default-image

ডিয়েগো ম্যারাডোনার ভক্তদের জন্য সুসংবাদ ও দুঃসংবাদ দুটিই আছে।

আগে সুখবরটা বলা যাক। কাল হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ম্যারাডোনা। আট দিন আগে বুয়েনস এইরেসের হাসপাতালে তাঁর মস্তিষ্কে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। মস্তিষ্কে জমাট বেঁধে থাকা রক্ত (ক্লট) অপসারণ করা হয়।

অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার পর একটু সুস্থ হতেই বাসায় ফিরতে পীড়াপীড়ি শুরু করেছিলেন ’৮৬ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। কিন্তু ৬০ বছর বয়সী ম্যারাডোনার শারীরিক অবস্থা বুঝে তাঁকে পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন চিকিৎসকেরা।

বিজ্ঞাপন

এক দশকের বেশি সময় ধরে ম্যারাডোনার স্বাস্থ্যগত সমস্যার চিকিৎসা করা আলফ্রেদো কাহে তখন জানিয়েছিলেন, মদ্যপান থেকে দূরে থাকার প্রতিক্রিয়া হিসেবে চৈতন্য হারানোর মতো সমস্যায় ভুগছেন ম্যারাডোনা।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসকে কাহে বলেছিলেন, ‘মদ্যপান বন্ধ করতে তাঁকে চিকিৎসা নিতেই হবে। তাঁর পরিবারের সবাই একমত যে ডিয়েগো এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ডিয়েগোর সামনের দিনগুলোয় কী ঘটবে, সেটা একটা রহস্য। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। তিনি এভাবে বাসায় ফিরতে পারেন না।’

default-image

অর্থাৎ মদের আসক্তি তাঁকে হাসপাতাল ছাড়তে দেরি করিয়ে দিচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত কাল পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতাল ছাড়েন ম্যারাডোনা। তবে বাসায় ফিরতে পারেননি।

সোজা চলে যান বুয়েনস এইরেস থেকে ৩০ কিলোমিটার উত্তরাঞ্চলের শহর তাইগ্রের একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে। মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের সেখানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়। তাঁর মেয়ে জিয়ান্নিনার বাসা থেকে কাছেই। মদের আসক্তি কাটিয়ে উঠতে সেখানে কিছুদিন থাকতে হবে আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তিকে।

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসক লিওপোলদো লুকু সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের ম্যারাডোনাকে দেখাশোনা করতে হবে, বিশেষ করে এ অবস্থায়।’ ম্যারাডোনার আইনজীবী মাতিয়াস মোরলা এর আগে জানিয়েছিলেন, তাঁর মক্কেল শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠার পথে। শরীরের নানা ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছেন ম্যারাডোনা।

মোরলা বলেন, ‘ডিয়েগো সম্ভবত জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে।’ তাঁর ভাষায়, ম্যারাডোনার মস্তিষ্কে রক্ত জমাট ধরা পড়াটা ‘অলৌকিক ব্যাপার, যা তার জীবনও কেড়ে নিতে পারত।’

default-image

সব সময় যেটিকে ‘বন্ধু’ বানিয়ে কাছে টেনে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি, তাঁর শরীরে সেই অ্যালকোহলের স্বেচ্ছাচারিতার প্রভাব এখন স্পষ্ট। মদ্যপানের অভ্যাস থেকে বিরত থাকার পর শরীরে যেসব উপসর্গ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, সেসব কারণে শিগগিরই বাসায় ফিরতে পারছেন না নাপোলির সাবেক এই তারকা।

ম্যারাডোনা অনেকের চোখেই তর্কযোগ্যভাবে সর্বকালের সেরা ফুটবলার। ১৯৮৬ বিশ্বকাপ প্রায় একাই জিতিয়েছেন আর্জেন্টিনাকে। কিন্তু তাঁর জীবনযাপনের ধরন সব সময়ই বিতর্ক কুড়িয়েছে।

default-image

নিষিদ্ধ ড্রাগ নেওয়ায় তাঁর ক্যারিয়ারের শেষটা মোটেও ভালো হয়নি। কোকেন সেবনের অভিযোগও রয়েছে ম্যারাডোনার বিরুদ্ধে। মোট কথা, এমন জীবনযাপনের কারণে এর আগে বেশ কয়েকবার হাসপাতালে যেতে হয়েছে ম্যারাডোনাকে।

এখন আর্জেন্টিনার ক্লাব জিমনাসিয়ার কোচের দায়িত্বে আছেন ম্যারাডোনা। অসুস্থ হওয়ার আগে গত ৩০ অক্টোবর তাঁর ৬০তম জন্মদিনে সর্বশেষবার ম্যারাডোনা যখন প্রকাশ্যে এসেছিলেন, তখন তাঁকে বেশ দুর্বলই লেগেছিল সবার।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0