default-image

আজ থেকে বহু বছর পর হয়তো এ প্রশ্ন করা হবে, ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর খবরটা শোনার সময় কী করছিলেন আপনি? মৃত্যুর খবরটা পেয়েছিলেন কার কাছ থেকে? সাধারণ ভক্তদের ক্ষেত্রে উত্তরটা সহজ। কেউ পেয়েছেন টুইটার থেকে, কেউ ফেসবুকে, আর অধিকাংশ ভক্তই বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের পর্দায়। শুধু ম্যারাডোনার পরিবারের সদস্যরাই মৃত্যুসংবাদ পেয়েছেন সরাসরি। মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার আগেই তাঁর তিন মেয়ে জিয়ান্নিনা, দালমা আর ইয়ানাকে খবর দেওয়া হয়েছিল।

সৌভাগ্য বলুন বা দুর্ভাগ্য, ম্যারাডোনার সবচেয়ে বড় সন্তানই সে খবর তৎক্ষণাৎ পাননি। ডিয়েগো সিনাগ্রাকে বাবার কাছ থেকে স্বীকৃতি পেতে ৩০ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ম্যারাডোনার মৃত্যুর সময়টাতেও দুর্ভাগ্য সঙ্গী হলো সিনাগ্রার। কাছের কারও কাছ থেকে এ সংবাদ শোনার সুযোগ হয়নি। সে সময়টায় হাসপাতালের বেডে শুয়ে ছিলেন ম্যারাডোনা জুনিয়র। সেখানেই টিভির খবরে শুনেছেন বাবার মৃত্যুর সব খবর।

বিজ্ঞাপন
default-image

নেপলসে থাকার সময় ক্রিস্টিয়ানা সিনাগ্রার সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন ম্যারাডোনা। সে সম্পর্কের জেরেই জন্ম ডিয়েগো জুনিয়রের। আদালতের স্বীকৃতির পরও বহুদিন সিনাগ্রাকে নিজের সন্তান বলে মানেননি ম্যারাডোনা। অবশেষে ২০১৬ সালে বরফ গলে দুজনের মধ্যে। জুনিয়রকে ছেলে বলে মেনে নেন ম্যারাডোনা। কিন্তু মৃত্যুর সময়টাতে আবারও বাবার কাছ থেকে দূরেই পড়ে রইলেন ডিয়েগো।

দুই সপ্তাহ আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ডিয়েগো। এর আগেই করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবরটা জানিয়েছিলেন। বাবার মৃত্যুর সময়টাতেও হাসপাতালে ছিলেন। এর মধ্যে ইতালিয়ান সাংবাদিক তানক্রেদি পালমেরি দাবি করেছিলেন, বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার সময় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ছিলেন ডিয়েগো জুনিয়র। পালমেরি দাবি করেছিলেন, বাবার মৃত্যুর খবর নাকি জানা ছিল না ডিয়েগো জুনিয়রের। এক টিভি সাংবাদিক নাকি মন্তব্য জানতে চেয়ে ফোন করাতেই সে খবর জেনেছেন ডিয়েগো।

ইতালিয়ান টিভি রাই টু-র সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেছেন জুনিয়র। সেখানেই অবশ্য সবকিছু পরিষ্কার করে বলেছেন। জানিয়েছেন, মৃত্যুর খবরটা কোনো সাংবাদিকের কাছ থেকে নয়, টিভির মাধ্যমে জেনেছেন, ‘তাঁর সঙ্গে আমার সব সময় যোগাযোগ থাকত, প্রায়ই কথা বলতাম...অস্ত্রোপচারের পরপরই আমরা কথা বলেছি, ভিডিও কল করেছিলাম। খবরটা শুনে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। আমি হাসপাতালে ছিলাম এবং খবরটা টিভিতে দেখেছি। এরপরই মোবাইল ফোন বাজা শুরু হলো এবং ওরা নিশ্চিত করল, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে আর ফিরে আসছে না। আমি কদিন আগেই ভিডিও কলে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি এবং তিনি তখন খুবই ভালো ছিলেন। আমার সঙ্গে রসিকতা করছিলেন, হাসছিলেন। আমি খুবই খুশি হয়েছিলাম যে এই ঝামেলাটাও পার হয়ে এসেছেন।’

default-image

২ নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল ম্যারাডোনাকে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। সফল অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতাল থেকে ফিরেছিলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। তারপর এমন কিছু হতে পারে, সেটা কেই-বা ভাবতে পেরেছিল। ডিয়েগো জুনিয়রের কণ্ঠেও সে বিস্ময়। বাবার বিদায়বেলায় আর্জেন্টিনায় যেতে পারেননি, এ দুঃখ নিয়েই এখন বাকি জীবন পার করবেন জুনিয়র, ‘অস্ত্রোপচার তো খুব ভালোভাবেই পার করে এসেছেন। এর পর কী যে হলো। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটাই হয় মাঝে মাঝে। আমি তাঁর হাসিটা মিস করব খুব। একসঙ্গে ভালো সময় কাটিয়েছি, সেটাও। আমার মনে হয়, আমার অধিনায়ক কখনো মারা যাবেন না। আমি নিশ্চিত, আমার হৃদয়ে তিনি আজীবন বেঁচে থাকবেন। ডাক্তাররা আমাকে প্লেনে উঠতে মানা করেছেন; কারণ, এই অবস্থায় আমার ফুসফুস চাপের আকস্মিক পরিবর্তন নিতে পারবে না। জীবনে তাই আরেকটা কষ্ট এভাবেই মেনে নিতে হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন