নিষিদ্ধ হয়েছেন ওনানা।
নিষিদ্ধ হয়েছেন ওনানা।ছবি: রয়টার্স

বার্সেলোনার একাডেমিতে বড় হয়েছেন। গত দুই মৌসুমে তাঁর পারফরম্যান্স দেখে বার্সেলোনায় আবার যাওয়ার সম্ভাবনা জেগেছিল। চেলসিও আন্দ্রে ওনানার প্রতি আগ্রহী হয়েছিল। ইদানীং বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের নামও জড়িয়েছিল আয়াক্সের মূল গোলরক্ষকের নামের পাশে। কিন্তু ২৪ বছর বয়সী এই ফুটবলারের দলবদলের সব সম্ভাবনা এক ধাক্কায় থেমে গেল। ডোপ টেস্টে পাস করতে না পারায় এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন ওনানা। ক্যামেরুন জাতীয় দলের গোলরক্ষকের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে আজ থেকেই।

গত বছরের অক্টোবরে একটি ডোপ পরীক্ষা হয়েছিল ওনানার। সে পরীক্ষায় পাশ করতে না পেরেই বিপদে পড়েছেন এই গোলরক্ষক। তাঁর মূত্রনমুনায় নিষিদ্ধ ফুরোসেমাইড পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে তাঁর ক্লাবের ব্যাখ্যা শুনেছে উয়েফা। আয়াক্স দাবি করেছিল, স্ত্রীর ওষুধ খেয়েছিলেন ওনানা। কিন্তু ক্লাবের সে দাবিতেও লাভ হয়নি। ১২ মাসের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে পারেননি ওনানা।

বিজ্ঞাপন

ওনানার নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে আয়াক্স একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে। এই ডাচ ক্লাব তাদের ওয়েবসাইটে লিখেছে, ৩০ অক্টোবর সকালে ওনানা অসুস্থ বোধ করছিলেন। অস্বস্তি এড়াতে ওষুধ খেতে চেয়েছিলেন। না জেনে তিনি ল্যাসিমাক নামের একটি ওষুধ গ্রহণ করেন। ওষুধটা তাঁর স্ত্রীকে আগে প্রেসক্রাইব করা হয়েছিল। বিভ্রান্ত হয়েই ওনানা তাঁর স্ত্রীর ওষুধ নিয়েছেন। এ কারণেই উয়েফা তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।

আয়াক্স বলেছে, ওনানা কোনো অন্যায় করেননি কিংবা পারফরম্যান্স ভালো করার চেষ্টায় এমন কিছু করেননি। এটা সম্পূর্ণ দুর্ঘটনাবশত হয়েছে। আয়াক্সের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইউরোপিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের শৃঙ্খলা কমিটি জানিয়েছে, ওনানার প্রতারণার কোনো ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু ইউরোপিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বিশ্বাস করে, বর্তমান ডোপিং–বিরোধী আইনে বলা আছে, একজন অ্যাথলেটের দায়িত্ব নিজের শরীরে কোনো নিষিদ্ধ বস্তু যেন না ঢোকে, সেটা নিশ্চিত করা।’

ফুরোসেমাইড কোনো পারফরম্যান্স–বর্ধক ড্রাগ নয়। বরং মূত্রনমুনায় অন্য কোনো ওষুধের উপস্থিতি লুকানোর ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করেন অনেক ডোপপাপী।
আয়াক্স জানিয়েছে, এ ব্যাপারে তারা সর্বোচ্চ ক্রীড়া আদালতেও যাবে। চেষ্টা করবে, যেহেতু ইচ্ছাকৃত পারফরম্যান্স–বর্ধক ওষুধ নেননি ওনানা, সেহেতু এই শাস্তি যেন তুলে নেওয়া হয় বা কমিয়ে নেওয়া হয়।

default-image

আয়াক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক গোলরক্ষক এডউইন ফন ডার সার এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন, ‘পারফরম্যান্স-বর্ধক ওষুধ সেবনের বিরুদ্ধে আমরা। সব সময় খেলাধুলায় পরিষ্কার ভাবমূর্তির পক্ষে আমরা। এটা অনেক বড় ধাক্কা। আন্দ্রের জন্য তো বটেই, ক্লাবের জন্যও। আন্দ্রে একজন উঁচু মানের গোলরক্ষক, যিনি বছরের পর বছর ধরে আয়াক্সে নিজেকে প্রমাণ করছেন এবং তিনি সমর্থকদেরও খুব প্রিয়। আমরা আশা করেছিলাম শাস্তিটা ১২ মাসের কম বা স্থগিত শাস্তি দেওয়া হবে। কারণ, এটা তো তাঁর শারীরিক শক্তি বাড়াতে বা পারফরম্যান্স ভালো করার জন্য ব্যবহৃত হয়নি।’

ফন ডার সারদের আশা এখনো আছে। সর্বোচ্চ ক্রীড়া আদালত সিদ্ধান্ত বদলাতেও পারে। তবে তত দিন পর্যন্ত ফুটবলে দেখা যাবে না এই গোলরক্ষককে। আয়াক্সের হয়ে কোনো ধরনের ম্যাচেই খেলতে পারবেন না। আর যদি সর্বোচ্চ ক্রীড়া আদালতেও একই শাস্তি বজায় থাকে, তবে একটা বছর হারিয়ে যাবে তাঁর।

নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে ক্যামেরুনের হয়েও আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নামার সুযোগ নেই ওনানার। সে ক্ষেত্রে ক্যামেরুনের হয়ে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বাকি দুই বাছাই পর্বের ম্যাচে খেলা তো হবেই না, ওনানাকে ছাড়া ক্যামেরুন বাছাই পর্ব পেরোতে পারলে মূল টুর্নামেন্টেও তাঁকে পাবে না দেশটি। কারণ, নেশনস কাপ আগামী বছর জানুয়ারিতে হতে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন