বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

পমেরানিয়ান জাতের ছোট্ট কুকুরটিকে হারানোর বেদনায় যেন পাগলই হয়ে গিয়েছিলেন স্টারিজ। ইনস্টাগ্রামে বেশ নিয়মিত ইংলিশ তারকা তখন ইনস্টাগ্রামে এসেই জানান, প্রিয় কুকুরটিকে ফিরে পেতে যা দরকার, তা-ই করবেন। চোরদের অনুরোধ করেন, যদি কুকুরটিকে চুরি করে অর্থ আদায় করাই তাদের উদ্দেশ্য হয়, তাহলে যেন তাঁর কাছে সরাসরি অর্থই দাবি করে।

যেকোনো দাবি তিনি পূরণ করতে প্রস্তুত জানিয়ে স্টারিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলাদাভাবে অনুরোধ করেন, হারানো কুকুরটি যিনি ফিরিয়ে দেবেন, তাঁকে পুরস্কৃত করা হবে। ‘কুকুরটির জন্য যেকোনো অঙ্ক দিতে আমরা রাজি। ২০ হাজার, ৩০ হাজার...যা চাইবেন!’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তখন লিখেছিলেন স্টারিজ।

ঘোষণায় কাজও হয়েছে। দুই দিন পরই তাঁর কুকুর ফিরে পাওয়া যায়। ফস্টার ওয়াশিংটন নামের লস অ্যাঞ্জেলেসের এক র‍্যাপ সংগীতশিল্পী কুকুরটিকে খুঁজে পেয়ে টুইটারে সেটির ছবি পোস্ট করেন। পোস্টে স্টারিজকে ট্যাগও করেন।

কিন্তু কুকুর ফিরে পাওয়ার পর স্টারিজ আর তাঁকে অর্থ দেননি বলে অভিযোগ করেন ‘কিলা ফেইম’ ডাকনামে পরিচিত এই র‍্যাপার।

এ নিয়ে গত মে মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালতে মামলাও করেন ফস্টার ওয়াশিংটন। এত দিন পর সেটির রায় এসেছে। বিচারক কার্টিস কিন রায় দেন, ওয়াশিংটনকে ৩০ হাজার ডলার পরিশোধ করতে হবে স্টারিজকে। পাশাপাশি মামলা পরিচালনার খরচ বাবদ ওয়াশিংটনের যে ৮৫ ডলার খরচ হয়েছে, সেটিও দিতে হবে স্টারিজকে।

সংবাদ সংস্থা পিএ জানাচ্ছে, আদালতের রায়ের অনুলিপি তাদের হাতে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, বিচারক ‘বাই ডিফল্ট’ রায় দিয়েছেন। অর্থাৎ, আদালতের সমনের পরও স্টারিজ সেটির জবাব দেননি।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটন বলেছেন, স্টারিজের আচরণে তিনি কষ্ট পেয়েছেন। এখন তাঁর আশা, ‘আশা করি, তিনি এখন টাকাটা দেবেন। রায়ের বিরুদ্ধে আবার আপিল করবেন না। আমি বেশ রোমাঞ্চিত। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই মামলার কাজ নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছি। বিশ্বাসই হচ্ছে না সেটির রায় এসে গেছে। যখন কুকুরটা পেয়েছিলাম, তখন মনে হয়েছিল, আমার জীবন আগের চেয়ে কিছুটা ভালো হতে যাচ্ছে।’

default-image

স্টারিজের জন্য এ রায় আরেকটা ধাক্কা হয়েই এল আরকি! ইংলিশ ফুটবলে অন্যতম প্রতিভাবান স্ট্রাইকার স্টারিজের ক্যারিয়ার চোটের কারণে পূর্ণতা পায়নি। ২০১৩-১৪ মৌসুমে লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে মিলে লিভারপুলকে ইংলিশ লিগের শিরোপা প্রায় এনেই দিয়েছিলেন স্টারিজ। সে সময় ভাবা হতো, ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসেরই সেরা স্ট্রাইকারদের একজন হবেন তিনি। সে প্রতিভা তাঁর ছিল, কিন্তু চোট তাঁকে সে সুযোগ দেয়নি।

চোটের চোটপাটের সঙ্গে যুঝতে যুঝতে একসময় হেরেই যান স্টারিজ। ইউরোপের সেরাদের সারিতে ওঠা তো হয়ইনি, লিভারপুলেও আর নিয়মিত হতে পারেননি। ২০১৯ সালে লিভারপুলের সঙ্গে চুক্তি শেষে যোগ দেন তুরস্কের ক্লাব ত্রাবজোনস্পোরে। তিন বছরের চুক্তিতে যোগ দেওয়ার পর ১৬ ম্যাচে ৭ গোলও করেছিলেন, কিন্তু চোট আর বেটিং বিতর্কের কারণে ২০২০ সালের মার্চে স্টারিজ আর ত্রাবজোনস্পোরের মধ্যে চুক্তি বাতিলের সমঝোতা হয়।

এখন স্টারিজ খেলছেন অস্ট্রেলিয়ার ক্লাব পার্থ গ্লোরিতে। গত অক্টোবরে যোগ দিলেও এখন পর্যন্ত নতুন ক্লাবের জার্সিতে মাত্র একটি ম্যাচই খেলতে পেরেছেন স্টারিজ।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন