দুর্দান্ত খেলছেন ব্যামফোর্ড, তবে তাঁর পরিচয়টা শুধু ফুটবলারে আটকে নেই।
দুর্দান্ত খেলছেন ব্যামফোর্ড, তবে তাঁর পরিচয়টা শুধু ফুটবলারে আটকে নেই। ছবি: এএফপি

প্রিমিয়ার লিগে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকা দেখলে চমকে যেতে পারেন অনেকেই। প্রিমিয়ার লিগের একনিষ্ঠ অনুসারী না হলে গোলদাতার শীর্ষে যে ডমিনিক কালভার্ট-লুইন আছেন, এটা মাথায় আনা কঠিন। দুইয়ে আছেন সন হিউং-মিন। এ দুজন তবু ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের কিছুটা পরিচিত মুখ। তিনে মোহাম্মদ সালাহর সঙ্গে থাকা নামটি চমকে দিতে পারে, প্যাট্রিক ব্যামফোর্ড। লিডস ইউনাইটেডের এই স্ট্রাইকার কাল অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছেন।
 
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নাম ছড়াতে একটু দেরিই হলো ব্যামফোর্ডের। আগেও তিন মৌসুম খেলেছেন  ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে। কিন্তু  আলো ছড়ানোর কাজটা করতে করতে বয়স ২৮ বছর হয়ে গেল তাঁর। তবে ব্যামফোর্ডের নামটা বহু আগ থেকেই জানা ইংলিশ সংবাদমাধ্যমের। কারণ, বিশ্বের অন্যতম সেরা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমন্ত্রণ তো চাইলেই পাওয়া যায় না। কিন্তু  পেশাদার ফুটবলার হওয়ার টানে আইভি লিগের গ্র্যাজুয়েট হওয়ার প্রলোভনটা এড়িয়েছেন ব্যামফোর্ড।

বিজ্ঞাপন

ব্যামফোর্ডের গল্পটা অন্য ফুটবলারদের মতো নয়। ইংল্যান্ডে অধিকাংশ ফুটবলারেন বেড়ে ওঠার গল্পটা প্রতিবন্ধকতার, পরিশ্রম আর দারিদ্র্যকে হার মানানোর। ব্যামফোর্ডকে এ পথে কখনো হাঁটতে হয়নি। সচ্ছল পরিবারে জন্ম, তাই বরাবরই পড়াশোনাকে গুরুত্ব দিতে হয়েছে। নটিংহাম ফরেস্টের ভক্ত, এই ক্লাবের একাডেমিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর স্কুল প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলত না বলে বাধ্য হয়ে রাগবি খেলতে হতো ব্যামফোর্ডকে। কাগজে-কলমে আট বছর বয়সে একাডেমিতে যোগ দিলেও দুই বছর ওভাবেই রাগবির ফুল ব্যাক হিসেবে পার করে দিয়েছেন।

ব্যামফোর্ডের বাবা বরাবরই পড়াশোনাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। ফলে নটিংহাম ফরেস্ট যখন পেশাদার চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল, তখনো তিনি একবার ভেবে দেখতে বলেছিলেন। কারণ, ভালো ছাত্র বলে তাঁর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। এক বছর আগেই সেকেন্ডারি পরীক্ষা (জিসিএসই) দিয়েছেন। পাঁচ বিষয়ে এ* পেয়েছিলেন। পড়ার জন্য বেছে নিয়েছিলেন ফ্রেঞ্চ ভাষা, ইতিহাস ও জীববিজ্ঞানের মতো বিষয়। এমন প্রতিভার ছটা দেখে আগ্রহী হয়ে উঠেছিল হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে বৃত্তির প্রস্তাবও দিয়েছিল হার্ভার্ড। এতে অবশ্য তাঁর ফুটবল দক্ষতাই বেশি ভূমিকা রেখেছিল।

default-image

এমন অবস্থাতেই ব্যামফোর্ডকে পেশাদার চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে নটিংহাম। সে প্রস্তাব পেয়ে হার্ভার্ডের কথা ভুলে গেছেন ব্যামফোর্ড। না, একটু ভুল হলো। আইভি লিগের কলেজকে ভুলে যাননি, তবে এটাকে বিকল্প পথ হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন এই স্ট্রাইকার। যদি ফুটবলার হিসেবে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পান তবে হার্ভার্ডের ব্যবসা অনুষদের ডিগ্রি নেবেন। ব্যামফোর্ডের প্রতিভা এখানেই শেষ নয়। ভায়োলিন বাজাতে পারেন। পিয়ানো ও স্যাক্সোফোনেও ভালো হাত। একবার মিডলসেক্সে সতীর্থদের বাখের (জোহান বাখ) সুর শুনিয়েছেন পিয়ানোতে।

হার্ভার্ডের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেও পড়াশোনাকে একেবারে বিদায় বলে দিতে চান না ব্যামফোর্ড। ২৮ বছর হয়ে গেছে। বুটজোড়া তুলে রাখার আগেই খণ্ডকালীন ডিগ্রি নিতে চান পছন্দের বিষয়ে। অবশ্য যে ব্যক্তি ফ্রেঞ্চ জার্মান ও স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলতে পারেন অনর্গল, তিনি চাইলেই সময় করে পূর্ণাঙ্গ একটা ডিগ্রি নিয়ে নিতে পারবেন। আপাতত তাঁর মতো আরেক মেধাবী কিন্তু খ্যাপাটে মার্সেলো বিয়েলসার জটিল নির্দেশনাগুলো মাঠে প্রয়োগ করাতেই মনোযোগ তাঁর। আর সে কাজে যে তিনি এখন পর্যন্ত সফল সেটা তো প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকাই বলছে!

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0