গ্রুপের প্রথম ম্যাচে ইউক্রেনকে ৩-২ গোলে হারিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। সেদিন শেষ দিকে ম্যাচটা দারুণ জমে উঠেছিল। আজ অস্ট্রিয়া ম্যাচের শেষ দিকে দুয়েকটি সুযোগ তৈরি করা ছাড়া তেমন কোনো পরীক্ষাই নিতে পারেনি ডাচদের। বরং নেদারল্যান্ডস কেন দুই গোলের বেশি করতে পারেনি, সেটি নিয়েই আক্ষেপ থাকতে পারে স্বাগতিক দর্শকদের।

জয় নিয়ে অবশ্য কখনোই খুব একটা শঙ্কায় থাকতে হয়নি নেদারল্যান্ডসের সমর্থকদের। ম্যাচের ১১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে দলের প্রথম গোলটি করেন মেম্ফিস ডিপাই। দ্বিতীয় গোলটি এসেছে ৬৭ মিনিটে, করেছেন এখন পর্যন্ত ইউরোতে দারুণ ঝলক দেখানো রাইট উইংব্যাক ডেনজেল ডুমফ্রিস।

দুই দলের সর্বশেষ ৭ ম্যাচ সব মিলিয়ে ৩০টি গোল দেখেছে, ম্যাচপ্রতি গড়ে চারটিরও বেশি। দুই দল আজ নেমেছে কাগজে-কলমে বেশ আক্রমণাত্মক ছক নিয়ে। নেদারল্যান্ডস ৩-৪-১-২ ছকে, অস্ট্রিয়া ৩-১-৪-২ ছকে। কিন্তু রেফারির ম্যাচ শুরুর বাঁশির পর আক্রমণ যত সব নেদারল্যান্ডসের দিক থেকেই হলো!

৯ মিনিটে নেদারল্যান্ডসের প্রথম বলার মতো আক্রমণ, তাতেই পেনাল্টি! নেদারল্যান্ডস রাইটব্যাক ডুমফ্রিস বক্সে ঢুকে পড়েন, অস্ট্রিয়া অধিনায়ক ও ডিফেন্ডার দাভিদ আলাবার ধাক্কায় পড়েও যান। রেফারি প্রথমে আলতো ধাক্কা ভেবে পাত্তা দেননি।

কিন্তু পরে ভিএআরে দেখা যায়, ফাউলটা ঠিক বক্সের বাঁ প্রান্তের রেখার ওপর হয়েছে, আর তাতে পেনাল্টি দেওয়াও যায়। ভিএআর থেকে মাঠের মূল রেফারির প্রতি নির্দেশনা যায়, মাঠের পাশের স্ক্রিনে ঘটনাটা দেখে নেওয়া হোক। রেফারি দেখলেন, বাজল পেনাল্টির বাঁশি। ১২ গজ দূর থেকে গোল করতে খুব একটা বেগ পেতে হলো না ডিপাইকে।

২৪ মিনিটে আবার গোলের সুযোগ নেদারল্যান্ডসের, এবারও উৎসে আলাবার ভুল। বল নিয়ন্ত্রণে নিতে ভুল হলো কদিন আগে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়া অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডারের, তাঁর কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে যান ডিপাই। কিন্তু তাড়াহুড়ো করে শট নিয়ে ফেলেন ডাচ ফরোয়ার্ড। সব ঠিক থাকলে এই সপ্তাহেই বার্সেলোনায় যোগ দিতে যাওয়া ডিপাইয়ের শট লাগে বাঁ পাশের জালে।

৪০ মিনিটে আবার সুযোগ নষ্ট করলেন ডিপাই। লেফটব্যাক প্যাট্রিক ফন আনহল্টের লম্বা পাস আসে অস্ট্রিয়া বক্সে, ডাচ দুই স্ট্রাইকারের একজন ভেগহর্স্ট নিজে শট না নিয়ে পাস দেন ডিপাইয়ের দিকে। কিন্তু ডিপাইয়ের শট চলে যায় বারের ওপর দিয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধেও খেলার ঢং একই থাকল। ৬১ মিনিটে ভেগহর্স্টের ক্রস থেকে ডিফেন্ডার ডি ভ্রাইয়ের শট দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন অস্ট্রিয়া গোলকিপার বাখমান। এরপর বল ডাচ ডিফেন্ডার ডি লিখটের পায়ে পড়লেও তাঁর শট আটকে দেয় অস্ট্রিয়ার রক্ষণ।

দল এত সুযোগ হারানোর পর যদি ইউক্রেন ম্যাচের মতো কিছুর শঙ্কায় পড়ে গিয়ে থাকেন নেদারল্যান্ডসের সমর্থকেরা, ৬৭ মিনিটে সেটি কিছুটা মিলিয়ে দিলেন ডুমফ্রিস। ইউক্রেন ম্যাচে সেদিন দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দুই গোলে এগিয়ে গিয়েছিল নেদারল্যান্ডস, কিন্তু ৭৫ থেকে ৭৯ - পাঁচ মিনিটে দুই গোলে ম্যাচে ফেরে ইউক্রেন। শেষ পর্যন্ত ৮৫ মিনিটে ডুমফ্রিসের গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নেদারল্যান্ডস।

কিন্তু আজ সেরকম কিছু হলো না। সেদিনের সঙ্গে আজকের ম্যাচের মিল শুধু এটুকুই রইল যে, আজও নেদারল্যান্ডসকে স্বস্তি এনে দেওয়া গোলটা করলেন ডুমফ্রিস।

গোলের খোঁজে সে সময় অস্ট্রিয়া রক্ষণ অনেক উঁচুতে রেখে (হাইলাইন ডিফেন্স) খেলছে। সেটির সুযোগ নিলেন ডিপাই। মাঝমাঠ থেকে তাঁর ভাসানো থ্রু খুঁজে নিল ডাচ লিগে সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে দারুণ খেলা ডনিয়েল মালেনকে। অফসাইডের ফাঁদ এড়ানো দারুণ দৌড়ে বক্সে ঢুকে গেলেন মালেন, ততক্ষণে তাঁর আশপাশে দুই ডিফেন্ডার দেখে আড়াআড়ি পাস বাড়িয়ে দিলেন পোস্টের দিকে ফাঁকায় উঠে আসতে থাকা ডুমফ্রিসের দিকে। গোল করা তখন ডুমফ্রিসের জন্য হাতের মোয়া।

ম্যাচের গল্পে তখন আর কোনো বাঁক আসবে, ম্যাচ দেখে এমনটা মনে হচ্ছিল না। অস্ট্রিয়া যদিও শেষ দশ মিনিটে দু-তিনটি সুযোগ তৈরি করেছে। ৮১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে আলাবার বুলেটগতির শট চলে যায় নেদারল্যান্ডসের পোস্ট ঘেঁষে, তার তিন মিনিট পর ওসিনিও দারুণ সুযোগ পেয়েও হেড করলেন নেদারল্যান্ডস গোলকিপার স্টেকেলেনবার্গের গায়ে।

গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে উত্তর মেসিডোনিয়াকে ৩-১ গোলে হারানো অস্ট্রিয়ার এখনো শেষ ষোলোতে যাওয়ার আশা বেশ ভালোভাবেই বেঁচে আছে। আগামী সোমবার ইউক্রেনের বিপক্ষে জিতলে তো কথাই নেই, ড্র করলেও সুযোগ থাকবে গ্রুপে তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা চারে থেকে শেষ ষোলোতে যাওয়ার।