কাল অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলাদেশ দলটা যেন অ্যালেক্স ফার্গুসনের মতাদর্শের ওপরেই দাঁড়িয়ে। শিরোপা ধরে রাখার পথে ৫ ম্যাচে একটি গোলও খায়নি বাংলাদেশ, করেছে ২০ গোল।

গোল না খাওয়ার গুরুত্বটা বোঝা যায় রানার্সআপ হওয়া ভারতের দিকে তাকালে। পুরো টুর্নামেন্টে দুটি গোল খেয়েছে ভারত। গোল দুটি বাংলাদেশেরই বিপক্ষে। এর মধ্যে একটি গোল গতকাল ফাইনালে।

default-image

টুর্নামেন্টে শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের মতো তুলনামূলক দুর্বল দল যেমন ছিল, তেমনি ছিল সমশক্তির ভারত-নেপালও। এমন টুর্নামেন্টে গোল না খাওয়াটা যেকোনো দলের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার শক্তিটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ডি-বক্সের সামনে বিপজ্জনক ‘মিডল করিডরে’ প্রতিপক্ষকে কোনো জায়গা না দেওয়া, সাপোর্টিং পাসগুলো বন্ধ করা এবং ধাঁধায় পড়েও নিজেরা জমাট থাকা।

রক্ষণ চরিত্রের প্রধান তিনটি বিষয়ে খুবই ভালো করেছে আঁখি খাতুন, শামসুন্নাহার, নিলুফা ইয়াসমিন ও আনাই মগিনিরা।

গোল ঠেকানোর সঙ্গে গোল করে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন করার কাজটিও তো করেছেন ডিফেন্ডার আনাই। একটি গোলের জন্য হাপিত্যেশ পড়ে গিয়েছিল। ৮০ মিনিটে সে গোল এনে দিলেন রাইটব্যাক আনাই।

বক্সের বাইরে ডান প্রান্ত থেকে তাঁর ক্রস ভারতীয় গোলকিপার আনশিকা লুফে নিতে ব্যর্থ হলে বল জড়িয়ে যায় জালে। কমলাপুর স্টেডিয়ামে বলটা যখন জালে ঢুকল, পুরো দেশের আকাশেও বুঝি ছড়িয়ে গেল উৎসবের আবির!

default-image

সাধারণত ডিফেন্ডার হিসেবে গোল ঠেকানোই আনাইয়ের কাজ। কিন্তু ওপরে উঠে গোল করতে পারা ডিফেন্ডারদেরই তো মনে রাখে ইতিহাস। কাল রাতের বদৌলতে আনাইয়ের নামটিও সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে বাংলাদেশের সেই ফুটবল ইতিহাসে।

অথচ গোলটির আগপর্যন্ত ম্যাচের মুহূর্তগুলো মনের রিপ্লেতে একবার চালিয়ে নেওয়া গেলে সেখানে একের পর এক ভেসে উঠবে খণ্ড খণ্ড হতাশার গল্প। স্ট্রাইকার তহুরা খাতুনের আলতো টোকা গোললাইন থেকে বেরিয়ে আসায় গোল হয়নি।

ধারাবাহিকভাবে আনাই মগিনির ক্রস সাইড পোস্টে ও শামসুন্নাহার জুনিয়রের ভলি ফিরে আসে ক্রসবারে লেগে।

বারবার বল পোস্টে লাগায় স্টেডিয়ামে বুঝি ফিসফাসও শুরু হলো, আজ (গতকাল) বুঝি কপাল পুড়েছে বাংলাদেশের! শেষ পর্যন্ত আনাইয়ের গোলে রুপালি এক রাত উপহার পেল বাংলাদেশ। ফ্লাডলাইটের আলোয় চ্যাম্পিয়ন মেয়েদের ট্রফি নিয়ে উচ্ছ্বসিত মুখগুলো জ্বলজ্বল করছিল রুপালি রাতের তারার মতো।

দেশের ফুটবল নিয়ে একের পর এক মন খারাপ করে দেওয়া খবরের মধ্যে কাল যারা বাংলাদেশের মেয়েদের চ্যাম্পিয়ন হওয়া দেখেছেন , তাঁদের মনটা আপাত ভালো হয়ে যাওয়ার কথা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের হোমপেজেও ফুটে উঠছে সেই আমেজ। দেশের ফুটবল নিয়ে নাক সিটকানো মানুষটাও প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন মারিয়া মান্দাদের। দমবন্ধ ফুটবলে এ যেন একটু নিশ্বাস নেওয়ার সুযোগ।

কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে গ্যালারির দৃশ্যটা একবার ভাবুন তো। কাল সন্ধ্যায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষ ফুটবল–উষ্ণতার আশায় আশ্রয় নিয়েছিলেন কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে। রাতে তাঁরা বাড়ি ফেরার রাস্তা ধরেছেন ‘বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন’ স্লোগানে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন