default-image

লিগের সবার নিচে থাকা দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ। এমন ম্যাচেও প্রমাণ করার কিছু ছিল রোনালদোর। ম্যাচের আগের ঘটনা যদি ভুলেও থাকেন, নরউইচ সমর্থকেরা তাঁকে খোঁচা দিয়ে জাগিয়ে তুললেন। ম্যাচের শুরুতে তাঁকে শুনতে হয়েছে ওল্ড ট্রাফোর্ডে, নিজ ঘরে!

জবাব দিতে খুব বেশি সময় নেননি। দায়টা নরউইচের। নিজের রক্ষণে পায়ের কারুকাজ দেখাতে চেয়েছিল নরউইচ রক্ষণ। অ্যান্থনির এলাঙ্গার প্রেসের সামনে ভুল করে বসলেন গিবসন। ইউনাইটেড উইঙ্গারের পাস ফাঁকায় পেয়ে গেল রোনালদোকে। ফাঁকা পোস্টে আলতো এক শটেই কাজ সারতে পারতেন, কিন্তু ডান পায়ের গোলায় যেন রাগটাও ঝাড়লেন।

default-image

৭ মিনিটের গোলটিতে যদি ভাগ্যের অবদান থাকে, দ্বিতীয় গোলের পুরোটাই দক্ষতার। ৩২ মিনিটে কর্নার থেকে বক্সে বল ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন অ্যালেক্স তেয়েস। গায়ের সঙ্গে সেটে থাকা গিবসনকে ছাপিয়ে লাফ দিলেন রোনালদো। তাঁর ট্রেডমার্ক হেডে ২-০ গোলে এগিয়ে গেল ইউনাইটেড।

প্রথমার্ধের শেষ ও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে টিমো পুক্কি রোনালদোর সে হাসি কেড়ে নিয়েছিলেন। যোগ করা সময়ে পুক্কির ক্রস থেকে হেডে ব্যবধান কমিয়ে আনেন কিয়েরান ডোয়েল। ৫২ মিনিটে ডোয়েলের পাস থেকেই সমতা ফেরান পুক্কি। ডোয়েল চমৎকার থ্রু বলে ইউনাইটেড রক্ষণ ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল। তিন মিনিট পর এগিয়ে যাওয়ারও সুযোগ পেয়েছিল নরউইচ। কিন্তু দাভিদ ডে হেয়া সে যাত্রা দলকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন।

default-image

৭৩ মিনিটে পল পগবার বদলে মাঠে নামেন হুয়ান মাতা। ম্যাচের গতিও বদলে যায়। মাতার বুদ্ধিদীপ্ত দৌড়ে নরউইচ রক্ষণ হতবুদ্ধ হয়ে পড়ছিল। ৭৫ মিনিটেই মিলল ফল। এলাঙ্গাকে বক্সের কাছে ফাউল করা হয়েছিল। ফ্রি কিক নিতে এগিয়ে এসেছিলেন রোনালদো। এক সময় এই দৃশ্য গোলকিপারদের মনে ভয় জাগালেও ইদানীং তেমনটা আর নয়। শেষ কবে রোনালদো ফ্রি কিক থেকে গোল করেছেন সেটা যে ভুলেই গিয়েছেন অনেক।

কিন্তু আজ যে রোনালদো নিজেকে আবার প্রমাণ করতে নেমেছেন। বহুদিন পর ফ্রি-কিকে সেই রোনালদো ফিরেছেন। ডান পা থেকে বের হলো এক গোলা। নরউইচের গোলকিপার টিম ক্রুল দুই হাত দিয়ে সেটা ঠেকাতে চেষ্টা করেছেন, হাতেও লাগিয়েছেন সে বল। কিন্তু গোলা আটকাতে সেটা যথেষ্ট হয়নি। ঠিকই জালে ঢুকেছে সে বল। হ্যাটট্রিক।

default-image

ক্লাব ক্যারিয়ারের ৫০তম হ্যাটট্রিক পেয়েছেন রোনালদো। সে সঙ্গে পেয়েছেন প্রায় ভুলে যাওয়া এক স্বাদ। ক্যারিয়ারে ফ্রি কিক থেকে পঞ্চাশের বেশি গোল করলেও এর সর্বশেষটি ছিল ২০২০ সালে। জুভেন্টাসের জার্সিতে তুরিনোর বিপক্ষে ৪ জুলাইয়ের ম্যাচের পর থেকেই ফ্রি কিক থেকে গোল করার পর স্বাদ আর পাচ্ছিলেন না রোনালদো। সে স্বাদ ফেরাতে এ ম্যাচকেই যে রোনালদো বেছে নেবেন, এতে অবশ্য বিস্মিত হননি কেউ।

রোনালদো মানেই যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে জ্বলে ওঠা!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন