ম্যাসন মাউন্টের গোলের পর চেলসি খেলোয়াড়দের উদযাপন।
ম্যাসন মাউন্টের গোলের পর চেলসি খেলোয়াড়দের উদযাপন।ছবি: এএফপি

খেলা হচ্ছে নিরপেক্ষ ভেন্যু সেভিয়ায়। কাল রাতে কোয়ার্টার ফাইনাল প্রথম লেগটি ছিল চেলসির জন্য ‘অ্যাওয়ে ম্যাচ’। সোনার দামে বিকোনো অ্যাওয়ে গোল আর জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে ইংলিশ ক্লাবটি। তাদের কাছে ২–০ গোলের হারে চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে ওঠার পথে বড় ধাক্কাই খেল পর্তুগিজ ক্লাব পোর্তো।

চেলসি দুটো গোল পেয়েছে সম্পুর্ণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের সৌজন্যে। ৩২ মিনিটে জর্জিনহোর পাস চেলসির ২২ বছর বয়সী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ম্যাসন মাউন্ট।

বল পেয়েই ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে পুরো উল্টো ঘুরে যান তিনি। এতে সামনে ফাঁকা জায়গা পেয়ে যান। কোনাকুনি শটে তাঁর করা গোলটি ছিল দর্শনীয়।

বিজ্ঞাপন

নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ৫ মিনিট আগে বেন চিলওয়েলের গোলটিও ছিল দেখার মতো। বাঁ প্রান্তে পোর্তো ডিফেন্ডার বল ঠিকমতো রিসিভ করতে পারেননি।

পায়ে লেগে সামনে পড়ে বলটি। চিলওয়েল তা ধরে দৌড় শুরু করেন পোর্তোর বক্স লক্ষ্য করে। দুজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলটি করেন চেলসি লেফটব্যাক। ১৩ এপ্রিল সেভিয়াতেই অনুষ্ঠিত হবে ফিরতি লেগ।

লিগে ওয়েস্ট ব্রমউইচের কাছে পাঁচ গোল হজম করে ইউরোপসেরার আসরে নেমেছিল চেলসি। রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেললেও সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ছাড়েনি টমাস টুখেলের দল। এতে দুই ইংলিশ ফুটবলার মাউন্ট ও চিলওয়েল অগ্রণী ভূমিকা রেখে পুরোনো এক নজির মনেও করিয়ে দিলেন।

চ্যাম্পিয়নস লিগে নাপোলির বিপক্ষে ২০১২ সালে চেলসির হয়ে সর্বশেষ গোল করেছিলেন দুজন ইংলিশ ফুটবলার—ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড ও জন টেরি। ৯ বছর পর মাউন্ট ও চিলওয়েলের সৌজন্যে আবারও ফিরে এল ‘ইংলিশ’ স্মৃতি।

তবে চেলসির গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দির কথা আলাদা করে বলতেই হয়। গত জানুয়ারিতে টুখেল চেলসির কোচ হয়ে আসার পর থেকেই দারুণ পারফর্ম করছেন তিনি।

এ সময় ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগ মিলিয়ে আর কোনো গোলরক্ষক সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তাঁর চেয়ে বেশি ‘ক্লিন শিট’ ধরে রাখতে পারেনি। সময়ের হিসাবে ৭০০ মিনিট তিনি কোনো গোল হজম করেননি। দ্বিতীয়ার্ধে পেপের হেড দারুণভাবে রুখে দেন তিনি। পোর্তো স্ট্রাইকার মউসা মারেগাকেও নিরাশ করেছেন মেন্দি।

ম্যাচ শেষে পোর্তো কোচ সার্জিও কনসেইকাও বলেন, ‘ফলটা আমাদের জন্য নির্মম। কিন্তু দিন শেষে গোল করাই মুখ্য, আমরা তা করতে পারিনি।’ চেলসি কোচ টুখেলের ভাষ্য, ‘আমরা একসঙ্গে বেশ কিছু ম্যাচ জিতেছি, আবার হেরেছিও। এবার একসঙ্গে হারের (ওয়েস্টব্রম) পর জিতলাম। এতে একে অপরের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা বেড়েছে।’

দুটো গুরুত্বপূর্ণ অ্যাওয়ে গোল ঝুলিতে থাকায় ফিরতি লেগে স্বাভাবিকভাবেই মনস্তাত্ত্বিকভাবে এগিয়ে থাকবে চেলসি। সেমিফাইনালে উঠতে পারলে রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা লিভারপুলের মুখোমুখি হতে হবে তাদের।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন