default-image

‘হঠাৎ রাস্তায়, আপিস অঞ্চলে, হারিয়ে যাওয়া মুখ চমকে দিয়ে বলে—বন্ধু কী খবর বল? কত দিন দেখা হয়নি...’

খন্দকার ওয়াসিমকে দেখে কবির সুমনের বিখ্যাত গানটাই যেন মনে পড়ে গেল সত্যজিৎ দাস রুপুর। দুজনই একসময় আবাহনীর হয়ে ক্লাব ফুটবলে খেলেছেন। জাতীয় দলেও খেলেছেন এই দুজন। পেশাদারির বাইরেও দুই ফুটবলারের মধ্যে ছিল পারিবারিক পর্যায়ের বন্ধুত্বের সম্পর্ক। অথচ নানা ব্যস্ততায় তিন-চার বছর দেখা হয় না কারও। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ফুটবল ফেডারেশন আজ বিকেলে একটি প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করে বাফুফের অ্যাস্ট্রো টার্ফে। এই ম্যাচে খেলতেই বাফুফে ভবনে এসেছিলেন ওয়াসিম। সেখানেই দেখা হলো বন্ধু সত্যজিত দাস রুপুর সঙ্গে।

বিজ্ঞাপন
default-image

সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশ লাল ও সবুজ দুই দলে ভাগ হয়ে খেলেছেন জাতীয় দলের সাবেক তারকা ফুটবলাররা। লাল দলে খেলেন সত্যজিত দাস রুপু, আলফাজ আহমেদ, ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব, মাহবুব হোসেন রক্সি, রোকনুজ্জামান কাঞ্চন, মাসুদ রানা, স্বপন কুমার, আজমল হোসেন বিদ্যুৎ, ফয়সাল মাহমুদ, পনিরুজ্জামান পনিরসহ অনেকে। সবুজ দলের জার্সিতে মাঠে নামেন আবদুর রাজ্জাক, নজরুল ইসলাম, সৈয়দ গোলাম জিলানী, বিপ্লব ভট্টাচার্য, আরমান আজিজ, গোলাম গাউস, খোকন দাস, সাদিকুর রহমান, অমিত খান শুভ্ররা।

তাঁদের সবার ফুটবল খেলার বয়স পেরিয়ে গেছে অনেক আগে। বুট জোড়াও তুলে রেখেছেন। অনেকে এখন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী। কিন্তু সামনে যদি ফুটবল থাকে আর গায়ে থাকে লাল–সবুজের জার্সি, পুরোনো দিনে ফিরে যেতে ইচ্ছা করে সবার। খেলতে নেমে কেউ হয়তো ডি–বক্সের মধ্যে বল বাড়িয়ে দিয়েছেন সতীর্থের উদ্দেশে, কিন্তু বলটা পায়েই লাগাতে পারেননি। কেউ দৌড়াতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠেছেন। এ নিয়ে ম্যাচ শেষে আফসোসের সীমা ছিল না ফুটবলারদের। ম্যাচের সময় ছিল মাত্র ৬০ মিনিট। দলের প্রয়োজনেই হয়তো বদলি নামাতে হচ্ছিল কোচদের। কিন্তু মাঠে একবার নামার পর সহজে মাঠ ছাড়তেই চাইছিলেন না ফুটবলাররা! হাসি–ঠাট্টা, আনন্দ আর আড্ডায় সময়টা যে কখন কেটে গেছে; সেটা টেরই পাওয়া যায়নি।

default-image

এমন একটা ম্যাচের আয়োজন করেছে বলে বাফুফেকে ধন্যবাদ দিতে ভুললেন না সত্যজিত দাস রুপু, ‘আমি শুরুতে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে চাই। আর জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলারদের নিয়ে এমন একটা প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের জন্য বাফুফেকে ধন্যবাদ দেব।’ পুরোনো দিনের সতীর্থ বন্ধু খেলোয়াড়দের সঙ্গে মাঠে নেমে যেন অতীতে ফিরে গেলেন রুপু, ‘আসলে ম্যাচটি একরকমের মিলনমেলার মতো। আমরা এখন সবাই যার যার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকি। অনেকের সঙ্গে আমাদের ইচ্ছা থাকলেও দেখা হয় না। কিন্তু এই ম্যাচের মাধ্যমে আবারও আজ একত্র হয়েছি। যেন পুরোনো দিনে ফিরে গেছি আমরা।’

জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার আলফাজ আহমেদও অপেক্ষায় ছিলেন এমন কিছুর, ‘আমরা এই দিনে এমন একটা ম্যাচ খেলার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। পুরোনো খেলোয়াড়দের সঙ্গে দেখা হয়েছে এখানে খেলতে এসে। একটা আনন্দময় দিন পার করলাম আমরা। সব মিলিয়ে দিনটা দারুণ উপভোগ করেছি।’

স্বাধীনতা দিবসের এই প্রীতি ম্যাচটি ড্র হয়েছে ২-২ গোলে। কিন্তু এমন দিনে ফলাফলের ঊর্ধ্বে সবাই। জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার সৈয়দ গোলাম জিলানী বলছিলেন, ‘এমন দিনে এই ম্যাচের জয়-পরাজয় কে মনে রাখে? আমরা জিতব না হারব, তা মাথায় রেখে খেলতে নামিনি। একটা আনন্দময় দিন কাটাতে চেয়েছি, পুরোনো বন্ধু, ছোট ভাইদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কী হতে পারে?’

সত্যিই তো, এমন আনন্দের দিনে জয়-পরাজয়ের পরিসংখ্যান কেই-বা মনে রাখতে চান?

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন