বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সেফাস ম্যালেলে ইউরোপিয়ান ফুটবলে পরিচিত কোনো নাম নয়। তাঁকে না চেনাই স্বাভাবিক। জন্ম অ্যাঙ্গোলায়, পরে সুইজারল্যান্ডের জাতীয়তা নিয়ে খেলেছেন দেশটির বয়সভিত্তিক দলে।

রোমানিয়ার শীর্ষ লিগে ১৮ গোল করলেও সৌদি আরবের ঘরোয়া ফুটবলে তাঁকে নিয়ে আগ্রহ ছিল। এ নিয়েই রুল্লোর মক্কেল বনে যান ম্যালেলে। দলবদল প্রক্রিয়া কীভাবে করতে হবে—তা জানা রুল্লোর। কিন্তু তাঁর সামর্থ্যে কেউ আস্থা রাখেনি।

default-image

রুল্লোর ভাষায়, ‘(খুদে বার্তাগুলো ছিল) অপমানজনক এবং খুব অদ্ভুত সব কথা বলা হতো আমাকে নিয়ে। সময়টা তখন খুব কঠিন হলেও আমি জানতাম, ফুটবলে টিকে থাকতে হলে কী করতে হবে। এ ছাড়া খেলোয়াড়ের (সেফাস ম্যালেলে) আমার ওপর আস্থা ছিল। চুপচাপ কাজটা সম্পন্ন করায় তার সাহায্য পেয়েছি।’

যদিও সে সময় অনেকেই ম্যালেলেকে ফোন দিয়ে রুল্লোকে নিয়ে অনেক বাজে কথাও বলেছে, ‘লোকে আমাকে ফোন দিয়েছে। কিংবা ম্যালেলেকেও ফোন দিয়ে বলেছে, সে একজন বোকা নারী। তার সঙ্গে কাজ করছ কেন? সে তোমাকে কোথাও নিয়ে যেতে পারবে না।’

যদিও রুল্লো মনে করেন, ‘খেলোয়াড় একবার এজেন্টের ওপর আস্থা রাখলে কাজটা সহজ হয়ে যায়। এই আস্থাটুকু অর্জন করতে পারলে তখন আর কোনো বাধাই বাধা নয়। সমালোচনাকারীরাও তখন হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত আমি প্রমাণ করতে পেরেছি, আমার কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন নেই। নিজের যোগাযোগক্ষমতা দিয়েই কাজটা শেষ করতে পেরেছি।’

নারী এজেন্ট নিয়ে ফুটবল দুনিয়ায় সবার ধারণাটা প্রায় একই রকম বলেই মনে করেন রুল্লো, ‘এমন খেলোয়াড়ের দল পাওয়ার ক্ষেত্রে একজন নারী আর কী-ইবা করতে পারে—বেশির ভাগের ধারণা এমন। আমার মনে হয়, এটাই আসল ব্যাপার—সে এটা কীভাবে করল? খেলোয়াড় তাকে কেন এতটা বিশ্বাস করছে? এটাই মূল প্রশ্ন।’

default-image

গত আগস্টে রোমানিয়ার ক্লাব আরজেস পিতেস্তি থেকে সৌদি আরবের ক্লাব আল তাই–তে যোগ দেন ম্যালেলে। তাঁর এই দলবদলটা একাই সম্পন্ন করতে পেরে সন্তুষ্ট রুল্লো। প্রথম নারী ফুটবল এজেন্ট হিসেবে তিনি সৌদি আরবে কোনো খেলোয়াড়ের দলবদল সম্পন্ন করলেন।

আল–তাই যেদিন ম্যালেলেকে নিজেদের খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়, সেদিন তাঁর পাশেই ছিলেন রুল্লো। সৌদি আরবের নিয়মমাফিক বোরকার মতো একটি পোশাক পরে সেই খেলোয়াড় পরিচিতি অনুষ্ঠানে ছিলেন রুল্লো।

খেলাধুলার জগতে তাঁর শুরুটা হয়েছিল আইনজীবী হিসেবে। ফুটবল দুনিয়ায় এজেন্ট নামের মধ্যস্বত্বভোগীদের নানা অনিয়ম জানাবোঝার পর রুল্লো তাঁর পেশা পাল্টান। নেমে পড়েন এজেন্ট হিসেবে। ফুটবলারদের স্বার্থ সংরক্ষণ করতেই এ পেশায় নামেন তিনি।

ক্যামেরুন বংশোদ্ভূত ফ্রান্সের যুব দলে খেলা সিলভিয়ান দেসলান্দেস ছিলেন রুল্লোর প্রথম মক্কেল। উলভসে থাকার সময়ে বিভিন্ন এজেন্টের ভুয়া প্রতিশ্রুতির শিকার হয়েছিলেন এই ডিফেন্ডার। মৌসুমের শেষ দিকে রুল্লোর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয় এবং ক্লাব বদলে সক্ষম হন দেসলান্দেস। এজেন্টদের নিয়ে খেলোয়াড়দের আস্থাহীনতায় ভোগার কারণও ব্যাখ্যা করলেন রুল্লো, ‘সাধারণত খেলোয়াড়েরা একটু সন্দেহে ভোগেন। দেখা যায়, বেশির ভাগ এজেন্টই বলে থাকেন, “তোমার ক্যারিয়ার গড়ে দেব।” কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি আর হয় না।’

default-image

দেসলান্দেস তাহলে কীভাবে তাঁর ওপর ভরসা রাখলেন? সে গল্পও বললেন রুল্লো, ‘আমি শুধু (তাঁকে) বলেছি, নিজের সর্বোচ্চটুকু নিংড়ে দিয়েই চেষ্টা করব। তোমাকে পেশাদার ফুটবলার হিসেবেই থাকতে হবে। আমাকে বিশ্বাস করতে হবে। সময়টা আমাদের পক্ষে নেই। (দলবদলের) আর মাত্র ১০দিন বাকি আছে। এরপর কাজটা শেষ হলো এবং ওই খেলোয়াড় এখনো আমার মক্কেল।’

আইনজীবী থেকে ফুটবল এজেন্ট হিসেবে নিজেকে দাঁড় করানোর কাজটি রুল্লোর কাছে ‘খুব কঠিন ছিল’। কিন্তু তাঁর ভাষায়, ‘পথে বাধা এলে সেই বাধাকে বাধা মনে করার মানুষ আমি নই। নিজের লক্ষ্য পূরণে আমি সময় ও শ্রম দিই। এখন পর্যন্ত তা ভালোভাবেই কাজে লেগেছে। শুধু নারী হওয়ায় অনেকে আমাকে এই কাজে ব্যর্থ দেখার প্রত্যাশায় ছিল। অনেকে বলেছে, ফুটবল ছেড়ে নিজের নখ পরিচর্যায় সময় দাও। তাদের দুর্ভাগ্য যে আমি এখনো এই পেশায় আছি।’

পুরুষশাসিত ইউরোপিয়ান ফুটবলে রুল্লো কীভাবে পায়ের তলের মাটি খুঁজে পেলেন—এই প্রশ্নের জবাবে বেরিয়ে এল তাঁর ব্যক্তিত্বের অবয়ব, ‘এই জগতে একজন পুরুষ এজেন্টের সফল হতে যা যা গুণের প্রয়োজন, আমার মধ্যে তার সবই আছে। নারী হিসেবেও কিছু অতিরিক্ত যোগ্যতা যোগ হয়েছে। তাই আমার হেরে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন