default-image

এক সাংবাদিক প্রশ্নটা করেই ফেললেন, ‘ক্লদিও রানিয়েরি হতে পারবেন আপনি?’
যোসেফ পাভলিক হাসেন। তুলনাটা প্রাসঙ্গিক কি না, সেটা ভিন্ন বিষয়। মাত্রই লেস্টার সিটিকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জিতিয়ে একটা রূপকথাই লিখেছেন রানিয়েরি। আজ ঢাকা আবাহনীকে স্বাধীনতা কাপের ফাইনালে হারিয়ে দিতে পারলে চট্টগ্রাম আবাহনীর স্লোভাক কোচও নিজেকে একটু ‘রানিয়েরি’ ‘রানিয়েরি’ ভাবতে পারেন!
বুয়েট মাঠে কাল শেষবেলার অনুশীলনে চনমনেই লাগল পাভলিককে। চট্টগ্রাম আবাহনীর ৪৩ বছর বয়সী কোচ একটু লজ্জা পাওয়ার ভঙ্গিতে মুখে হাসি ছড়িয়ে দিলেন, ‘ইয়েস, ইয়েস, রানিয়েরি, রানিয়েরি। আই ওয়ান্ট টু বিকাম রানিয়েরি।’
বাস্তবে পারবে কি না, উত্তর মিলবে আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে শুরু দুই আবাহনীর ফুটবল-যুদ্ধের পর। লিগ আর টুর্নামেন্ট অবশ্য এক নয়। লেস্টার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জিতেছে আন্ডারডগ হিসেবে, লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম আবাহনী ফেবারিট হিসেবেই খেলছে এই স্বাধীনতা কাপে। এখানে লেস্টারকে প্রেরণা মানছে চট্টগ্রাম আবাহনী!
প্রেরণা তো আছে গত বছর নিজের মাঠে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ জয়েও। অথচ আগে কখনো ঘরোয়া টুর্নামেন্ট জয় দূরে থাক, ফাইনালেই যেতে পারেনি দলটি। ২০০৪ সালে জাতীয় লিগ ও একবার ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা আছে এই যা। প্রথম ফাইনালটা তাই খেলোয়াড়দের চোখে এঁকে দিয়েছে স্বপ্ন।
তবে তারা ঢাকা আবাহনীকেই এগিয়ে রাখছে। এই দলের শোকেসে সাজানো অজস্র ট্রফিতে ধুলো জমছে। এই স্বাধীনতা কাপের পারফরম্যান্সও বড় আবাহনীর হয়ে কথা বলছে। তা ছাড়া এমন বহু ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা তো আছেই। কোচ অমলেশ সেন তাই বলছেন, ‘আমরা তো জেতা ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারছি না।’
তবে এটাও ঠিক, ঢাকা আবাহনী সমর্থকপুষ্ট দল হওয়ায় জয়ের চাপটা তাদের ওপরই বেশি। সেই চাপ কাটাতে এই টুর্নামেন্টেরই সেমিফাইনালে শেখ জামালকে ৬-০ গোলে গুঁড়িয়ে দেওয়াটা অবশ্য আত্মবিশ্বাসের বড় এক টনিকও আজ অমলেশের দলের কাছে।
বুয়েট মাঠেই কাল বিকেলে দাঁড়িয়ে শেখ রাসেলের কোচ মারুফুল হকও একমত হলেন, ‘অবশ্যই ঐতিহ্য আর শক্তিতে ঢাকা আবাহনী ফেবারিট।’ উপরন্তু ২০১০-১১ মৌসুমে সুপার কাপ জেতার পর দীর্ঘ সাফল্যখরা দূর করার সুযোগ সামনে। যা গোটা দলকে তাতিয়ে রেখেছে বললেন ঢাকা আবাহনীর অধিনায়ক ডিফেন্ডার আরিফ, ‘আমরা অনেক দিন কোনো ট্রফি পাই না। এবার সেই খরা দূর করে সবার মুখে হাসি ফেরাতে চাই।’
এই সাফল্যতৃষ্ণা থেকেই চট্টগ্রাম আবাহনী অধিনায়ক জাহিদ বলছিলেন, ‘আমাকে হয়তো ওরা মারবে, মারলে মারুক, উত্তেজিত হব না। ম্যাচটা বের করে আনতে হবে।’ কোচ আগের ম্যাচগুলোর মতো আজও সম্ভবত একক স্ট্রাইকার হিসেবে রাখবেন লিওনেলকে। সনি নর্দের দেশের এই স্ট্রাইকার দারুণ খেলছেন এবং একাই জেতাতে পারেন ম্যাচ। এই আশাতেই মাঠে নামবেন লিওনেল, ‘ফাইনালে গোল করে দলের স্বপ্নটা পূরণ করাই আমার ধ্যানজ্ঞান।’
মামুনুলসহ চট্টগ্রাম আবাহনীর পাঁচ খেলোয়াড় আদালতের নিষেধাজ্ঞায় আজও মাঠের বাইরে। তবে দলটির উপদেষ্টা কোচ নজরুল ইসলাম লেদু সেটিকে সমস্যা বলতে নারাজ, ‘ওরা বরং আমাদের জন্য শক্তি।’ কোচ অবশ্য আত্মবিশ্বাস আর মাঠের পারফরম্যান্সকেই বলছেন তাঁর মূল শক্তি।
মাঠের পারফরম্যান্সে ঢাকা আবাহনীর আক্রমণের তিন অস্ত্র সানডে সিজোবা, লি টাক ও কামারাই অবশ্য আজ ম্যাচের ভাগ্য গড়তে পারেন। সেমিফাইনালে শেখ জামালের জালে সানডে একাই দিয়েছেন ৪ গোল। ইংলিশ স্ট্রাইকার লি টাক দুটি। কামারা গোল না করলেও বলের মূল জোগানদাতা। এই তিনজন ধারাবাহিকতা রাখতে পারলে ঢাকা আবাহনীর না জেতার কারণ দেখছেন না অনেকে। এটাই আসলে বড় ভয় চট্টগ্রাম আবাহনীর।
আর হ্যাঁ, চট্টগ্রাম আবাহনীর অদৃশ্য প্রতিপক্ষ হিসেবে ঢাকা আবাহনীর ইতিহাস আর ঐতিহ্য তো আছেই।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন