এমবাপ্পেকে পাওয়ার সুযোগ হেলায় হারিয়েছে বার্সেলোনা।
এমবাপ্পেকে পাওয়ার সুযোগ হেলায় হারিয়েছে বার্সেলোনা। ছবি: এএফপি

দৃশ্যটা চিন্তা করলেও প্রতিপক্ষের বুকে ভয় ধরে যাবে। রাইট উইং থেকে থ্রু দিচ্ছেন মেসি। আর মাঠের অন্য প্রান্তে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের হতভম্ব করে একঝটকায় সবাইকে পেছনে ফেলে দিচ্ছেন এক ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড। বলটা টেনে নিয়ে বক্সে ঢুকতেই ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষককে পরাস্ত করেই ছুটছেন গোল উদ্‌যাপন করতে। গোলদাতা আর কেউ নন, কিলিয়ান এমবাপ্পে। বার্সেলোনার জার্সিতে ম্যাচের পর ম্যাচ এভাবেই ত্রাস ছড়াচ্ছেন মেসি-এমবাপ্পে জুটি।

কল্পিত দৃশ্য, সেটি বলে দিতে হয় না। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে ভুল না করলে এটা সত্য হতেও পারত। ২০১৭ সালে নেইমারের বিকল্প হিসেবে ওসমানে দেম্বেলেকে নিয়ে এসেছিল বার্সেলোনা। ফ্রেঞ্চ উইঙ্গারকে দলে আনতে এককালীন ১০ কোটি ৫০ লাখ ইউরো খরচ করেছিল বার্সেলোনা। সে সঙ্গে শর্ত সাপেক্ষে আরও ৪ কোটি ইউরো দিতে হতো বার্সেলোনাকে। অথচ এর চেয়ে অনেক কম খরচেই এমবাপ্পেকে পেতে পারত বার্সেলোনা। এমবাপ্পেকে মাত্র ১০ কোটি ইউরোতেও ছাড়তে রাজি ছিল মোনাকো!

বিজ্ঞাপন
default-image

২০১৬-১৭ মৌসুমে ইউরোপের ফুটবলে ঝড় তোলেন এমবাপ্পে। মোনাকোর জার্সিতে ১৭ বছর বয়সীর দুর্দান্ত ফুটবল দেখে অনেকেরই নজর পড়ে তাঁর ওপর। মৌসুম শেষ হতেই তাঁর দিকে হাত বাড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু এত কম বয়সে রিয়ালে গিয়ে বেঞ্চে বসে থাকার ইচ্ছা হয়নি এমবাপ্পের। নিয়মিত খেলা নিশ্চিত করতে নেইমারের সঙ্গী হয়েছেন পিএসজিতে। এরপর যত দলবদলের মৌসুম এসেছে, প্রতিবারই মাত্র ১৯ বছরে ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ডকে রিয়ালে নেওয়ার গুঞ্জন তুলেছে সংবাদমাধ্যম। এখন পর্যন্ত তা বাস্তব না হলেও এমবাপ্পের গায়ে বার্সেলোনার জার্সি ওঠা বাস্তবে রূপ পেয়ে গিয়েছিল প্রায়।

এমবাপ্পেকে বার্সেলোনা পেলেও পেতে পারত, এমন একটি খবর এর আগেও শোনা গিয়েছিল। তবে এবার সে তথ্যটা সত্য বলে স্বীকার করেছে বার্সেলোনাই। সে সময়টায় ক্লাবের পরিচালক ছিলেন হাভিয়ের বোর্দাস। কাতালান সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভোর কাছে অনেক বড় এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সাবেক পরিচালক। সেখানে মেসির দলবদলের চেষ্টা, সাবেক সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউর বিদায়ের ধরন ও গত কয়েক বছরে দলবদলের বাজারে বার্সেলোনার পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলেছেন বোর্দাস। সেখানেই এমবাপ্পের দলবদলের প্রসঙ্গে বোর্দাস বলেছেন, ‘আমরা যখন দেম্বেলেকে নিচ্ছিলাম, তখন এজেন্ট জোসেপ মারিয়া মিনগিয়েয়া আমাকে ফোন করে জানাল, এমবাপ্পেও হাতের নাগালে। আমি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউর সঙ্গে কথা বললাম। সভাপতি আমাকে তার ব্যাপারে খোঁজ নিতে বললেন।’

ক্লাব সভাপতির সম্মতির পরও বার্সেলোনায় যাওয়া হয়নি এমবাপ্পের। শুধু বার্তোমেউ নন, ওদিক থেকে মোনাকোও চাইছিল বার্সেলোনার কাছে এমবাপ্পেকে বিক্রি করতে। এমনকি খেলোয়াড়ের পরিবারও এ দলবদলে রাজি ছিল। কিন্তু ক্লাবের টেকনিক্যাল সেক্রেটারি রবার্ত ফার্নান্দেজের অনিচ্ছায় সে দলবদল আর আলোর মুখ দেখেনি, ‘আমি এমবাপ্পের বাবাকে ফোন করলাম। তিনি জানালেন, তাঁরা আপাতত রিয়াল মাদ্রিদে যাচ্ছেন না। কারণ, সেখানে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, করিম বেনজেমা ও গ্যারেথ বেল আছে। বরং যেহেতু নেইমার চলে গেছে, এখন সে বার্সায় যেতেই পারে। মোনাকোর সভাপতিও সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী পিএসজির চেয়ে এমবাপ্পেকে বার্সেলোনার কাছে বিক্রি করতে বেশি আগ্রহী ছিল। আর এ দলবদল ১০ কোটি ইউরোতেই করা সম্ভব ছিল।’

কিন্তু এমবাপ্পের চেয়ে বার্সেলোনার জন্য দেম্বেলেকেই উপযুক্ত মনে হয়েছিল বার্সেলোনার দলবদলে মূল ভূমিকা রাখা দুজনের। বোর্দাসের ভাষায়, ‘রবার্তের দেম্বেলেকেই বেশি পছন্দ হয় এবং পেপ সেগুরাও (বার্সেলোনার ফুটবল ব্যবস্থাপক) তাঁকে সমর্থন দেন। তখন বলা হয়েছিল, এমবাপ্পে নিজের জন্য খেলে আর দেম্বেলে দলের জন্য। আর যেহেতু নেইমার চলে গেছে, রবার্ত একজন গোলদাতার চেয়ে উইঙ্গারকেই বেশি পছন্দ করছিলেন।’

বিজ্ঞাপন
default-image

প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ ইউরো বেশি দিয়ে কেনা দেম্বেলে বার্সেলোনায় ক্যারিয়ারের প্রথম দিকটা চোটের সঙ্গে লড়াই করেই কাটিয়েছেন। মাঝেমধ্যে ঝলক দেখালেও যে কারণে তাঁকে কেনা হয়েছিল, সে প্রত্যাশা আর পূরণ করা হয়নি তাঁর। ৩ বছরে মাত্র ৮২ ম্যাচ খেলেছেন। তাতে গোল করেছেন ২২টি। সে সঙ্গে ১৭টি গোলে সতীর্থকে সহায়তা করেছেন।

ওদিকে প্রায় ১৮ কোটি ইউরোতে পিএসজিতে যোগ দেওয়া এমবাপ্পে এ সময়ে ১৩২ ম্যাচ খেলেছেন। তাতে ৯৭ গোল করেছেন। শুধু গোলই করেননি এই ফরোয়ার্ড, ‘নিজের জন্য খেলে’ও সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৫৮ গোল।

মন্তব্য পড়ুন 0