এবারের প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে ৮–১০ কোটি টাকায় দল গড়েও জিততে পারছিল না শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। টানা সাত ম্যাচ পর আজ তারা পেয়েছে জয়ের স্বাদ। প্রথম পর্বে ১১ ম্যাচে তাদের জয় মাত্র দুটি। প্রথম দুই ম্যাচ ড্র।

তৃতীয় ম্যাচে মুন্সিগঞ্জে বিতর্কিত পেনাল্টিতে সাইফ স্পোর্টিংকে হারানোর পর টানা পাঁচ হারে চাকরি হারান প্রধান কোচ সাইফুল বারী। তাঁর জায়গায় ভারপ্রাপ্ত কোচের দায়িত্ব পেয়ে সহকারী কোচ জুলফিকার মাহমুদ তাঁর মেয়াদকালে প্রথম দুই ম্যাচ ড্রয়ের পর আজ জিতলেন। এই জয় দিয়েই আজ প্রথম পর্ব শেষ করেছে শেখ রাসেল। প্রথম পর্বেরও এটি শেষ ম্যাচ।

default-image

পড়ন্ত বিকেলে ম্যাচ শেষে সবাই যখন ফেরার অপেক্ষায়, শেখ রাসেলের অভিজ্ঞ গোলকিপার আশরাফুল মাঠে দাঁড়িয়েই কৃতজ্ঞতা জানান সৃষ্টিকর্তাকে। জাতীয় দলের এই গোলকিপার বললেন, ‘ক্লাব পর্যায়ের ক্যারিয়ারে কখনো এমন স্ট্রাগল করিনি। এই সময়টা খুবই বাজে কেটেছে। ভাবিনি এভাবে দিনের পর দিন জয় বঞ্চিত থাকব।’

শেখ রাসেলের বিদেশি ফুটবলাররা ভালো খেলতে পারেননি। দলের খারাপ ফলের এটাই বড় কারণ আশরাফুলের চোখে, ‘বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলে একটা দলের ভাগ্য অনেকটা নির্ভর করে বিদেশিদের ওপর। কিন্তু আমাদের বিদেশিরা দলের কোনো দায়িত্বই নিতে পারেননি। ফলে আমরা মাঠে ধুঁকেছি। বিদেশিদের মধ্যে শৃঙ্খলাও ছিল না। সেটা না থাকা একটা দলের জন্য যে ভালো নয়, সেটা আমরা হাড়ে হাড়ে বুঝেছি।’

আশরাফুল যোগ করেন, ‘সত্যি কথা বলতে আজ মনে হচ্ছে নতুন জীবন পেলাম। নতুন অনুভূতি হচ্ছে। এই রকম অবস্থা আগে কখনো হয়নি। সেনাবাহিনী ছেড়ে ২০১৪ সালে যখন মোহামডান দিয়ে শীর্ষ ফুটবলে যাত্রা করি, তখন মোহামেডান মাঝারি মানের দল। কিন্তু ওই দল নিয়েও আমরা লিগে তৃতীয় হই। সেই দলে দেশি আর বিদেশি ফুটবলারের মধ্যে একটা ভারসাম্য ছিল। কিন্তু শেখ রাসেলের এবারের দলটিতে বিদেশিরা কিছুই করতে পারেননি।’

আশরাফুল জাতীয় দলে আসেন ২০১৪ সালে। দুই–একটি টুর্নামেন্ট বাদে সেই থেকে প্রায় নিয়িমতই আছেন দলে। বেশ কিছু ম্যাচে ছিলেন জাতীয় দলের এক নম্বর গোলকিপার। সর্বশেষ মালদ্বীপ আর মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দুটিতেও ছিলেন ২৩ জনের স্কোয়াডে।

default-image

সেই তাঁকে কাল পাওয়া গেল ভিন্ন মেজাজে, ‘লিগে হারতে হারতে আমরা হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। ভাগ্যও আমাদের সহায় হচ্ছিল না। ফলে সবাই চাপে ছিলাম। সহজ সব গোল মিস হচ্ছিল। সেই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে ব্যাক্তিগতভাবে বাড়তি অনুশীলন করেছি। কোচদের সঙ্গে কথা বলেছি। ঘুরে দাঁড়াতে আপ্রাণ চেষ্টা করে অবশেষে আমরা আজ হাসতে পারলাম।’

মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে ৩–০ গোলে হারা অষ্টম ম্যাচে বাজে গোল খেয়েছিলেন আশরাফুল। তবে সেটাকে বিচ্ছিন্নভাবেই দেখছেন। দল খারাপ করলেও নিজের খেলাটা যে ঠিক ছিল তা জোর দিয়েই বলছেন ৩৭ বছর বয়সী এই গোলকিপার, ‘মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে ম্যাচটা বাদ দিলে প্রায় প্রতি ম্যাচেই আমার ৩–৪টা ভালো সেভ ছিল।’

ভালো সেভ করেছেন আজও। এদিনও শেখ রাসেলের শুরুটা ছিল বাজে। প্রথম ১০ মিনিটেই তারা গোল হজম করতে পারত। উল্টো তারা ২-০ করে ফেলে ২০ মিনিটের মধ্যেই। মানিক ১-০ করার পর কিরগিজ ডিফেন্ডার আইজার আকমাতভের পেনাল্টি গোলে ২-০। যদিও পেনাল্টি নিয়ে আপত্তি ছিল স্বাধীনতার।

৭৭ মিনিটে সেই আইজার দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখলে শেখ রাসেল হয়ে পড়ে ১০ জনের দল। অতিরিক্ত সময়ে ২-১ করেন স্বাধীনতার উজবেক মিডফিল্ডার নদিরবেক মাভলনভ। কিন্তু ততক্ষণে সাত ম্যাচ পর জয়ের গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে শেখ রাসেল শিবিরে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন