বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

নিউক্যাসলের সমর্থকেরা এমনটাই হয়তো ভাবছেন। আর সেটা না হলেও তাদের আপত্তি নেই। অন্তত কিপটে মাইক অ্যাশলির হাত থেকে বাঁচতে পেরেই সন্তুষ্ট তাঁরা। ১৪ বছর ধরে অ্যাশলির কিপটেমি দেখতে দেখতে যে তাঁরা অধৈর্য হয়ে উঠেছিলেন। গত ১৪ বছরে মাত্র দুবার প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ দশে ছিল নিউক্যাসল। একবার পঞ্চম হওয়া ক্লাবটি অন্যবার হয়েছে দশম। এর মাঝে দুবার অবনমিতও হয়েছে।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ক্লাবে বিনিয়োগের দিক থেকে সবচেয়ে ওপরে আছে ম্যানচেস্টার সিটি। ২০১০ থেকে ২০২০—এই সময়ে ক্লাবের পেছনে ১১৩ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড খরচ করেছেন শেখ মনসুর আল নাহিয়ান। দুইয়ে থাকা চেলসির রোমান আব্রামোভিচ বিনিয়োগ করেছেন ৫৭ কোটি পাউন্ড। ওদিকে গত ১৪ বছরে নিউক্যাসলের পেছনে একটা টাকাও খরচ করেননি অ্যাশলি। ২০০৭ সালে যে দামে কিনেছিলেন, গত পরশু তার দ্বিগুণেরও বেশি (৩০ কোটি পাউন্ড) দামে বিক্রি করেছেন। আর মাঝে ক্লাব স্পনসরদের কাছ থেকে যে টাকা পেত, সেগুলোও কৌশলে নিজের ব্যবসায় নিয়ে গেছেন অ্যাশলি।

default-image

তাই সৌদি যুবরাজ দলে অর্থ বিনিয়োগ করবেন কি না, সেটা নিয়ে না ভেবে আপাতত অ্যাশলির হাত থেকে বাঁচতে পেরেই খুশি ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাব। এখন পর্যন্ত যে খবর, তাতে ক্লাবের ৮০ ভাগ মালিকানা সৌদি পাবলিক ইনভেস্ট ফান্ডের, ১০ ভাগের মালিকানা ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান সাইমন অ্যান্ড ডেভিড রুবেনের এবং বাকি ১০ শতাংশের মালিকানা পিসিপি ক্যাপিটাল পার্টনার্সের।

এরই মধ্যে পিসিপির অ্যামান্ডা স্ট্যাভলি জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বসেরা খেলোয়াড়দের কিনতে চান তাঁরা। গত ১৪ বছরে ক্লাবের ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া অবকাঠামোও ঠিক করতে চান। এক যুগের বেশি সময় ধরে কোনো বিনিয়োগ না করায় ক্লাবের অনুশীলন মাঠ ও স্টেডিয়ামের যে করুণ দশা হয়েছে, সেটা দূর করতে চান তাঁরা।

ইংলিশ দৈনিক দ্য সানকে স্ট্যাভলি বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বসেরা খেলোয়াড়দের কেনার চেষ্টা করব। আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা অনেক—আশা করি, নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারব। কিন্তু বিশ্বসেরা খেলোয়াড়দের উপযুক্ত অবকাঠামো যদি দিতে না পারেন এবং তার সঙ্গে খেলার মতো দল দিতে না পারেন, তাহলে কোনো লাভ নেই। অনুশীলন মাঠগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ এবং অনেক বড় অঙ্কের বিনিয়োগ দরকার। ভাগ্য ভালো, এই ক্ষেত্রে আর্থিক সংগতি নীতির কোনো বাধা নেই।’

স্ট্যাভলির কথাতেই স্পষ্ট, অনুশীলন মাঠ ও স্টেডিয়ামে যত ইচ্ছা বিনিয়োগ করতে পারলেও খেলোয়াড় কেনাবেচার ক্ষেত্রে আর্থিক সংগতি নীতি মানতে হবে তাঁদের। আর সেটা হলো, ফুটবলসংশ্লিষ্ট আয়ের সঙ্গে মানানসই ব্যয়। আর সে ক্ষেত্রে প্রিমিয়ার লিগের বাকি ১৯ ক্লাবের মোট সম্পদের চেয়ে বেশি সম্পদ থাকলেও তাই দলবদলের বাজারে তোলপাড় ফেলে দিতে পারবে না নিউক্যাসল।

default-image

এদিক থেকে অ্যাশলিকে অবশ্য ধন্যবাদ দিতে পারেন নিউক্যাসল সমর্থকেরা। ক্লাবে কোনো বিনিয়োগ না করলেও ক্লাবকে আর্থিকভাবে বড় কোনো দেনার মুখেও ফেলেননি। ফলে বার্সেলোনার মতো ক্লাব যেখানে আগামী জানুয়ারিতে মাত্র ২ কোটি ইউরো খরচ করার অনুমতি পাচ্ছে, সেখানে নিউক্যাসল দলবদলের বাজারে প্রায় ২৫ কোটি ডলার খরচের সুযোগ পাচ্ছে।

তবে এখানে সব হিসাবই আর্থিক সংগতি নীতির কথা মাথায় রেখে। এর আগে বিপুল অর্থ হাতে পেয়েও যে ম্যানচেস্টার সিটি ও পিএসজি আর্থিক সংগতির নীতি মেনে ক্লাব চালানোর উদাহরণ রেখেছে—এটা জোর গলায় কিন্তু বলার উপায় নেই!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন