুলে বেরিয়ে গেলেন হেনরি। প্রথমে অফসাইডের আবেদন করে হাত তুলে দাঁড়িয়ে গেলেন টুটুল। কিন্তু তাতে কী আর কাজ হয়!

তপু-টুটুলকে দেখে মনে হচ্ছিল বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো। একজন বল দখলের লড়াইয়ে গেলে আরেকজনকে যে পেছনে গিয়ে দাঁড়িয়ে সমর্থন দিতে হবে, তা ভুলে গিয়ে করোনাকালে সামাজিক দূরত্ব মেনে দাঁড়ানোর মতো দাঁড়িয়ে থাকলেন। এমন দৃশ্য তো দেখা গেল বেশ কয়েকবার।

default-image

খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দক্ষতার মানদণ্ড বোঝা যায় বলে প্রথম স্পর্শে। গুরুপূর্ণ জায়গায়, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জামাল ভূঁইয়া ও রাকিব হোসেন বল নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে প্রথমার্ধে বাংলাদেশের নামের পাশে গোল থাকতে পারত আরও দুটি। কিন্তু কাল চোখের জন্য বিরক্তিকর ছিলেন ফরোয়ার্ডরা। বল পেলেই অহেতুক পেছনে পাস দিয়েছেন। সেটাও যদি ভালোভাবে করতে পারতেন সাদ উদ্দিন, রাকিব হোসেনরা। বাতাসে উড়িয়ে ব্যাকপাস দেখার মতো বালাই ফুটবলে আর নেই!

সব মিলিয়ে ১৯৯ র‌্যাঙ্কিংয়ে থাকা সেশেলস যদি দাবি করে, বাংলাদেশ তাদের চেয়েও দুর্বল, এতে অবাক হওয়ার তো কিছু নেই। তবে শেষ বাঁশি বাজার পর সেশেলসের খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষায় ম্যাচ জিততে না পারার যে হতাশা দেখা গেল, সেটাই বোধ হয় বাংলাদেশের ফুটবলের মানদণ্ড।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন