বিজ্ঞাপন
default-image

কিন্তু ওই যে কথায় আছে, ‘গেম ইজ আ গ্রেট লেভেলার’—ফাইনালের গালিচায় তাই স্বাভাবিক ঘটনাই ঘটল। ইউরোপিয়ান ফুটবলে খেলার মান বিচারে ফাইনালটা ছিল তুঙ্গস্পর্শী লড়াই—কখনো দাবার ছকে, কখনো আবার ঘোড়সওয়ারের মতো গতির ধুলো উড়িয়ে। ম্যাচে দুই মিনিটে লুক শ–র গোলটা স্মরণ করুন। ওয়েম্বলিতে টিকিট কেটে অনেকে নিজের আসনটা বুঝে পাননি (টিকিটহীন সমর্থকদের কাণ্ডে)—তারা ধাতস্থ হয়ে বসার আগেই গোল! গতিময় আক্রমণ থেকে ক্রস, হাফ ভলিতে শ–র জোরাল শট—গোলের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রব উঠল শ আসলে ইংল্যান্ডের রবার্তো কার্লোস! এই যে বল্গাহীন আবেগ, তাতে ভেসেই কি আয়তাকার সবুজ গালিচার ছকে শেষ দানে ভুল করলেন সাউথগেট?

default-image

অতিরিক্ত সময়েও ম্যাচ ১–১ গোলে সমতায়। টাইব্রেকার মাথায় রেখে শেষ মুহূর্তে সাউথগেট কী ভেবে বদলি হিসেবে নামিয়েছেন জেডন সাঞ্চো ও মার্কাস রাশফোর্ডকে? বুকায়ো সাকাও বদলি হিসেবে নেমেছেন ৭১ মিনিটে। যথাক্রমে ২১, ২৩ ও ১৯ বছর বয়সী এই তিন তরুণকে সাউথগেট কী বুঝে ঠেলে দিলেন টাইব্রেকারের মতো স্নায়ুক্ষয়ী মঞ্চে শট নিতে! এর মধ্যে সাকা আর সাঞ্চো তো এই প্রথম বড় কোনো টুর্নামেন্ট খেলছেন।

ইতালি গোলকিপার জিয়ানলুইজি দোন্নারুমার বীরত্বের ছটায় তিন তরুণের লক্ষ্যভেদে ব্যর্থতা ভবিষ্যৎ হয়তো মনে রাখবে না। কিন্তু প্রায়শ্চিত্তের সুযোগ পেয়েও তা নিজে ছুড়ে ফেলার দায় সাউথগেট কীভাবে এড়াবেন? ২৫ বছর আগে এই ইংল্যান্ডেই ইউরোর সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে ২৬ বছর বয়সী সাউথগেটের ব্যর্থতায় ফাইনালটা স্বপ্ন হয়েই থেকে গিয়েছিল। এবার সেই স্বপ্ন ধরা দিলেও নিজের কাঁচা বয়সের ভুল থেকে শিক্ষা না নিয়ে সাউথগেট আরও কচি–কাঁচাদের টাইব্রেকার নিতে পাঠালেন কোন যুক্তিতে?

default-image

রবার্তো মানচিনি কিন্তু সে ভুল করেননি। টাইব্রেকারে তাঁর পাঁচ সেনানির মধ্যে সবার বয়স পঁচিশের ঊর্ধ্বে—অভিজ্ঞ, পেনাল্টিতে দক্ষ ও পোড় খাওয়া সব যোদ্ধা। নির্ধারিত সময়ে গোল করে ইতালিকে সমতায় ফেরানো ৩৪ বছর বয়সী ডিফেন্ডার লিওনার্দো বোনুচ্চিকে টাইব্রেকারে রাখাটাই তার প্রমাণ। আর দোন্নারুমা? ইংল্যান্ডের হয়ে শেষ শট নেওয়া ১৯ বছর বয়সী সাকাকে দুঃস্বপ্নের আগুনে পুড়িয়ে দোন্নারুমার শীতল চাহনিতে গোলপোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসার দৃশ্য তো মনে আছে? ইউরোর এক সংস্করণে প্রথম দল হিসেবে ইতালিকে একাধিক টাইব্রেকার জেতানো গোলকিপারকে ‘নায়ক’ না বলে উপায় আছে!

শেষ পর্যন্ত ফুটবলের তাই ‘হোম’ মানে ‘ঘরে’ ফেরা হলো না। নীল উৎসবের উপলক্ষ হয়ে তার গন্তব্য রোম। আকণ্ঠ গিলে উন্মত্ত ইংরেজদেরও ঘোর কাটল ঘাম দিয়ে, তারা আবিষ্কার করলেন; আরে, রোম যখন বাঁশি বাজাচ্ছে, হোম তখন পুড়ছে! আর আকাশও নীল, নিচে আয়তাকার সবুজ গালিচার সরোবরে ফুটন্ত নীল শতদলে মধ্যমণি মানচিনি!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন