এফএ কাপ থেকে বাদ পড়ে গেছে ইউনাইটেড।
এফএ কাপ থেকে বাদ পড়ে গেছে ইউনাইটেড।ছবি: এএফপি

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো ক্লাবে খেলতে হলে ধকল সইতে হয়। মানসিকভাবে শক্তিশালী হতে হয়, শারীরিকভাবে পরীক্ষা দিতে হয়। ইউনাইটেড সব সময় শিরোপা জিততে চায়। আর শিরোপা জিততে চাইলে মৌসুমে অন্তত ৫০ ম্যাচ খেলার প্রস্তুতি নিয়ে রাখা ভালো। মৌসুমে শুধু লিগের ম্যাচ খেলে বাকি সময়ে আয়েশে কাটিয়ে দিতে চান, এমন খেলোয়াড়দের জন্য রেড ডেভিলদের জার্সি নয়। গত পরশু কথাটা বলার সময় বেশ বলিষ্ঠ শোনাচ্ছিল উলে গুনার সুলশারের কণ্ঠ।

প্রিমিয়ার লিগ জেতার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। কাল পর্যন্ত ইউরোপা লিগ ও এফএ কাপে টিকে ছিল ইউনাইটেড। দুটি টুর্নামেন্টের ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছালে মৌসুমের বাকি সময়ের মধ্যে ১৭টি ম্যাচ খেলতে হতো তাদের। আর টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলে বাড়তি ৫ ম্যাচ খেলার হাত থেকে বেঁচে যেতেন খেলোয়াড়েরা। কিন্তু সুলশার হুংকার ছুড়েছিলেন, শিরোপা জেতার স্বপ্ন থাকলে ব্যস্ত সূচিতে খেলার অভ্যাস করতে হবে। ইউনাইটেডের খেলোয়াড় হলে ক্লান্তির কথা বলতে নেই।

সেই সুলশার দুদিনেই উল্টো ঘুরে গেলেন। কাল এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে লেস্টারের কাছে ৩-১ গোলে হেরে গেছে ইউনাইটেড। হারের পরই নিজের মন্ত্র ভুলে গেছেন সুলশার। ইউনাইটেডের মতো দলের এমন সূচির মাঝেই খেলার কথা—সে কথা বেমালুম ভুলে গেছেন। এখন হারের দায় ব্যস্ত সূচির ওপরই ফেলছেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

ম্যাচের আগেই সুলশার বলেছিলেন, এ ম্যাচ নিয়ে আলাদাভাবে ভাবেননি। লেস্টারকে ট্যাকটিকসের দিক থেকে কীভাবে থামানো যায়, সেটা নিয়ে নাকি ভাবার সময়ই পাননি। এর জন্য ব্যস্ত সূচিকেই কারণ দেখিয়েছিলেন। অবশ্য এর আগে ২৫ বারের দেখায় যে দল ইউনাইটেডকে মাত্র একবার হারিয়েছে তাদের নিয়ে না ভাবলেও চলবে—এমনটা ভাবলে দোষ দেওয়া যায় না সুলশারকে। কিন্তু ব্রেন্ডন রজার্সের দল কাল ঠিকই ইউনাইটেডকে ডুবিয়েছে। ২০২০ সালের ১৯ জানুয়ারির পর ঘরোয়া টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষের মাঠে এই প্রথম হারল রেড ডেভিলরা।

এমন হারের পর সুলশার অবশ্য অজুহাত খুঁজে নিতে খুব বেশি সময় ব্যয় করেননি। প্রিমিয়ার লিগের ব্যস্ততা আছে, ইউরোপা লিগেও এসি মিলানের সঙ্গে শেষ ষোলোর ম্যাচ ছিল গত বৃহস্পতিবার। এভাবে টানা খেলে যাওয়ার ক্লান্তিকে সুলশার তুলে ধরেছেন সবার সামনে, ‘আমাদের খেলায় প্রাণ ছিল না, কিন্তু এর কারণও আছে। এ দলটা তিন-চার মাস ধরে দুর্দান্ত খেলছে। প্রতি তিন দিনে একবার খেলেছি এবং ভালোই খেলেছি। কিন্তু অবশেষে এত খেলা আর ভ্রমণের ধকলটা টের পেলাম আমরা। বৃহস্পতিবার মিলানে অনেক বড় একটা রাত ছিল আমাদের জন্য। শারীরিকভাবে আমাদের অনেক শক্তি নিয়ে নিয়েছে এ ম্যাচ। (লেস্টারের বিপক্ষে) আমাদের বাড়তি গতি, কর্তৃত্ব ও আত্মবিশ্বাস ছিল না।’

default-image

পরশু ক্লাবের ওয়েবসাইটে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুলশার বলেছিলেন, দলে ছয়–সাতজন খেলোয়াড় দরকার, যাঁরা এক মৌসুমে অন্তত ৫০ ম্যাচ খেলতে পারেন। তাহলেই নাকি আবার শিরোপা জেতা শুরু করবে ইউনাইটেড। এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত চারজন ইউনাইটেড খেলোয়াড় ৪০-এর বেশি ম্যাচ খেলেছেন। সুলশারের শর্ত অনুযায়ী সে ক্ষেত্রে মৌসুম শেষ হতে হতে ৫০-এর বেশি ম্যাচ খেলার কোটা পূরণ করতে পারার অবস্থায় আছেন সাতজনের মতো খেলোয়াড়। সেই সুলশারই এখন বলছেন, তাঁর খেলোয়াড়েরা খেলতে খেলতে ক্লান্ত হয়ে গেছেন!

ম্যাচ শেষে সুলশার অন্তত এমনটাই দাবি করেছেন, ‘আমরা এগিয়ে থেকে শুরু করতে চেয়েছিলাম এবং ভালো খেলতে চেয়েছিলাম। কারণ, শুরুতে একটা গোল পেলে বাড়তি অ্যাড্রেনালিন আর আত্মবিশ্বাস পাওয়া যায়। আর সেটাই ম্যাচের ফল পক্ষে নিয়ে আসে। আমাদের এমন অনেক খেলোয়াড় আছে, যারা অনেক বেশি ম্যাচ খেলেছে এবং এমন অনেকেই আছে যারা খুবই কম খেলেছে; অ্যান্থনি মার্শিয়াল, ডনি ফন ডি বিক, পল পগবা এবং অন্যরা অনেক দিন ধরে ফুটবলের মধ্যে নেই। একটা শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলার মতো যথেষ্ট রসদ ছিল না।’

ব্যস্ত সূচি থেকে দুটি ম্যাচ কমে গেছে ইউনাইটেডের। এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে এখন প্রিমিয়ার লিগ আর ইউরোপায় ভালো কিছু করতে চাচ্ছেন সুলশার, ‘এখন ইউরোপা লিগ এবং প্রিমিয়ার লিগে মনোযোগ দিতে চাই। হ্যাঁ, ওয়েম্বলিতে (এফএ কাপ ফাইনালে) যেতে পারলে ভালো লাগত, কিন্তু এখন যে ম্যাচ হাতে আছে, সেখানেই মনোযোগ দিতে চাই। লিগে ভালো অবস্থায় (পয়েন্ট তালিকার দুই নম্বরে) আছি এবং আরও উন্নতি করতে চাই। (লিগের পয়েন্ট তালিকায়) লেস্টার আমাদের একেবারে গা ঘেঁষে আছে, তাই কাজটা সহজ হবে না। কিন্তু আমরা ভালো করতে চাই এবং ইউরোপাতেও যত দূর সম্ভব যেতে চাই।’

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন