মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, কোরিয়া...। এই দেশগুলোতে গিয়ে প্রীতি ম্যাচ খেলার স্বপ্ন বাংলাদেশের কোনো ক্লাব কখনো দেখেছে?
সহজ উত্তর, ‘না’। বাংলাদেশের ক্লাব-সংস্কৃতি দুর্বল, ভাবনার জগৎও ছোট। কিন্তু দিন পাল্টেছে। শেখ জামালের মতো শক্তিশালী একটা দল সম্প্রতি আলো ছড়াচ্ছে। যে দলটিকে নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন দেখছেন শেখ জামাল ধানমন্ডির সভাপতি মনজুর কাদের।
পরশু বুসান আইপার্কের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচে নিজ দলের খেলায় তিনি খুবই খুশি। ভবিষ্যৎ পথরেখায় তাই নতুন কিছু যোগ করতে প্রবল আগ্রহী হয়ে উঠেছেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়া সফরের আমন্ত্রণ পেয়েছি, ওখানে আমরা যাবই। তা ছাড়া থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরে প্রীতি ম্যাচ খেলার চেষ্টা করছি। থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া সফর মোটামুটি নিশ্চিতই। ফাঁকা সময় বের করে ২০১৫ সালজুড়ে এই দেশগুলো সফর আমরা করতে চাই।’
একই সঙ্গে চান সনি নর্দের মতো একজন ফুটবলার এনে দলের শক্তি আরও বাড়াতে। তবে নানা জায়গায় যোগাযোগ করলেও এখনো কিছু হয়নি। ইন্ডিয়ান সুপার লিগে অ্যাটলেটিকো ডি কলকাতার ইথিওপিয়ান স্ট্রাইকার ফিকরুকে খুব পছন্দ হয়েছিল। ফিকরু মাসিক পারিশ্রমিক চেয়েছেন ২৫ হাজার ডলার। শেখ জামাল বাংলাদেশের ফুটবলে রেকর্ড ১৫ হাজার ডলার দিতে রাজি হলেও ফিকরু আসবেন না। বিকল্প হিসেবে কোস্টারিকার একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা চলছে।
সবচেয়ে লক্ষণীয়, দেশের বাইরে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাংলাদেশে শুধু শেখ জামালের মধ্যেই দৃশ্যমান। এ দেশের রুগ্ণ ক্লাব-সংস্কৃতি তারা যেন বদলে দিতে চায়। এরই মধ্যে কলকাতার আইএফএ শিল্ড মাতিয়ে রানার্সআপ, ভুটানের কিংস কাপ জয়, সেই ধারাবাহিকতায় বুসান আইপার্কের সঙ্গে মাথা উঁচু করে খেলা শেখ জামালকে এগিয়ে দিয়েছে আরও এক ধাপ।
বুসানের সঙ্গে প্রথম ৫ মিনিটেই ২ গোল খাওয়া বাদ দিলে বাকি সময়ে শেখ জামালই দাপট দেখিয়েছে। যা দেখে দেশের ফুটবল মহল বেশ খুশি। প্রশংসা সবার মুখেই। জাতীয় দলের কোচ সাইফুল বারী তাঁদেরই একজন, ‘আমরা যে এগোচ্ছি, বুসানের বিপক্ষে ম্যাচে শেখ জামাল তা দেখিয়েছে।’
এসবই শেখ জামালের মাঝমাঠের সেনানী জাতীয় দলের অধিনায়ক মামুনুল ইসলামের কাছে এগিয়ে চলার পাথেয়, ‘আমরা ভালো খেলেছি বুসানের সঙ্গে। এটা খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। বড় দলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলার ধারাটা এখন অব্যাহত রাখা চাই।’
সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণে সহায়তা দিতে প্রস্তুত বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, ‘বুসান ম্যাচে শেখ জামালের খেলা ভালো লেগেছে। ভবিষ্যতে তারা এমন ম্যাচ খেলার সুযোগ আরও পাবে আশা করছি।’
সুযোগ এলে তা কাজে লাগাতে তৈরি শেখ জামাল। সাম্প্রতিক ভালো পারফরম্যান্স এমন প্রত্যয় বুনে দিয়েছে দলটির খেলোয়াড়-কোচ-কর্মকর্তাদের মনে।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন