বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ইংল্যান্ডের হয়ে ১৯৬৬ বিশ্বকাপজয়ী হান্ট ১৯৫৮–৬৯ মৌসুম পর্যন্ত খেলেছেন লিভারপুলে। লিগে ২৪৪ গোল এবং সব মিলিয়ে ২৮৫ গোল করেছেন সাবেক এ স্ট্রাইকার।

তাঁর মৃত্যুসংবাদ নিশ্চিত করে লিভারপুলের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কিংবদন্তি সাবেক স্ট্রাইকার স্যার রজার হান্টের চলে যাওয়ায় আমরা শোকগ্রস্ত। এই দুঃখজনক ও কঠিন সময়ে রজার হান্টের পরিবার ও স্বজনদের পাশে আছে লিভারপুল। শান্তিতে ঘুমান স্যার রজার হান্ট (১৯৩৮–২০২১)।’

রজার হান্ট ইংলিশ ফুটবলে বিশেষ একটি দলের সদস্য—১৯৬৬ বিশ্বকাপজয়ী ইংল্যান্ড দল। সে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সব কটি ম্যাচ খেলে ৩ গোল করেছিলেন। ইংল্যান্ড আক্রমণভাগে প্রথমে জুটি বেঁধেছিলেন জিমি গ্রেভসের সঙ্গে। পরে গ্রেভস পায়ের চোটে পড়ায় পেয়ে যান জিওফ হার্স্টকে।

তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালে হার্স্টের যে গোলের বৈধতা নিয়ে আজও বিতর্ক হয়, তা নিয়ে সব সন্দেহ দূর করতে প্রায়ই রজার হান্টের উদাহরণ দিতেন হার্স্ট।

বল গোললাইন অতিক্রম করেছে কি না, সেই বিতর্কে হার্স্ট বলেছিলেন, বলের সবচেয়ে কাছে ছিলেন হান্ট। তিনি যদি বুঝতেন বল গোললাইন পার হয়নি, তাহলে আলতো টোকাতেই জালে পাঠাতে পারতেন। কিন্তু তা না করে তিনি গোল উদ্‌যাপনে যোগ দিয়েছিলেন। হান্টের সততা নিয়ে ইংলিশ ফুটবলে তাঁর সমসাময়িক সতীর্থরাও অনেক গল্প বলেছেন।

তবে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপজয়ী সে দলের অনেকেই ‘নাইটহুড’ পেলেও ‘গার্ডিয়ান’-এর ভাষায়, বাকিংহাম প্যালেস কখনো হান্টকে এই আশীর্বাদপুষ্ট করেনি। তা নিয়ে অবশ্য তাঁর কখনো দুঃখও ছিল না। একবার বলেছিলেন, ‘আমার কখনো এটার প্রয়োজন হয়নি। আমাকে নাইটহুড দিয়েছে কপ (অ্যানফিল্ডের একটি স্ট্যান্ড)। এটাই আমার কাছে অনেক কিছু।’

কিংবদন্তি কোচ বিল শ্যাঙ্কলির অধীন লিভারপুলের পারফরম্যান্স ক্লাবটির যে সমর্থক-প্রজন্ম দেখেছে, তাদের কাছে হান্ট সব সময়ই ‘স্যার রজার’। ভক্তরা সম্মান জানিয়ে তাঁকে এ নামে ডাকতেন।

১৯৫৮ সালে লিভারপুল দ্বিতীয় বিভাগে থাকতে ক্লাবটির হয়ে অভিষেকেই গোল করেন হান্ট। ১৯৬৯ সালে লিভারপুলের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলার দুই বছর আগে (১৯৬৭) ক্লাবটিতে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে সে ম্যাচে গোল করে হর্ডন হজসনের ২৪১ গোলের রেকর্ড ভাঙেন হান্ট। ২৫ বছর পর সে রেকর্ড ভাঙেন ইয়ান রাশ।

default-image

ইংল্যান্ডের জার্সিতে ৩৪ ম্যাচে ১৮ গোল দিয়ে ইংলিশ ফুটবলে হান্টের মর্যাদাকে বোঝানো কঠিন। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে আলফ রামসির সেই ইংল্যান্ড দলে আক্রমণভাগে হান্ট ছিলেন প্রথম পছন্দ। আর লিভারপুলের ইতিহাসে হান্টের অবস্থান বুঝিয়ে দিয়েছেন বর্তমান কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ, ‘এটা সত্যিই দুঃখজনক খবর। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ সময় নিয়মিতই আমাদের ক্লাবের এমন সব কিংবদন্তিকে বিদায় জানাতে হচ্ছে। এটা পরিষ্কার যে লিভারপুলের ইতিহাসে গুরুত্বের দিক থেকে দুইয়ে থাকবেন রজার হান্ট, সেখানে আর কারও স্থান নেই।’

ইংল্যান্ড জাতীয় দলও চুপ থাকেনি। ‘থ্রি লায়নস’দের পক্ষ থেকে টুইট করা হয়, ‘রজার হান্টের মৃত্যুর খবরে আমরা ভীষণ শোকাহত। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে তিনি ইংল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন। রজারের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা রইল।’

১৯৬৬ বিশ্বকাপে আক্রমণভাগে হান্টের সতীর্থ ও ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার জিমি গ্রেভস না–ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন প্রায় ১০ দিন আগে। লিভারপুলের আক্রমণভাগে দীর্ঘদিনের সতীর্থ ইয়ান সেন্ট জনকে হারিয়েছেন গত মার্চে।

সাবেক এই দুই সতীর্থের সঙ্গে দেখা করার জন্য আজকের দিনটিই বেছে নিলেন স্যার রজার হান্ট।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন