হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ম্যারাডোনা।
হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ম্যারাডোনা। ফাইল ছবি: রয়টার্স

৬০তম জন্মদিন পালন করেছেন কদিন আগেই। তাঁর জন্মদিনে স্তুতিবাক্যে ভরে উঠছিল সংবাদমাধ্যম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বের অধিকাংশ ফুটবল তারকাই স্মরণ করেছেন তাঁকে। স্বয়ং পেলে ৮০ বছর বয়সে এসেও ম্যারাডোনাকে নিয়ে টুইট করতে ভোলেননি। এমন আনন্দমাখা পরিবেশে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ উড়ে এল। গতকাল সোমবার রাতে হঠাৎ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে ম্যারাডোনাকে।

সর্বশেষ গত শুক্রবার ম্যারাডোনাকে জনসমক্ষে দেখা গেছে। বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ম্যারাডোনা সেদিন জন্মদিন উপলক্ষে ক্লাব জিমনাসিয়ায় এসেছিলেন। দিনটা উপভোগ করতে কেকও কেটেছিলেন। কিন্তু শরীরের অবস্থা ভালো না হওয়ায় ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেননি। এ কারণে ম্যারাডোনার এভাবে গতকাল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বেশ দুশ্চিন্তার জন্ম দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশ্বস্ত করেছেন, খুব একটা গুরুতর নয় ম্যারাডোনার পরিস্থিতি। এখন পর্যন্ত যা ইঙ্গিত, করোনা হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি তাঁর মধ্যে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় ক্লাব জিমনাসিয়ার মাঠ থেকে শুক্রবার চলে যাওয়ার পর আর দেখা যায়নি ম্যারাডোনাকে। গতকাল তাঁকে লা প্লাতার ইপেন্সা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। বুয়েনস এইরেস থেকে এক ঘণ্টা দূরত্বের এই হাসপাতালে আপাতত তাঁকে নানা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। তাঁর চিকিৎসক লিপোলদো লুক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর অবস্থা ভালো ছিল না এবং তাঁকে অন্তত তিন দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। মানসিকভাবেও ভালো নেই তিনি। আর এটা তাঁর শরীরে প্রভাব ফেলেছে।

ম্যারাডোনার অবস্থা খুব একটা গুরুতর নয় বলেই আশ্বস্ত করেছেন লুক। তবে এই চিকিৎসকের ধারণা, যেভাবে চলছিল, হাসপাতালে না এনে উপায় ছিল না। খেয়ালি ম্যারাডোনাকে সুস্থ রাখার কাজটা কত কঠিন, সেটা টের পাওয়া যায় লুকের কণ্ঠে, ‘যতটা সুস্থ হলে আমি খুশি হতাম, তিনি অত সুস্থ নন। আমি জানি, তাঁর এর চেয়ে ভালো থাকা উচিত। তাঁর সাহায্য দরকার, এখনই সময় তাঁকে সাহায্য করার। ডিয়েগো এমন একজন, যিনি মাঝেমধ্যে অসাধারণ এবং বাকি সময় অতটা না। তাঁর আরও ১০ হাজার গুণ ভালো থাকা উচিত। এখানে আনাটা তাঁকে সাহায্য করবে। ম্যারাডোনা হওয়া খুব কঠিন।’

default-image

ম্যারাডোনাকে কী কারণে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হননি চিকিৎসক। তবে সবাইকে আশ্বস্ত করেছেন, অন্তত কোভিড-১৯–সংক্রান্ত কিছু হয়নি তাঁর। তবে গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার হাসপাতালে যেতে হয়েছে ম্যারাডোনাকে। ২০১৯ সালে পাকস্থলীতে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে নিতে হয়েছিল তাঁকে। ২০১৮ সালে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচ দেখতে দেখতেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0