বিজ্ঞাপন

এক নজরে ইউরো ১৯৬০

স্বাগতিক:  ফ্রান্স
ফাইনালের ভেন্যু: পার্ক দো প্রিন্সেস, প্যারিস
চ্যাম্পিয়ন: রাশিয়া (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন)
রানার্স আপ: যুগোস্লাভিয়া
তৃতীয় স্থান: চেকোস্লাভাকিয়া
চতুর্থ: ফ্রান্স

যেভাবে শুরু

ইউরোপের দেশগুলোকে নিয়ে আলাদা একটা টুর্নামেন্টের ধারণা ফিফাকে প্রথম দিয়েছিলেন ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনের তৎকালীন সভাপতি হেনরি দেলাওনে, ১৯২৭ সালে। সেই ধারণা বাস্তবায়নের আগেই ১৯৫৫ সালে পরপারে চলে যান দেলাওনে। তবে পিতার স্বপ্নপূরণ হয়েছে পুত্র পিয়েরের হাত ধরে। ১৯৫৬ সালে পিয়েরে ইউরোপিয়ান নেশনস অর্গানাইজিং কমিটির সচিব হওয়ার পর আটঘাট বেঁধে নামেন এবং তাঁর উদ্যোগেই ১৯৬০ সালে ফ্রান্সে বসে ইউরোর প্রথম আসর।

১৭ দল নিয়ে হয়েছিল প্রথম আসরের বাছাইপর্ব, চূড়ান্ত পর্বে জায়গা পেয়েছিল মাত্র ৪টি দল। এখন যে টুর্নামেন্টটা ইউরোপের ফুটবলে জাতীয় দলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই হিসেবে প্রতিষ্ঠিত সেই টুর্নামেন্টের প্রথম আসরে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিল ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস, উত্তর আয়ারল্যান্ড, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও জার্মানি। স্পেন অংশ নিয়েছিল বাছাই পর্বে, তবে রাজনৈতিক কারণে রাশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটা না খেলে ওয়াকওভার দিয়ে দেয়। ওই ওয়াকওভার পেয়েই চূড়ান্ত পর্বে উঠে রাশিয়া, যারা পরে চ্যাম্পিয়নও হয়ে যায়।

আরও যত গল্প

স্ট্রাইকার থেকে ক্রীড়া সম্পাদক

সোমবারে গোল করে যিনি ক্রীড়া সাংবাদিকদের দুর্দান্ত এক শিরোনাম উপহার দিয়েছিলেন, সেই ভিক্তর পোনেদেলনিক নিজেও পরে হয়ে যান ক্রীড়া সাংবাদিক। হাঁপানি সমস্যার কারণে ১৯৬৬ সালে মাত্র ২৯ বছর বয়সে খেলা ছেড়ে দেন। কিছুদিন পরেই জড়িয়ে যান ক্রীড়া সাংবাদিকতায়। পরে পোনেদেলনিক রাশিয়ার ক্রীড়া দৈনিক সোভিয়েতস্কি স্পোর্টস-এর ক্রীড়া সম্পাদকও হয়েছেন।

default-image


গোলের আসর
প্রথম আসরে ম্যাচ ছিল মাত্র চারটা। দুটি সেমিফাইনাল, ফাইনাল ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। প্রথম সেমিফাইনালে ৫-৪ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল যুগোস্লাভিয়া। ইউরোর সব আসর মিলিয়ে ওটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গোলের ম্যাচ হয়ে আছে। চার ম্যাচেই ১৭ গোল হয়েছিল ১৯৬০ ইউরোতে, ম্যাচপ্রতি গোল ৪.২৫ টি। ইউরোর সব আসর মিলিয়ে ওটাই এখন পর্যন্ত ম্যাচপ্রতি সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড।

শুধু ফুটবল নয়, হকিতেও
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে চেকোস্লাভাকিয়ার ২-০ গোলের জয়ে গোল করেছিলেন ভ্লাসতিমিল বুবঙ্ক। চার বছর পর শীতকালীন অলিম্পিকে আইস হকিতে দেশের হয়ে ব্রোঞ্জও জিতেছিলেন বুবঙ্ক।

default-image


বার্নাব্যুর প্রস্তাব
চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে রাশিয়া পেয়েছিল মাত্র ২০০ ইউএস ডলার। জয়ী দলের সম্মানে আয়োজকেরা ইউরোপিয়ান ফুটবলের কর্তাব্যক্তিদের নিয়ে প্রীতিভোজের আয়োজন করেছিলেন আইফেল টাওয়ারে। সেই ভোজেই রিয়াল মাদ্রিদের তখনকার সভাপতি সান্তিয়াগো বার্নাব্যু দেখা করতে গিয়েছিলেন রাশিয়া দলের সঙ্গে। রাশিয়ার জয়ের নায়ক ভিক্তর পোনেদেলনিক পরে সেই ভোজের স্মৃতিচারণ করে বলেছেন, ‘তিনি (সান্তিয়াগো বার্নাব্যু) আমাদের দলের অর্ধেকের বেশি খেলোয়াড়কেই কিনে রিয়ালে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।’ শোনা যায়, ওই প্রীতি ভোজেই খেলোয়াড়দের পেছনে কেজিবির গুপ্তচর লাগিয়ে রেখেছিল রাশিয়ান সরকার। খেলোয়াড়রা যাতে বিদেশের কোনো ক্লাবে খেলার প্রস্তাব না গ্রহণ করেন, সেটা নিশ্চিত করাই ছিল গুপ্তচরদের কাজ। পোনেদেলনিক নিজেও পরে এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন, ‘আমরা রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতির সেই প্রস্তাব নিয়ে ভাবতে ভয় পাচ্ছিলাম। সবিনয়ে তাঁকে বলে দিয়েছি, দেশের ক্লাবের সঙ্গেই আমাদের চুক্তি করা আছে। যদিও তখন আমাদের কোনো চুক্তিই ছিল না।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন