হরলান্ডকে পেতে চায় সবাই।
হরলান্ডকে পেতে চায় সবাই।ছবি: রয়টার্স

বার্সেলোনার নতুন সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা তাঁকে ঘিরে বার্সেলোনায় নতুন দিনের সূচনা করতে চান। গত কয়েক বছরে বার্সায় গোল করা আর করানো—দুই দায়িত্বই পালন করে চলা লিওনেল মেসির ওপর থেকে গোল করার চাপ কমানো, দলকে চ্যাম্পিয়নস লিগে আরও প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ করে তোলা...আর্লিং হরলান্ডকে বার্সেলোনার না চাওয়ার কোনো কারণ নেই।

অবশ্য আর্লিং হরলান্ডকে ইউরোপের কোনো ক্লাবই কিনতে না চাওয়ার কোনো কারণ নেই। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের ২০ বছর বয়সী নরওয়েজিয়ান গোলমেশিনকে পেতে বার্সা, রিয়াল মাদ্রিদ, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার সিটি...ইউরোপের সব ক্লাবই একপায়ে খাড়া। কিন্তু সাধ থাকা তো বড় ব্যাপার নয়, সাধ্যও তো থাকতে হবে। নতুন খবরটা বলছে, হরলান্ডকে আগামী মৌসুমে কেনা বাকি সব দলের জন্য অসাধ্য করে রাখার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে ডর্টমুন্ড।

ফুটবলবিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন জানাচ্ছে, হরলান্ডের দাম ১৮০ মিলিয়ন বা ১৮ কোটি ইউরো নির্ধারণ করেছে ডর্টমুন্ড। শুধু ম্যান সিটি, পিএসজির মতো দু-একটি ক্লাব বাদ দিলে বার্সা-রিয়াল-লিভারপুলের মতো বাকি সব ক্লাবেরই এই দাম দেখে মাথা ঘোরানোর কথা।

বিজ্ঞাপন
default-image

বার্সা-রিয়ালকে ঘিরে তাঁকে পাওয়ার গুঞ্জন বেশি বলে হরলান্ডের দাম শুনে বার্সা-রিয়ালেরই মাথাব্যথাটা বেশি হবে। একে তো করোনাকালে সব ক্লাবই ‘লস’ গুনছে, তারওপর বার্সা-রিয়ালের ব্যাংক হিসাবে তাঁকে কেনার মতো টাকা এমনিতেই ছিল না। বার্সা তো ১০০ কোটি ইউরোর বেশি দায় মাথায় নিয়ে দেউলিয়া হওয়ারই পথে! ওদিকে নিজেদের স্টেডিয়াম সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সংস্কারে হাত দেওয়া রিয়াল সে খরচ মেটাতে গিয়ে গত কয়েক বছরে বেশ হিসাব কষে খেলোয়াড় কিনছিল, এর মধ্যে করোনা আরও ক্ষতি বাড়িয়ে দিয়ে গেছে।

কিন্তু ইচ্ছা, সাধ বা স্বপ্ন তো আর কমাতে পারেনি! না রিয়ালের কমেছে, না বার্সার। লাপোর্তা সভাপতি হয়ে আসার পর কুতিনিও, গ্রিজমান, ব্রাথওয়েইট, পিয়ানিচের মতো অনেক খেলোয়াড়কে বেচে দিয়ে হলেও হরলান্ডকে আনতে চান। রিয়াল তো আরেক কাঠি সরেস। দলের খোলনলচে বদলানো দরকার, সেটা রিয়াল কোচ জিনেদিন জিদান আর সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন, সে লক্ষ্যে হরলান্ডের পাশাপাশি কিলিয়ান এমবাপ্পেকেও কিনতে চাইছে রিয়াল—এমনই গুঞ্জন ইউরোপে।

হরলান্ডের দাম শোনার পর সে গুঞ্জন কী রূপ নেয়, তা-ই দেখার। অবশ্য ডর্টমুন্ডের এমন দাম চাওয়া একেবারে অমূলকও নয়। ২০১৭ সালে পিএসজি ১৮ বছর বয়সী কিলিয়ান এমবাপ্পেকে মোনাকো থেকে নিয়ে নিয়েছিল। কাগজ-কলমে দেখানো হয়েছে ২০১৭-১৮ মৌসুমে এমবাপ্পে মোনাকো থেকে ধারে খেলেছেন পিএসজিতে। পরের বছর আর কোনো রাখঢাক করেনি, ১৮ কোটিতে তাঁকে পাকাপাকিভাবে কিনে নিয়েছে পিএসজি। তা এমবাপ্পের এমন দাম হতে পারলে হরলান্ডের কেন নয়!

default-image

এমবাপ্পের পাশাপাশি হরলান্ডকেই আগামীর ফুটবলের সবচেয়ে বড় সুপারস্টার মানা হচ্ছে। তা-ই হওয়ার কথা। এমবাপ্পে ফ্রান্স আর পিএসজির জার্সিতে সমান উজ্জ্বল, হরলান্ডও কম যান না! গত বছরের জানুয়ারিতে অস্ট্রিয়ার রেড বুল সালজবুর্গ থেকে ডর্টমুন্ডে আসার পর থেকে হরলান্ড যে ভয়ংকর ছন্দে আছেন! ৪৯ ম্যাচে করেছেন ৪৯ গোল। এই মৌসুমে ৩১ ম্যাচে গোল ৩২টি, চ্যাম্পিয়নস লিগে ৬ ম্যাচে ১০টি!
হরলান্ডের মুখপাত্র মিনো রাইওলা কয়েক দিন আগে বলেছিলেন, হরলান্ডকে পেতে ১০টি ক্লাব লড়ছে। লড়াইটা অবশ্য আগামী মৌসুমে বেশি জমবে। হরলান্ডকে কেনার সময় তাঁর চুক্তিতে ডর্টমুন্ড শর্ত দিয়ে রেখেছিল, ২০২২ সালে তাঁর ‘রিলিজ ক্লজে’র (ডর্টমুন্ডের ইচ্ছার বাইরে কোনো ক্লাব হরলান্ডকে কিনতে চাইলে যে দাম দিতে হবে, সেটি নিরূপণ করার ক্লজ) ৭৫ মিলিয়ন বা সাড়ে ৭ কোটি ইউরোতে কিনে নিতে পারবে কোনো ক্লাব। কিন্তু বার্সা-রিয়ালের মতো ক্লাব তো তত দিনও অপেক্ষা করতে রাজি নয়, হরলান্ডকে পেতে চায় আগামী মৌসুমেই।

ডর্টমুন্ড আর কী করবে, হরলান্ডের দাম ঠিক করে রেখেছে ১৮ কোটি ইউরো। যাতে করোনার এই সময়ে কোনো ক্লাব চাইলেই হরলান্ডকে ডর্টমুন্ড থেকে নিয়ে যেতে না পারে। অবশ্য ডর্টমুন্ড ছাড়তে না চাইলে যে খেলোয়াড়কে কেনা সম্ভব হয় না, সেটি গত মৌসুমে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ডর্টমুন্ডের ইংলিশ ফরোয়ার্ড জেডন সাঞ্চোকে পাওয়ার চেষ্টা ছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের, কিন্তু দামে মেলেনি। ডর্টমুন্ড ১২ কোটি ইউরো চেয়েছিল, ম্যান ইউনাইটেড তা দিতে রাজি হয়নি। ডর্টমুন্ড তাই ম্যান ইউনাইটেডকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে।

নাম না জানা সূত্রের কথা বলে ইএসপিএন লিখেছে, চেলসির কর্তাব্যক্তিরা ধরে রেখেছিলেন, হরলান্ডকে এই মৌসুমের শেষে লন্ডনের ক্লাবটিতে নিয়ে আসতে রাজি করাতে পারবেন তাঁরা। কিন্তু সেটা ছিল হরলান্ডের দাম ডর্টমুন্ড ১৮ কোটি ঠিক করে দেওয়ার আগে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ উলে গুনার সুলশারও অনেকদিন ধরেই হরলান্ডকে চান, কিন্তু ক্লাবের সর্বশেষ আর্থিক বিবৃতি বলছে, ম্যান ইউনাইটেডের আয় ৭ শতাংশ কমে গেছে। লাভও কমেছে ৭ শতাংশ।

আর বার্সা? তাদের দেনাই এখনো আছে ১১০ কোটি ইউরো! সেটি শোধ করারই নাম নেই, এর মধ্যে ১৮ কোটি ইউরো দাম শুনে বার্সা কর্মকর্তাদের পিলে না চমকে যায়!

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন